842) (Story _55) Mumbai terrorist. (মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসী।) _ Written by Junayed Ashrafur Rahman

 842) (Story _55) Mumbai terrorist. (মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসী।) _ Written by Junayed Ashrafur Rahman https://mywritingsjunayedmn1.blogspot.com/2019/12/about-me-junayed-ashrafur-rahman.html ✒


🌟 The video of how to translate my writings into your language.(আমার লেখাগুলো যেভাবে আপনার ভাষায় অনুবাদ করে পড়বেন,সেটার ভিডিও।) https://youtube.com/shorts/cB4L80u1IIc?si=jJV-G14OIP_qQeLA 🌟https://www.facebook.com/share/v/1GuWS35Joi/


“আরজে চৌধুরী, তোমার কারণে আমি আমার পরিবারের সম্পদ ওই হীরেটা হস্তগত করতে পারলামনা, সেটা আজও সপ্তগড়ের হীরে নামে পরিচিত, তাই আমি তোমাকে ছাড়বোনা।” (https://mystoriesjunayedmn1.blogspot.com/2026/08/841-story54-written-by-junayed-ashrafur.html সপ্তগড়ের হীরে) এই কথাটা বললেন ভারতের মুম্বাইয়ের একজন বড় ব্যবসায়ী কদানন্দ খান্ডে। নিজের পার্সোনাল কক্ষে রাখা বড় মনিটরে ইউটিউবের সেই সংবাদটা দেখতে দেখতে কদানন্দ খান্ডে বললেন এই কথাগুলো। এই মুহূর্তে কদানন্দ খান্ডে দেখতেছেন সপ্তগড়ের হীরে উদ্ধারের সংবাদ। এই সংবাদে হীরে উদ্ধারের সকল কৃতিত্ব দেয়া হয়েছে আরজে চৌধুরীকে। তাই কদানন্দ খান্ডের হীরে না পাওয়ার রাগ গেলো আরজে চৌধুরীর দিকে।



কদানন্দ খান্ডে ফোন করলো বাংলাদেশের ঢাকার এক ক্রাইম লিডারকে,“আমি কদানন্দ খান্ডে। ভারতের মুম্বাই থেকে বলতেছি। আমার সহযোগিতা প্রয়োজন।”


ক্রাইম লিডার বললো,“আপনি বলুন, আপনাকে আমি কীভাবে সহযোগিতা করতে পারি?”


কদানন্দ খান্ডে বললেন,“বাংলাদেশের একজন ব্যক্তিকে মুম্বাই পাঠাতে হবে। সেটা সত্য বলেই হোক অথবা মিথ্যা বলেই হোক।”


ক্রাইম লিডার বললো,“কাকে আপনি মুম্বাই নিতে চাচ্ছেন? কেন তাকে আপনি নিতে চাইছেন?”


কদানন্দ খান্ডে বললেন,“বাংলাদেশের প্রাইভেট ডিটেকটিভ আরজে চৌধুরীকে মুম্বাই পাঠাতে হবে। আমার অনেক বড় ক্ষতি করেছে আরজে চৌধুরী।”


ক্রাইম লিডার বললো,“আপনি থাকেন মুম্বাইয়ে, আরজে চৌধুরী থাকে বাংলাদেশে। সে কীভাবে আপনার বড় ক্ষতি করলো?”


একথা শোনে কদানন্দ খান্ডে বললেন,“আমার পারিবারিক সম্পত্তি হীরেটা আরজে চৌধুরীর কারণে মুম্বাইয়ে আনতে পারলামনা।”


ক্রাইম লিডার বললো,“আমি ওই সংবাদটা দেখেছি। আমি মনে করি, তাতে আরজে চৌধুরীর কোনো অপরাধ নাই।”


কদানন্দ খান্ডে বললেন,“আপনি তো দেখছি একজন ক্রাইম লিডার হওয়া সত্ত্বেও খুবই নীতিবাক্য বলেন। আরজে চৌধুরীর পক্ষে কথা বলার কারণ কী?”


