843) (Story _56) RJ Chowdhury in Puran (old) Dhaka. (পুরাণ ঢাকায় আরজে চৌধুরী।) _ Written by Junayed Ashrafur Rahman
843) (Story _56) RJ Chowdhury in Puran (old) Dhaka. (পুরাণ ঢাকায় আরজে চৌধুরী।) _ Written by Junayed Ashrafur Rahman https://mywritingsjunayedmn1.blogspot.com/2019/12/about-me-junayed-ashrafur-rahman.html ✒
"পুরাণ ঢাকার যে ক্রাইম লিডার আরজে চৌধুরীকে মুম্বাই পাঠিয়েছিলো, ওর সাম্রাজ্য ধ্বংস করলো আরজে চৌধুরী।"
🌟 The video of how to translate my writings into your language.(আমার লেখাগুলো যেভাবে আপনার ভাষায় অনুবাদ করে পড়বেন,সেটার ভিডিও।) https://youtube.com/shorts/cB4L80u1IIc?si=jJV-G14OIP_qQeLA 🌟https://www.facebook.com/share/v/1GuWS35Joi/
কদানন্দ খান্ডেকে পরাজিত করে (https://mystoriesjunayedmn1.blogspot.com/2026/09/842-story-55-mumbai-terrorist-written.html মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসী।) আরজে চৌধুরী চলে এলো পুরাণ ঢাকায়। সেই দিনই সে সাক্ষাৎ করলো বনকুরের বাবার সাথে।
বনকুরের বাবাকে আরজে চৌধুরী জিজ্ঞেস করলো,"এটা সত্য যে, আপনার মাধ্যমে আমার দশ লাখ টাকা ইনকাম হয়েছে। কিন্তু আপনি তো আমাকে প্রাণনাশের দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। সেই তুলনায় দশ লাখ টাকা কিছুইনা।"
বনকুরের বাবা মনকুর বললেন,"এখন কি আপনি আরো টাকার লোভে এসেছেন? আর প্রাণনাশের দিকে ঠেলে দেওয়া বলতে আপনি কী বুঝাতে চাচ্ছেন?"
আরজে চৌধুরী বললো,"টাকার লোভে আমি আসিনি। বরং আপনি কেনো আমার সাথে এরকম করলেন? সেটা আমি জানতে এসেছি। আর প্রাণনাশ বলতে আমি বুঝাতে চাচ্ছি, একথা বলে আমাকে আপনি মুম্বাই পাঠিয়েছিলেন যে, মুম্বাইয়ে বেড়াতে গিয়ে আপনার ছেলে হারিয়ে গিয়েছে। আমাকে যে পুরুষ (ব্যক্তির/লোকের) ষড়যন্ত্র করে মুম্বাইয়ে নিয়েছে, তাকে আমি টারমিনেট করে এসেছি। কিন্তু আমাকে আপনি কোন কারণে সেই প্রাণনাশের দিকে ঠেলে দিলেন?"
মনকুর বললেন,"এই সংবাদ টেলিভিশনে আমি দেখেছি, মুম্বাইয়ের বড় সন্ত্রাসী কদানন্দ খান্ডে পুলিশের হাতে গ্ৰেফতার হয়েছে। আমার দ্বারা আপনাকে যে পুরুষ মুম্বাইয়ে পাঠিয়েছে, ওর পরিচয় জানতে চাওয়া আপনার জন্য বিপদ হতে পারে। এরচেয়ে বরং ভালোয় ভালোয় আপনি চলে যান।"
আরজে চৌধুরী বললো,"হ্যাঁ, ভালোয় ভালোয় তো আমি চলে যাবোই, এর আগে ভালোয় ভালোয় আপনি বলে ফেলুন, যেটা আমি জানতে চেয়েছি।"
মনকুর বললেন,"আপনি কি মনে করেছেন যে, এটা জেনে আপনি বিরাট কিছু করে ফেলবেন?"
আরজে চৌধুরী বললো,"তাতো অবশ্যই। আমি কখন কোথায় আছি, সেটা আপনি জানতে চেয়েছেন এবং কদানন্দ খান্ডেকে বলে দিয়েছেন। এটা অপরাধের সহযোগিতা ছাড়া কিছুইনা।"
এবার মনকুর বললেন,"এটাও আপনি বুঝে ফেলেছিলেন?"
আরজে চৌধুরী বললো,"অবশ্যই, যখনই আপনাকে আমি আপডেট জানিয়েছি, তখনই আমার উপর হামলা হয়েছে। তাই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, আপনিই কদানন্দ খান্ডেকে আমার অবস্থান জানিয়ে দিচ্ছিলেন।"
মনকুর বললেন,"আমি কখনই সরাসরি কদানন্দ খান্ডেকে আপনার আপডেট জানাইনি। আমি অন্যজনকে জানিয়েছি।"
আরজে চৌধুরী বললো,"কে সেই পুরুষ? কাকে আমার আপডেট আপনি জানাতেন?"
মনকুর বললেন,"আমার মাধ্যমে আপনাকে যে পুরুষ মুম্বাইয়ে পাঠিয়েছে, তাকেই আমি জানিয়েছি আপনার আপডেট।"
আরজে চৌধুরী বললো,"তাহলে আপনি বলুন, কে সেই পুরুষ?"
মনকুর বললেন,"ওর কথা আপনি জেনে ফেললে আপনার অস্তিত্ব থাকবেনা।"
আরজে চৌধুরী বললো,"মুম্বাইয়ে আমি থাকাবস্থায় আপনি ইনডাইরেক্টলি কদানন্দ খান্ডেকে সহযোগিতা করেছিলেন। আবার এখন আরেক ক্রিমিনালের পক্ষে আপনি কথা বলতেছেন। আমাকে আপনি বলতে বাধ্য ওই পুরুষের পরিচয়।"
মনকুর বললেন,"যদি ওই পুরুষের পরিচয় আপনাকে আমি না দিই, তাহলে আমাকে আপনি কী করতে পারবেন?"
আরজে চৌধুরী বললো,"আপনাকে আমি বাধ্য করবো ওই পুরুষের পরিচয় দেওয়ার জন্য।"
মনকুর বললেন,"পুরাণ ঢাকার একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমি। আমাকে আপনি শক্তি প্রয়োগ করলে আপনাকে আমি পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেবো।"
আরজে চৌধুরী বললো,"আমাকে আপনি প্রাণনাশের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। আমার বিরুদ্ধে অপরাধীলেরকে সহযোগিতা করেছেন। আমি চাইলে বরং আপনাকেই পুলিশে ধরিয়ে দিতে পারি। আপনার দ্বারা আমার দশ লাখ টাকা ইনকাম হয়েছে, পুরাণ ঢাকার একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আপনি, আপনার একটা মানসম্মান আছে, তাই আপনাকে আমি পুলিশে সোপর্দ করতেছিনা।"
মনকুর তখন আমতা আমতা করে বললেন,"আমি মূলত আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলা থেকে প্রোটেক্ট করার জন্যই আপনাকে মুম্বাইয়ে পাঠিয়েছি। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার ছেলেকে ওই পুরুষ পাঠিয়েছিলো কারাগারে, তাই আমার ছেলেকে মুক্ত করার জন্যই আমি এমন করেছি।"
আরজে চৌধুরী বললো,"আপনার ক্ষতি করেছে ওই পুরুষ, আপনার দ্বারা অপরাধের সহযোগিতা করিয়েছে। তাই আমাকে আপনি বলুন কে সেই অপরাধী?"
মনকুর বললেন,"ওই অপরাধীর পরিচয় প্রদান করলে আমার চেয়ে আপনার ক্ষতি হবে বেশি।"
আরজে চৌধুরী বললো,"কেন?"
মনকুর বললেন,"ওই অপরাধীর একটা গ্যাং আছে। আপনি তো একা। আপনি কীভাবে তাদের বিরুদ্ধে পারবেন? ওদের কাছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, আপনার কাছে কী আছে?"
আরজে চৌধুরী এবার একটু মুচকি হাসলো। মনকুরকে আরজে চৌধুরী বললো,"আপনার সাথে আমার পার্সোনাল কথা বলতে হবে, যেই স্থানে অন্যকেউ থাকবেনা। আপনি পারবেননা কোনো ভয়। আপনার কোনো ক্ষতি করবোনা আমি।"
এরপর আরজে চৌধুরীকে নিয়ে মনকুর চলে গেলেন আড়ালে। আরজে চৌধুরী গ্লক নাইনটিন পিস্তলটা বের করলো এবং মনকুরকে বললো,"এটা হচ্ছে গ্লক নাইনটিন পিস্তল। এটাকে একে ফোরটি সেভেন (AK-47) রাইফেলের ক্ষুদে সংস্করণও বলতে পারেন আপনি। তাছাড়া পুরানা পল্টন এলাকায় আমার লিগেল বন্দুকের দোকান আছে। আমি চাইলে আমার বৈধ অস্ত্র এবং আমার লোকজনের দ্বারা বাংলাদেশের যে কোনো গ্যাং এবং গ্যাং লিডারকে টারমিনেট করতে পারি।"
মনকুর হতবাক হয়ে বললেন,"ওরে বাবা, আপনিও কি একজন গ্যাং লিডার? আপনারও কি একটা পার্সোনাল গ্যাং আছে?"