ক্রাইম লিডার বললো,“তাঁর (তিনির) পক্ষে আমি কোনো কথা বলতেছিনা। বরং সত্যটা আপনার সাথে আলোচনা করতেছি। আরজে চৌধুরী একজন এলএলবি, মার্শাল আর্টে পারদর্শী, দুই হাতে সমানতালে গ্লক নাইনটিন পিস্তল চালাতে পারেন এবং ঢাকা শহরের পুরানা পল্টন এলাকায় তাঁর একটা লাইসেন্স করা বন্দুকের দোকান আছে। এই লোকের বিরুদ্ধে লাগলে আমার কোনো অস্তিত্ব থাকবেনা। আপনি তো মুম্বাই শহরে থাকবেন, কিন্তু ঢাকা শহরে আমার সর্বনাশ হবে।”



কদানন্দ খান্ডে বললেন,“তাহলে বিষয়টা অনেক জটিল। কিন্তু আমার যে প্রতিশোধ নিতেই হবে। কোনো রকমে যদি তাকে মুম্বাই পাঠাতে পারেন, তাহলে তাকে আমি সামলে নেবো।”


ক্রাইম লিডার বললেন,"ঢাকা শহর বলেন অথবা মুম্বাই শহর বলেন, তিনি একজন শার্প সুটার, দুই হাতে সমানতালে পিস্তল চালাতে পারেন। তাঁর কাছে ঢাকা শহর অথবা মুম্বাই শহর একই কথা।"


কদানন্দ খান্ডে বললেন,“তা সত্ত্বেও আমি মুম্বাই শহরে তাকে সামলে নেবো। এটা মুম্বাই শহর, বাংলাদেশ থেকে এসে যে কেউ আমাকে এতো সহজে ঘায়েল করতে পারবেনা। তাকে আপনি বলেন, মুম্বাইতে গেলে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবে।"


ক্রাইম লিডার বললো,"রক্তের গন্ধ পেলে হাঙর যেভাবে ছুটে আসে, তেমনি কাজের বিনিময়ে টাকা পেলে আরজে চৌধুরীও ছুটে আসে।"



কদানন্দ খান্ডে বললেন,"তাহলে তো বুঝতেই পেরেছেন। তাকে আপনি মুম্বাই পাঠানোর ব্যবস্থা করুন, পরে তাকে আমি সামলে নেবো।"


এরপর ক্রাইম লিডার গেলো পুরাণ ঢাকার বাবুবাজারের এক ব্যবসায়ীর কাছে। ব্যবসায়ীকে সে বললো,"আপনার ছেলে আমার দায়ের করা একটা মামলায় গ্রেফতার হয়েছে। আমি আপনার ছেলের মামলা তুলে নেবো, কিন্তু আপনাকে একটা কাজ করতে হবে।"


ব্যবসায়ী বললেন,"আমার ছেলেকে তো আপনি অনেক হয়রান করেছেন। পাশাপাশি আমিও অনেক হয়রান হয়েছি। এখন কী করার জন্য বলতেছেন?"


ক্রাইম লিডার বললো,"একজন লোককে ফোন করে আপনি বলবেন, আপনার ছেলে মুম্বাই বেড়াতে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছে। এরপর তাকে পাঁচলাখ টাকা দেবেন।"


ব্যবসায়ী বললেন,"আমার ছেলে আছে এখন কারাগারে। আমি কেনো বলবো সে মুম্বাই বেড়াতে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছে? আর ওই লোককেই কেনো আমি পাঁচ লাখ টাকা দেবো?"


ক্রাইম লিডার বললো,"আপনি যদি পাঁচ লাখ টাকা ওই লোককে দেন, তাহলে আপনার ছেলের বিরুদ্ধে করা মামলা আমি তুলেও নেবো এবং পরবর্তীতে সে কোনো অপরাধ করলেও আমি কিছুই বলবোনা। এটা আপনাকে আমি কথা দিলাম।"


ক্রাইম লিডার বললো,"আপনি যাকে ফোন করবেন, ওর নাম আরজে চৌধুরী, প্রাইভেট ডিটেকটিভ।"



এরপর ব্যবসায়ীকে আরজে চৌধুরীর মোবাইল নাম্বার দিলো ক্রাইম লিডার। আরজে চৌধুরীকে ফোন করলেন ব্যবসায়ী এবং বললেন,"আমার ছেলে মুম্বাই বেড়াতে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছে। তাকে এনে দিতে হবে। আমি পুরাণ ঢাকার বাবুবাজারে একজন ব্যবসায়ী। আপনাকে আমি টাকা দেবো, আমার ছেলেকে এনে দেন।"


আরজে চৌধুরী বললো,"আমাকে আপনি কতো টাকা দেবেন?"