আরজে চৌধুরী বললো,"না, আমি কোনো গ্যাং লিডার নই। আমি একজন এলএলবি, প্রাইভেট ডিটেকটিভ ও ব্যবসায়ী। আমার লোকজনে আমার ব্যবসা তদারকি করে আর আমি প্রাইভেট ডিটেকটিভ হিসেবে কাজ করি। আপনি নির্ভয়ে ওই অপরাধীর পরিচয় দিতে পারেন। ওই অপরাধী থেকে আপনাকে আমি প্রোটেক্ট করবো।"
একথা শোনে মনকুর আশ্বস্ত হলেন। এরপর ওই অপরাধীর পরিচয় দিলেন।
ওই অপরাধীর নাম রেসিও। ওর পিতামহের বাড়ি নোয়াখালীতে। ছোটবেলায় ওর বাবার সাথে সে চলে আসে পুরাণ ঢাকার বাবুবাজারে। কিশোরে বয়সে রেসিও মানুষের পকেট কেটে টাকা চুরি করতো। পথচারীদেরকে রেসিও চাকুর ভয় প্রদর্শন করে হাতঘড়ি, মোবাইল ফোন, টাকা, স্বর্ণের আংটি প্রভৃতি ছিনতাই করতো। এভাবে সে অনেক টাকা রোজগার করেছিলো। এরপর সদরঘাটের লঞ্চের টিকেটের ব্ল্যাক মার্কেটিং শুরু করে রেসিও। লঞ্চের টিকেট কিনে নিজের কাছে রাখতো রেসিও। এরপর যখন যাত্রীরা টিকেট পেতোনা, তখন রেসিও তিনগুণ অথবা চারগুণ বেশি দামে যাত্রীদের কাছে টিকেট বিক্রি করতো। এভাবে সে আরো টাকা রোজগার করেছিলো। এরপর সে অবৈধ টাকার দ্বারা বুড়িগঙ্গা নদীর পুরাণ ঢাকা এলাকার কয়েকটা ঘাট ইজারা নিয়েছিলো। এরপর শুরু হয় ওর নিউ লাইফ। সে হয়ে গেলো পুরাণ ঢাকার একজন ইজারাদার। এর পাশাপাশি সে শুরু করলো অবৈধ বিয়ারের চোরাকারবার। পুরাণ ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বিয়ারের চোরাচালান করতে লাগলো। এমনকি ওর ঘাটের শ্রমিকদেরকে সে আদেশ করলো,"আমার ঘাটে কাজ করতে হলে প্রতিদিন অন্তত এক বোতল বিয়ার খাইতেই হবে। তা নাহলে আমার ঘাটে কাজ করতে দেবোনা।" এরপর বাধ্য হয়েই শ্রমিকরা ওর চোরাচালান করা অবৈধ বিয়ার খাওয়া শুরু করেছিলো। বর্তমানে রেসিও পুরাণ ঢাকার টপ লেভেলের ক্রাইম লিডার।
আরজে চৌধুরী বললো,"আপনি কি আমাকে রেসিওর ইতিহাস বললেন, না কি কোনো চোরের সর্দারের কাহিনি বললেন?"
মনকুর বললেন,"আমি তো রেসিওর প্রসঙ্গে এগুলোই জানি।"
আরজে চৌধুরী বললো,"আমি শুনলাম রেসিওর প্রসঙ্গে আপনার বর্ণনা। কিন্তু সে যেভাবেই ক্রাইম লিডার হয়ে থাকুক, তাকে আমি টারমিনেট করবোই। রেসিওর ঠিকানাটা আমাকে আপনি দেন।"
মনকুর বললেন,"রেসিওর সুনির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা আমি জানিনা। সে একেক সময় একেক স্থানে থাকে।"
আরজে চৌধুরী বললো,"আচ্ছা, আপনি যে নাম্বারে তাকে ফোন করতেন, সেই নাম্বারটা আমাকে আপনি দেন।"
রেসিওর মোবাইল নাম্বারটা আরজে চৌধুরীকে মনকুর দিলেন। এরপর মনকুরের কাছ থেকে চলে এলো আরজে চৌধুরী।
রেসিওর নাম্বারটা ট্র্যাক করে আরজে চৌধুরী চলে এলো সদরঘাটে। বুড়িগঙ্গা নদীর ওই পারে কেরাণীগঞ্জ। আরজে চৌধুরী একটা ছোটো ট্রলার ভাড়া করে চলে এলো কেরাণীগঞ্জে। অনেকগুলো খাবার হোটেল আর বাকরখানির দোকান পেরিয়ে সে চলে এলো একটা ওয়ার্ক শপে। এই স্থানে লোহালক্করের কাজ করতেছে অনেক লোক। এর ভেতরে প্রবেশ করে আরজে চৌধুরী ফোন করলো সেই নাম্বারে। ফোন বেজে উঠলো এবং রিসিভ করলেন একজন মধ্যবয়সী পুরুষ ফোন রিসিভ করলেন। রিসিভ করার পর পুরুষটা বললেন,"হ্যালো, কাকে চাচ্ছেন?"
আরজে চৌধুরী বললো,"রেসিও?"
পুরুষটা বললেন,"কে আপনি?"
আরজে চৌধুরী বললো,"আমি আপনার ওয়ার্ক শপেই আছি।"
পুরুষটা কান থেকে মোবাইল নামিয়ে আরজে চৌধুরীও ফোনের লাইন কেটে পকেটে রাখলো।
পুরুষটা আরজে চৌধুরীর কাছে এসে বললেন,"আমি রেসিও নই। আমার নাম কটুল মিয়া।"
আরজে চৌধুরী বললো,"আচ্ছা, আপনি কি পুরাণ ঢাকার ইজারাদার রেসিওকে জানেন?"
কটুল মিয়া বললেন,"না, এই নামের কোনো পুরুষকে আমি জানিনা।"
আরজে চৌধুরী বললো,"কিন্তু আমাকে তো বলা হয়েছে, এই নাম্বারটা রেসিওর।"
কটুল মিয়া বললেন,"তাহলে যে আপনাকে বলেছে, এটা রেসিওর নাম্বার, তাকে বলেন, এটা কটুল মিয়ার নাম্বার।"
আরজে চৌধুরী বললো,"আমি দেখতেছি, কী ঘটেছে? কিন্তু আপনারা কেউই পালাবেননা। আমার কাছে পিস্তল আছে।যদি পালানোর চেষ্টা করেন, তাহলে আপনাদেরকে আমি গুলি করবো।"
কটুল মিয়া বললেন,"আমরা পালাবোনা। আমরা নই চোর, ডাকাত অথবা সন্ত্রাসী।"
আরজে চৌধুরী বললো,"আপনারা আপনাদের কাজ করতে থাকুন। আপনাদের অফিসে বসে আমি কিছু কাজ করবো।"
কটুল মিয়া বললেন,"হ্যাঁ স্যার, আপনি আপনার কাজ করুন, আমাদের কোনো আপত্তি নাই।"
এরপর আরজে চৌধুরী অনলাইনের মাধ্যমে জানতে পারলো, কটুল মিয়ার নাম্বার ক্লোন করেছিলো রেসিও। এরপর মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসী সন্ত্রাসী কদানন্দ খান্ডের সাথে যোগাযোগ করেছে রেসিও।
এরপর আরজে চৌধুরী চলে এলো বাবুবাজার ব্রিজের নিচে। কেননা, আরজে চৌধুরী স্থানীয় এক পুরুষের কাছ থেকে জানতে পেরেছে যে, বাবুবাজার ব্রিজের নিচে রেসিওর লোকজন নিয়মিত অবস্থান করে, তাদের অপরাধের সহযোগিতা করার জন্য।
ব্রিজের নিচে অনেক মেয়েমানুষ সেজেগুজে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের একজনের কাছে আরজে চৌধুরী গিয়ে বললো,"এই স্থানে কারা রেসিওর লোক, সেটা কি তুমি জানো?"
মেয়েমানুষটা তখন বিরক্ত হয়ে বললো,"আপনি কি আমার সাথে কাজ করবেন? যদি কাজ করেন, তাহলে চলেন আবাসিক হোটেলে যাই, প্রতি কাজে তিনশ' টাকা দেবেন। আর যদি কাজ না করেন, তাহলে এই স্থান থেকে সরে দাঁড়ান।"
আরজে চৌধুরী বললো,"এতো রাগ করছো কেন? এতো রাগ করলে কি এই লাইনে শাইন করতে পারবে? আচ্ছা, তোমাকে আমি তিনশ' টাকা দেবো, কিন্তু তোমার সাথে কোনো কাজ করবোনা। বরং তিনশ' টাকার বিনিময়ে আমাকে তুমি দেখিয়ে দেবে রেসিওর অন্তত একজন পুরুষকে।"
মেয়েমানুষটা বললো,"এই কাজ অনেক বিপজ্জনক। যদি ওরা জানতে পারে যে, তাহলে আমাকে হত্যাও করতে পারে।" এরপর একটা তরুণকে দেখিয়ে মেয়েটা বললো,"ওই তরুণটা হচ্ছে রেসিওর পুরুষ। ওর নাম আমি জানিনা, কিন্তু তাকে গোপনে পোঁচ মাস্টার উপনামে অনেকেই জানে।"
এই তথ্য পেয়ে মেয়েমানুষটাকে আরজে চৌধুরী তিনশ' টাকা দিলো। এরপর পোঁচ মাস্টারের কাছে গিয়ে আরজে চৌধুরী বললো,"কী খবর পোঁচ মাস্টার? দিনকাল কেমন চলতেছে?"