ব্যবসায়ী বললেন,"আপনাকে আমি পাঁচ লাখ টাকা দেবো।"


আরজে চৌধুরী বললো,"পাঁচ লাখ টাকায় হবেনা, আমাকে দশ লাখ টাকা দিতে হবে।"


ব্যবসায়ী বললেন,"তাহলে তো ভেলুদা অথবা মোমকেশকে হায়ার করলেই হতো।"


আরজে চৌধুরী বললো,"ভেলুদা ও মোমকেশ তাঁদের মতো গোয়েন্দাগিরি করে, আমি আমার মতো গোয়েন্দাগিরি করি।"


একথা শোনে ব্যবসায়ী বললেন,"আচ্ছা, আপনার সাথে আমি পাঁচ মিনিট পরে কথা বলতেছি।"


ক্রাইম লিডারকে ব্যবসায়ী বললেন,"সে তো আমার কাছে দশ লাখ টাকা চাচ্ছে। আপনি তো বলেছেন পাঁচ লাখ টাকা।"


ক্রাইম লিডার বললো,"আমাদের এখন অন্যকোনো উপায় নাই, সে যখন দশ লাখ টাকা চেয়েছে, তাহলে দিতেই হবে। আপনি দশ লাখ টাকা দেন, আপনাকে আমি পুষিয়ে দেবো।"


এরপর বাবুবাজারের ওই ব্যবসায়ী পে-পালে আরজে চৌধুরীকে দশ লাখ টাকা পেমেন্ট দিয়ে দিলেন।


অন্যদিকে কদানন্দ খান্ডেকে ফোন করলো ক্রাইম লিডার,"স্যার, আপনার কথা মতো আরজে চৌধুরীকে মুম্বাই পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু তাঁকে মুম্বাই পাঠানোর ব্যবস্থা করার জন্য আমার খরচ হয়েছে বিশ লাখ টাকা।"



তাই ক্রাইম লিডারকে কদানন্দ অনলাইনে বিশ লাখ টাকা পেমেন্ট দিয়ে দিলেন। এভাবেই কদানন্দ খান্ডের কাছ থেকে ক্রাইম লিডার নিয়ে নিলো বিশ লাখ টাকা।


ক্রাইম লিডার ওর বউকে বললো,"একেই বলে চালান ছাড়া ব্যবসা। তুমি লেখলে তো, কীভাবে কোনো টাকা খরচ না করেই কয়েকজন লোকের সাথে মধ্যস্থতা করে বিশ লাখ টাকা কামিয়ে নিলাম।"


ওর বউ বললো,"হ্যাঁ, তুমি চালান ছাড়া মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে পারো, তাই আমি একটা বেহিসাবী মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও আমাকে আমার বাবা বিয়ে দিয়েছেন তোমার কাছে।"


পরদিনই আরজে চৌধুরী বিমানে করে চলে এলো মুম্বাইয়ে। আরজে চৌধুরীকে ওই ব্যবসায়ী বলেছেন, তাঁর ছেলে মুম্বাই শহরের হোটেল পুনেতে উঠেছে। তাই আরজে চৌধুরীও হোটেল পুনেতে একটা কক্ষ ভাড়া করলো। সেদিনই ব্যবসায়ীকে আরজে চৌধুরী বললো,"আমিও হোটেল পুনেতে উঠেছি। এই হোটেলে অবস্থান করেই আপনার ছেলেকে আমি খোঁজবো।"


সেদিন রাতেই হামলা হলো হোটেল পুনেতে। কিন্তু কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।


পরদিন সকালে হোটেলের ম্যানেজারকে আরজে চৌধুরী জিজ্ঞেস করলো,"হোয়াটস দ্য ম্যাটার? হোটেলে হামলা হয়েছে, আপনারা কী করেন?"


হোটেলের ম্যানেজার বললেন,"স্যার, আমাদের হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো।অতীতে ত্রিশ বছর আগে মুম্বাইয়ে হামলা হয়েছিলো, এরপর থেকে মুম্বাইয়ের নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে আমাদের হোটেল পুনেতে হামলার কারণে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে আমরা মামলা দায়ের করেছি। হামলাকারীদেরকে ধরার জন্য ব্যাপক অভিযান চালানো শুরু হয়েছে।"