পোঁচ মাস্টার বললো,"আমার দিনকাল তো ভালোই চলতেছে। আমার নাম কনছন////, তবে গোপনে আমাকে পোঁচ মাস্টার উপনামে সম্বোধন করা হয়।তোমাকে তো আমি চিনতে পারিনি।"
আরজে চৌধুরী বললো,"আমাকে তুমি চেনার কথা না। আমি এই পুরাণ ঢাকায় এসেছি একজন লোকের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য।"
কনছন বললো,"তাহলে তুমি যাও ওর কাছে, গিয়ে সাক্ষাৎ করো।আমাকে তুমি বলতেছো কেন?আমি পোঁচ মাস্টারি করি। পোঁচ মাস্টার হচ্ছে চাকু দ্বারা পোঁচ দিয়ে ছিনতাইকারীদের সর্দার। আমার সাথে তুমি বেশি কথা বলিওনা। তুমি বেশি কথা বললে, এখন তোমাকেই পোঁচ দিয়ে দেবো।"
আরজে চৌধুরী বললো,"না, এরকম করার তো কোনো দরকার নাই। আমি শুধু একজন লোকের সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই, তুমি ওর ঠিকানাটা আমাকে দেবে। বিনিময়ে তোমাকে আমি টাকা দেবো।"
কনছন বললো,"ওও আচ্ছা, তাহলে এই কথা। তুমি বলো, কার সাথে তুমি সাক্ষাৎ করতে চাও?"
আরজে চৌধুরী বললো,"আমি রেসিওর সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই।"
একথা শোনে কনছন কিছুক্ষণ আরজে চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে রইলো। এরপর কনছন বললো,"আমার সাথে তুমি আসো, রেসিও বসের সাথে তোমার সাক্ষাৎ আমি করিয়ে দেবো।"
একথা শোনে কনছনের পিছু পিছু যেতে লাগলো আরজে চৌধুরী। বেশ কিছুক্ষণ হাঁটার পরে কনছন চলে এলো বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে। এই স্থানে লাইটার জাহাজ, ট্রলার ও অন্যান্য জলযান মেরামত করা হয়। কিছুটা দূরে কারিগররা কাজ করতেছে। কিন্তু এই স্থানটা একেবারেই নীরব।
আরজে চৌধুরী বললো,"কোথায় রেসিও?"
কনছন বললো,"রেসিও বসের সাথে তুমি সাক্ষাৎ করতে এসেছো? তোমাকে আমি সাক্ষাৎ করাচ্ছি।"
একথা বলে কনছন হিপ পকেট থেকে ভাঁজ করা চাকু বের করলো। চাকুর ভাঁজ খুলে আরজে চৌধুরীর দিকে তেড়ে এলো কনছন। এটা দেখে আরজে চৌধুরী গ্লক নাইনটিন পিস্তলটা বের করলো এবং কনছনের দিকে তাক করলো। এটা দেখে কনছন থমকে দাঁড়ালো এবং আরজে চৌধুরী তখনই কনছনের কনুইয়ে একটা লাথি মারলো। চাকুটা ছিঁটকে গিয়ে পতিত হলো নদীর পানিতে। কনছনের দিকে পিস্তল তাক করে আরজে চৌধুরী বললো,"আমি চাইলে তোকে এখন গুলি করে হত্যা করতে পারি। যদি প্রাণে বাঁচতে চাস, তাহলে এখনি বল্ , তোর বস রেসিও কোথায় আছে?"
কনছন বললো,"রেসিও বস এখন কোথায় আছে, সেটা আমি জানিনা। কিন্তু একটা স্থানে সে নিয়মিত আসে, সেই স্থানটার নাম আমি জানি।"
আরজে চৌধুরী বললো,"সেই স্থানটার নাম কী?"
কনছন বললো,"সেই স্থানটার নাম আমি বললে আপনি কি আমাকে ছেড়ে দেবেন?"
আরজে চৌধুরী বললো,"হ্যাঁ, তোকে আমি ছেড়ে দেবো।"
কনছন বললো,"ওই স্থানটার নাম হচ্ছে কৈলাম ঘাট। ওই ঘাটে সে নিয়মিত আসে। আজ রাত দশটার পরে সেই স্থানে সে আসবে।"
একথা শোনে কনছনকে আরজে চৌধুরী ছেড়ে দিলো। আর অমনি কনছন দৌড়ে পালালো।
সন্ধ্যা হতে আরো আধাঘন্টা বাকি। তাই আরজে চৌধুরী চলে এলো চকবাজার জামে মসজিদে। এরপর মাগরিবের নামাজ আদায় করলো, আবার চলে এলো বাবুবাজার ব্রিজের নিচে। সেই স্থানে সে গরুর মাংসসহ ভূনা খিচুড়ি খাইলো। এরপর চলে এলো বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে। একটা স্পিডবোট ভাড়া করলো। আরজে চৌধুরীকে নিয়ে স্পিডবোটের ড্রাইভার স্পিডবোট চালালো কৈলাম ঘাটের দিকে।
কৈলাম ঘাটে এসে আরজে চৌধুরী খুঁজতে লাগলো রেসিওকে। অবশেষে রাত এগারোটায় রেসিওকে পেলো আরজে চৌধুরী।
রেসিওকে আরজে চৌধুরী বললো,"আপনি আমাকে মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসীর হাতে ধরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছেন। এখন আমি এসেছি আপনার অপরাধের সাম্রাজ্য ধ্বংস করার জন্য।"
রেসিও বললো,"আমার নাম রেসিও, পুরাণ ঢাকায় আমার বালির ঘাট আছে, ব্যবসা বাণিজ্য আছে এবং আমার নিজস্ব একটা বাহিনী আছে এগুলো সত্য। কিন্তু আমি কখনই আপনাকে মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসীর হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করিনি।"
আরজে চৌধুরী বললো,"কিন্তু আপনার নাম ইউজ করে আমাকে একজন পুরুষ মুম্বাইয়ে পাঠিয়েছিলো, সেই স্থানে আমার উপর হামলা হয়েছিলো।"
রেসিও বললো,"রেসিও নামধারী চারজন পুরুষ এই পুরাণ ঢাকাতে আছে। হয়তো অন্য তিনজনের মধ্যে কেউ একজন হবে।"
আরজৈ চৌধুরী বললো,"ওও আচ্ছা, তাহলে এই হলো মূল কথা। অন্য তিনজন কে কোথায় থাকে? সেটা কি আপনি আমাকে বলতে পারবেন?"
রেসিও বললো,"না, আমি কখনো তাদের প্রসঙ্গে কোনো খোঁজখবর নিইনা।"
আরজে চৌধুরী বললো,"আচ্ছা, সেই রেসিওকে আমিই খুঁজে বের করবো। এবং টারমিনেট করবো।"
রেসিও বললো,"আমিও তো পুরাণ ঢাকায় গুন্ডামি করি। তাহলে আমাকেও কি আপনি টারমিনেট করবেন?"
আরজে চৌধুরী বললো," কে কীভাবে পুরাণ ঢাকায় জীবিকা নির্বাহ করে, সেটা আমার কোনো বিষয়না। কিন্তু আমাকে যে মুম্বাইয়ে পাঠিয়ে বিপদগ্রস্ত করেছিলো, তাকে আমি টারমিনেট করবোই।"
রেসিও বললো,"ওই রেসিওর মতো আরো অনেক অপরাধী পুরাণ ঢাকাতে আছে। তাদেরকেও তো আপনি টারমিনেট করতে পারেন এবং আপনি নিজেই পুরাণ ঢাকাতে একটা সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে পারেন।"
আরজে চৌধুরী বললো,"এটা হচ্ছে মানব সমাজ, এই সমাজে যেরকম ভালো কাজ হবে, তেমনি মন্দ কাজও হবে। পুরো সমাজকে ভালো করা প্রায় অসম্ভব, আবার সমাজ থেকে সকল অপরাধ পুরোপুরি অপসারণ করাও প্রায় অসম্ভব।পুরাণ ঢাকার কোনো ক্রাইম লিডারকে টারমিনেট করে নিজে সেই পজিশন নেয়া অথবা অন্যকাউকে সেই পজিশনে বসিয়ে দেওয়া আমার কোনো উদ্দেশ্য না।"
রেসিও বললো,"আপনি চাইলেই পুরাণ ঢাকার সকলের লিডার হতে পারেন। তখন পুরাণ ঢাকার সকলেই আপনার হুকুমে চলবে।"
আরজে চৌধুরী বললো,"পুরান ঢাকা কার হুকুমে চলে, সেটা আমার কোনো বিষয়না, বরং পুরাণ ঢাকার যে রেসিও আমার ক্ষতি করেছে, তার সাম্রাজ্য আমি ধ্বংস করবো।আপনি কি বলতে পারবেন, আমার বিরুদ্ধে কোন রেসিও ষড়যন্ত্র করেছিলো?"
রেসিও বললো,"আমি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারবোনা, আপনার বিরুদ্ধে কোন রেসিও ষড়যন্ত্র করেছিলো।"
এরপর আরজে চৌধুরী চলে এলো স্পিড বোটের কাছে। এসে দেখলো একজন যুবক দাঁড়িয়ে আছে স্পিড বোটের পাশে। তাকে দেখিয়ে স্পিড বোটের ড্রাইভার বললো,"স্যার, এই যুবক আমার কাছ থেকে স্পিড বোটের চাবি নিয়ে নিয়েছে। বলতেছে,'তোর প্যাসেঞ্জারের সাথে আমার জরুরি কথা আছে।'"
আরজে চৌধুরী বললো,"কে আপনি? আমার সাথে আপনার কী কথা আছে?"