আরজে চৌধুরী গেলো খাবারের হোটেলে, অর্ডার দিলো মাটনের পায়া আর নান রুটির। হোটেলের বড় মনিটরের সংবাদে বলা হচ্ছে,"আজ মুম্বাইয়ের হোটেল পুনেতে হামলা হয়েছে। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে, একটা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ থেকে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী এসেছে মুম্বাই শহরে, হয়তো এই হামলা সেই সন্ত্রাসীর দ্বারাই হয়েছে।"


নাস্তা করার পর হোটেল পুনেতে চলে এলো আরজে চৌধুরী। তাকে দেখে হোটেলের ম্যানেজার বললেন,"আপনি কি সংবাদ শোনেছেন? বাংলাদেশ থেকে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী এসেছে মুম্বাইয়ে। এই হামলা ওরই দ্বারা হয়েছে, এরকম সন্দেহ করা হচ্ছে। আচ্ছা, আপনিও তো বাংলাদেশ থেকে এসেছেন।"


আরজে চৌধুরী বললো,"হ্যাঁ, আমিও বাংলাদেশ থেকে এসেছি, আপনাদের হোটেলের আমি কাস্টমার। আমি রুম ভাড়া নিয়েছি। আপনাদের হোটেলে আমি থাকা অবস্থায় হামলা হয়েছে। সেই বাংলাদেশীকে কি আপনি দেখেছেন?"


ম্যানেজার বললেন,"না, আমি কখনো সেই বাংলাদেশীকে দেখিনি। কিন্তু স্যার, আপনি সাবধানে থাকবেন।"


আরজে চৌধুরী বললো,"সাবধানে তো আমি অবশ্যই থাকবো। কিন্তু আপনি আপনাদের হোটেল পুনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকমতো বজায় রাখবেন, যাতে যেকেউ ভেতরে এসে হামলা করতে না পারে।"


বিকাল বেলা আরজে চৌধুরী তদন্ত করতে বের হলো। সে একটা তথ্য সংগ্রহ করলো, ট্যুরিস্ট বাংলাদেশীদের অনেকেই মুম্বাইয়ের পাহাড়ী এলাকায় বেড়াতে যায়। তাই আরজে চৌধুরীও গেলো পাহাড়ী এলাকায় ওই ছেলেকে খুঁজে বের করার জন্য। পাহাড়ে গিয়ে সে অনেক বাংলাদেশীর দেখা পেলো। কিন্তু ওই ব্যবসায়ীর ছেলে বনকুরের সাক্ষাৎ পেলোনা। বনকুরের সাক্ষাৎ না পেয়ে সে পাহাড়ী এলাকা থেকে নেমে এলো নিচে। এমন সময় ওই ব্যবসায়ীর ফোন এলো,"আমার ছেলে বনকুরের সন্ধান আপনি কি এখনো পাইনি?"


আরজে চৌধুরী বললো,"না, আমি এখনো বনকুরের সন্ধান পাইনি। তবে তাকে আমি খুঁজতেছি।"


ব্যবসায়ী বললেন,"আপনি এখন কোথায় আছেন?"

আরজে চৌধুরী তখন হোয়াটসঅ্যাপে ওর লোকেশন দিলো।


এরপর আরজে চৌধুরী চলে এলো পানিপুরির দোকানে। পানিপুরি আর চটপটির অর্ডার দিয়ে সে বসলো একটা টেবিলে। এমন সময় তিনজন লোক এলো। একজন তরুণ, একজন মাঝবয়সী ও আরেকজন প্রবীণ।


মাঝবয়সী লোকটা বললো,"আরে, তোমাকে খুব চেনা চেনা লাগছে, তুমি তো আরজে চৌধুরী, তাই না? তুমি মুম্বাইয়ে কী করতে এসেছো।"


আরজে চৌধুরী বললো,"আমি মুম্বাইয়ে তদন্ত করতে এসেছি। ভেলুদা, তুমি মুম্বাইয়ে কী করো?"


ভেলুদা বললো,"আমরাও এসেছি একটা তদন্ত করার জন্য।"


ভেলুদার সাথে থাকা গপেস বললো,"তুমি যদি বাংলাদেশ থেকে মুম্বাই আগমন করতে পারো, তাহলে আমরা কলকাতা থেকে আগমন করতে পারবোনা কেনো?"