যুবক বললো,"আমাকে আপনি তুমি করে সম্বোধন করেন। আপনি আর আমি সমবয়সী। আমি আসুদ শানা, সিক্রেট সার্ভিসের একজন এজেন্ট আমি। দেশের সরকারের কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা নিয়ে আমি কাজ করি।আমার একটা এজেন্সি আছে, নাম,'শানা এজেন্সি'। ওই এজেন্সির মাধ্যমে গোপন মিশনে দেশে-বিদেশে আমি ঘুরে বেড়াই।"
আরজে চৌধুরী বললো,"আমিও তো সেরকম কাজই করি, কিন্তু তোমার ও আমার কর্মপদ্ধতি আলাদা। তবে আপাতত আমার সাথে তোমার জরুরি কোনো আলাপ থাকার কথা না। আমি একটা মিশনে পুরাণ ঢাকায় এসেছি। সেটা আমার ব্যক্তিগত মিশন।"
আসুদ শানা বললো,"সেটার জন্যই আমি এসেছি তোমার সাথে জরুরি কথা বলার জন্য।"
আরজে চৌধুরী বললো,"তুমি কী বলবে বলো। আমার অনেক কাজ আছে।"
আসুদ শানা বললো,"আরজে চৌধুরী,পুরাণ ঢাকা থেকে তুমি চলে যাও। এই পুরাণ ঢাকায় তোমার কোনো কাজ নাই।"
আরজে চৌধুরী বললো,"এটা কি মামা বাড়ির আবদার না কি? তুমি বলবা, তখনি আমি চলে যাইব?"
আসুদ শানা বললো,"আমাকে একজন ক্লায়েন্ট টাকা দিয়েছে আর বলেছে, তোমাকে পুরাণ ঢাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য।"
আরজে চৌধুরী বললো,"তুমি তো দেখতেছি ভাড়াটে গুন্ডার মতো কথা বলতেছো।"
আসুদ শানা বললো,"হ্যাঁ, সেটা তো ঠিকই। আমি টাকা পেয়েছি, তাই তোমাকে পুরাণ ঢাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার মিশনে নেমেছি।"
আরজে চৌধুরী বললো,"এটা তো একেবারেই অন্যায় কাজ করতেছো। দেশের সরকারের কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা নিয়ে কাজ করো। অথচ একজন ভাড়াটে গুন্ডার মতো আমার বিরুদ্ধে লেগেছো। এটাতো পুরোপুরি অন্যায় কাজ।"
আসুদ শানা বললো,"সেটা আমিও জানি, যদিও আমি সিক্রেট সার্ভিসে কাজ করি। কিন্তু আরো টাকা কামানোর জন্য ধান্দাবাজি করি এবং মাঝে মাঝে গুন্ডার মতো কাজ করি।আজকেও ধান্দাবাজি করতে এসেছি। আজকে রেসিও নামক একজন লোক আমাকে ভাড়া করেছে তোমাকে পুরাণ ঢাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। তাই আমি আমার ওয়ালথার পিপিকে পিস্তল নিয়ে এসেছি তোমার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য।"
আরজে চৌধুরী বললো,"আমার কাছে আছে গ্লক নাইনটিন পিস্তল।"
আসুদ শানা বললো,"আচ্ছা, তোমার গ্লক নাইনটিন পিস্তল তো আমার ওয়ালথার পিপিকে পিস্তলের চেয়েও অনেক বেশি এডভান্সড।তাহলে তো তোমার বিরুদ্ধে আমি পারবোনা। আমি একটা গুলি করতে করতে তুমি অনেকগুলো গুলি আমাকে করবে। আমি পারবোনা তোমার বিরুদ্ধে।"
আরজে চৌধুরী বললো,"কে তোমাকে আমার বিরুদ্ধে লাগিয়েছে?"
আসুদ শানা বললো,"ডার্ক ওয়েব থেকে আমি এই অর্ডার পেয়েছি। এরপর আজ সন্ধ্যায় আমার অফিসের দরজার সামনে টাকার বান্ডিল পেয়েছি। টাকার বান্ডিল পেয়ে আমি এসেছি তোমার বিরুদ্ধে লাগার জন্য।"
আরজে চৌধুরী বললো,"তাহলে কি তুমি কোনোভাবেই ওই পুরুষের সন্ধান দিতে পারবেনা?"
আসুদ শানা বললো,"না।ওই পুরুষের সন্ধান আমি দিতে পারবোনা।"
আরজে চৌধুরী বললো,"তাহলে ওই রেসিওকে আমিই খুঁজে বের করবো।"
আসুদ শানা বললো,"তুমি কি সদস্য হবে আমার শানা এজেন্সির?"
আরজে চৌধুরী বললো,"না, আমি হবোনা সদস্য তোমার শানা এজেন্সির। স্বাধীনভাবে আমি প্রাইভেট ডিটেকটিভের কাজ করি।"
আসুদ সানা বললো,"আমার শানা এজেন্সির সদস্য হলে তুমি দেশ-বিদেশে ঘুরতে পারবে।"
আরজে চৌধুরী বললো,"দেশ-বিদেশে অযথাই ঘুরার তেমন শখ আমার নাই।"
আসুদ সানা বললো,"তোমাকে আমি ফ্রিতে দেশ-বিদেশে ঘুরার ব্যবস্থা করে দেবো। এবং বিভিন্ন দেশের মেয়েদের সাথে তুমি করতে পারবে রোমান্স।"
আরজে চৌধুরী বললো,"শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে তদন্ত করার জন্যই আমি দেশে-বিদেশে ঘুরি। অযথাই ঘুরা ঘুরি করার শখ আমার নাই। এবং যত্রতত্র রোমান্স করার অভ্যাসও আমার নাই।"
এমন সময় একটা মেয়ে এলো, নাম ওর জোহানা।
অবশেষে জোহানার হাতটা ধরে আসুদ শানা নিজের অফিসের দিকে চলে গেলো।
এরপর আসুদ শানা স্পিডবোটে করে চলে এলো একটা আবাসিক হোটেলে। রাতটা ওই হোটেলে অবস্থান করে পরদিন সকালে আরজে চৌধুরী চলে এলো বনকুরের বাবা মনকুরের কাছে।
আরজে চৌধুরী বললো,"আপনার ছেলের বিরুদ্ধে কে মামলা করেছিলো? সেই পুরুষের পরিচয় আমাকে আপনি দেন।"
মনকুর বললেন,"আমার তো এতো কিছু মনে নাই। আমার সিন্ধুকে রাখা ফাইল দেখতে হবে।"
একথা বলে মনকুর সিন্ধুক খুলে একটা ফাইল বের করলেন। সেটা থেকে মামলার কাগজপত্র বের করলেন মনকুর। সেটা থেকে ওই রেসিওর আসল পরিচয় ও ঠিকানা বের করলো আরজে চৌধুরী। এরপর আরজে চৌধুরী রওয়ানা হলো ওই রেসিওর খোঁজে।
রেসিওর বাড়ির সামনে গিয়ে আরজে চৌধুরী পেলো পোঁচ মাস্টার কনছনকে। তাকে ধরে আরজে চৌধুরী জিজ্ঞেস করলো,"এখন এই মুহূর্তে রেসিও কোথায় আছে?"
কনছন বললো,"না, আমি সেটা কখনই বলবো না।"
একথা শোনে কনছনকে আরজে চৌধুরী বেশ কয়েকটা কিলঘুষি দিলো। পিটুনির পরে আরজে চৌধুরীকে কনছন বলে দিলো রেসিও এই মুহূর্তে যে স্থানে আছে।
আরজে চৌধুরী রওয়ানা হলো সেই ঠিকানায়। গিয়ে রেসিওকে পেলো আরজে চৌধুরী।
রেসিওর আস্তানাটা মূলত একটা পুরানো জাহাজের ভেতরে। শিপ ব্রেকিংয়ের জন্য আনা হলেও রেসিও সেটা বেদখল করে রেখেছে। জাহাজের মালিক অনেক দিন যাবৎ চেষ্টা করতেছেন জাহাজটা ভেঙে বিক্রি করার জন্য। কিন্তু রেসিও সেটা করতে দিচ্ছেনা। বরং সেই জাহাজে সে অবৈধ মদের গোদাম তৈরি করেছে।
রেসিও এবং ওর লোকজনকে আরজে চৌধুরী জাহাজ থেকে বের করে আনলো, তাদেরকে তীরে এনে দড়ি দ্বারা বাঁধলো। এরপর পুরো জাহাজে আগুন লাগিয়ে দিলো। অবৈধ মদের বোতল আগুনের তাপে ফেটে যাচ্ছে আর মদে থাকা অ্যালকোহল দাউ দাউ করে জ্বলতেছে।
ওই আগুনের লেলিহান শিখা দেখে ছুটে এলেন জাহাজের মালিক। তিনি এসে বললেন,"ভালোই হয়েছে আমার এই পুরাতন জাহাজে আগুন লেগেছে। এখন আরামসে এই জাহাজ ভেঙে আমি বিক্রি করতে পারবো।"
এরপর পুলিশ এসে অন্যের জাহাজ বেদখল, অবৈধ মদের ব্যবসা প্রভৃতির কারণে রেসিও আর ওর লোকদেরকে গ্ৰেফতার করে নিয়ে গেলো।
এরই মধ্যে কিছু লোক এলো আরজে চৌধুরীর কাছে।
তাদেল একজন বললো,"স্যার, এখন থেকে আপনিই আমাদের বস। এই এলাকায় শুধু আপনার হুকুমেই আমরা চলবো। চাঁদাবাজি, অবৈধ মদের ব্যবসা প্রভৃতি আপনার হুকুমেই আমরা করবো এবং আপনাকেই আমরা আমাদের ইনকামের মাসোহারা দেবো।"
আরজে চৌধুরী বললো,"আমি পুরাণ ঢাকায় রাজত্ব করতে আসিনি। আমার যে উদ্দেশ্য ছিলো, সেটা সফল হয়েছে। এখন এই এলাকায় কে রাজত্ব করবে? সেটা প্রসঙ্গে আমার কোনো আগ্ৰহ নাই। আমি এখন আমার কাজে চলে যাচ্ছি। (সমাপ্ত।)