ভেলুদা বললো,"মূলত কলকাতার হারবালের এক ডাক্তার মুম্বাই এসেছিলো হারবাল বিক্রি করার জন্য। এখন তাঁর কোনো হদিস নাই। তাই তাঁকে আমরা উদ্ধার করতে এসেছি।"


গপেস বললো,"আমরা মুম্বাই এসেছি, অমনি তুমিও আমাদের পিছু পিছু চলে এসেছো। ভেলুদা গোয়েন্দাগিরি করে আর আমি সেটার গল্প লিখি শিশু কিশোরদের জন্য। এখন তো দেখছি ভেলুদার অভিযান নিয়ে তুমিও গল্প লেখা শুরু করবে।"


আরজে চৌধুরী বললো,"গপেস, তুমি কথা মাত্রাতিরিক্ত বলো। তুমি বেশি বেশি ছেলেমানুষী করো, কিন্তু আমার মধ্যে ছেলেমানুষী নাই। আমি যে সকল তদন্ত করি, সেগুলো সিরিয়াস মামলা। আর মুম্বাইয়ে তোমরাই তদন্ত করতে পারবে, অন্যকেউ তদন্ত করতে পারবেনা _ এরকম কোনো বিধিনিষেধ তো নাই। আর আমি হোটেল পুনেতে রুম ভাড়া করেছি। আন্তর্জাতিক আইন মেনে আমি মুম্বাইয়ে এসেছি এবং হোটেল পুনেতে আমি থাকতেছি।"


সাথে থাকা চটায়ু জোকারের মতো অভিনয় করে বললেন,"আরে ছোট ভাইয়েরা, তোমরা ঝগড়া করতেছো কেনো? তোমরা মিলেমিশে কাজ করো।"


আরজে চৌধুরী বললো,"আপনাদের সাথে আমার কোনো ঝগড়া নাই, আবার আপনাদের সাথে আমি মিলেমিশেও কাজ করবোনা। আমার তদন্ত আমিই করবো। দল বেঁধে ছেলেমানুষী করে তদন্ত করার মতো প্রাইভেট ডিটেকটিভ আমি নই।" একথা বলে আরজে চৌধুরী পানিপুরি আর চটপটির দাম পরিশোধ করে নিজের পথে চলতে লাগলো।


এমন সময় একটা গাড়ি আরজে চৌধুরীর পাশ দিয়ে সাঁ করে চলে গেলো আর অমনি আরজে চৌধুরী একটা লাফ দিয়ে সরে গেলো। তা নাহলে গাড়িটা তাঁকে গুরুতর আহত করতো। আরজে চৌধুরী দেখলো গাড়ির উইন্ডোজের মাধ্যমে একটা পিস্তল ধরা হাত বেরিয়ে এসেছে। সেটা দেখামাত্র আরজে চৌধুরী নিজের গ্লক নাইনটিন পিস্তলটা বের করে একটা গুলি করলো। গুলিটা গিয়ে লাগলো ওই হাতে, আর পিস্তলটা ছিঁটকে পতিত হলো ওই হাত থেকে। গাড়ির ভেতর থেকে একটা লোক মারাঠি ভাষায় চেঁচিয়ে উঠে বললো,"আরজে চৌধুরী, তোকে আমি আবার হামলা করবো।" এরপর গাড়িটা পাহাড়ের আড়ালে চলে গেলো।


ততক্ষণে ভেলুদা আর গপেস ছুটে এলো আরজে চৌধুরীর কাছে। ভেলুদা বললো,"আরে আরজে চৌধুরী, তোমার হাতের নিশানা তো খুবই নিখুঁত। তুমি কি সাথে পিস্তল রাখো?"



আরজে চৌধুরী বললো,"আমি একজন পেশাদার প্রাইভেট ডিটেকটিভ। ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় আমার বন্দুকের দোকান আছে, অস্ত্র বহন করার জন্য আমার ইন্টারন্যাশনাল লাইসেন্স আছে। তো আমি সাথে পিস্তল রাখবো না তো কি ললিপপ রাখবো? আমার পিস্তলের নাম গ্লক নাইনটিন।"


ভেলুদা বললো,"আমিও সাথে রিভলবার রাখি। কিন্তু তোমার গ্লক নাইনটিন পিস্তলের তুলনায় আমার মান্ধাতার আমলের রিভলবারটা ললিপপের মতোই।"


ততক্ষণে চটায়ুও চলে এসেছেন আরজে চৌধুরীর কাছে। আরজে চৌধুরীকে তিনি বললেন,"এই ভাইয়া, কী জানি শোনলাম ললিপপের কথা। তুমি কি সাথে ললিপপ নিয়ে এসেছো? তুমি কি ললিপপ খাও? তাহলে আমাদেরকেও দাও, আমরাও খাবো।"


আরজে চৌধুরী বললো,"না, আমি সাথে করে ললিপপ আনিনি, আমি সাথে করে পিস্তল এনেছি।"


গপেস বললো,"চটায়ু কাকু, আমি এখন ললিপপ খাইনা, আমি এখন বিড়ি (সস্তা সিগারেট) খাই।"


চটায়ুকে ভেলুদা বললো,"এ হচ্ছে আরজে চৌধুরী। আপনার উপন্যাসের নায়ক প্রবল রুদ্রের মতো না, বরং আরো পাওয়ারফুল আরজে চৌধুরী।"


চটায়ু বললেন,"ভেলুদা, আপনি ঠিকই বলেছেন। আমার উপন্যাসের নায়ক প্রবল রুদ্রকে আমি তৈরি করেছি মূলত শিশুদেরকে বিনোদন দেওয়া জন্য।"


এরপর আরজে চৌধুরী চলে গেলো নিজের তদন্তের কাজে।


আরজে চৌধুরী চলে এলো হোটেল পুনেতে, এরপরই হোটেলে প্রবেশ করলো মুম্বাই পুলিশের কয়েকজন সদস্য। আরজে চৌধুরীকে পুলিশ অফিসার জিজ্ঞেস করলেন,"আপনি কিছুক্ষণ আগে পাহাড়ে গোলাগুলি করেছেন, আপনি বাংলাদেশ থেকে মুম্বাইয়ে পিস্তল নিয়ে এসেছেন। সেই  অপরাধে আপনাকে আমি গ্ৰেফতার করতে এসেছি।"


আরজে চৌধুরী বললো,"আমার কাছে ইন্টারন্যাশনাল লাইসেন্স আছে অস্ত্র বহন করার জন্য।"


অফিসার বললেন,"তাহলে আপনি আপনার ইন্টারন্যাশনাল লাইসেন্স দেখান।"


একথা শোনে আরজে চৌধুরী ওর গ্লক নাইনটিন পিস্তলটা পুলিশ অফিসারের হাতে দিলো।


পুলিশ অফিসার সেটা হাতে নিয়ে বললেন,"আপনার কাছে আমি ইন্টারন্যাশনাল লাইসেন্স ছেয়েছি, লাইসেন্সটাও দেখান।"


আরজে চৌধুরী মুচকি হেসে বললো,"আমার ইন্টারন্যাশনাল লাইসেন্স পিস্তলের মধ্যেই আছে।"


পুলিশ অফিসার বললেন,"আমাদের সাথে রসিকতা করবেন না, আমরা মুম্বাই পুলিশ।"


আরজে চৌধুরী বললো,"রসিকতা আমি করতেছিনা, আমার পিস্তলের ট্রিগারের পিছনে একটা কিউআর কোড (qr code) আছে, সেটা স্ক্যান করুন, আমার লাইসেন্স পাবেন।"


এরপর পুলিশ অফিসার সাথে থাকা মোবাইলের মাধ্যমে কিউআর কোড (qr code) স্ক্যান করলেন। আর অমনি ইন্টারন্যাশনাল লাইসেন্সের সফট কপি পেলেন পুলিশ অফিসার। আর সেটা প্রদর্শন করা হয়েছে সরাসরি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। বিষয়টা দেখে পুলিশ অফিসার পিস্তলটা ফিরিয়ে দিলেন আরজে চৌধুরীকে। এবং বললেন,"আপনি খুব ভালো কাজ করেছেন, আপনার লাইসেন্সটার কিউআর কোড (qr code) তৈরি করেছেন এবং পিস্তলে প্রিন্ট করে রেখেছেন। মূলত আমাদেরকে কলকাতা থেকে শখের গোয়েন্দা ভেলুদা তথ্য দিয়েছেন যে, আপনার কাছে পিস্তল আছে, অবৈধ পিস্তল নিয়ে আপনি বাংলাদেশ থেকে মুম্বাই এসেছেন।"


আরজে চৌধুরী বললো,"আমি তো ভেলুদাকে বলেছি যে, অস্ত্র বহন করার জন্য আমার ইন্টারন্যাশনাল লাইসেন্স আছে। অথচ ভেলুদাই আপনাদেরকে আমার বিরুদ্ধে লাগিয়ে দিলো।"


পুলিশ অফিসার বললেন,"আপনি না কি মিথ্যা কথা বলেছেন যে, আপনার কাছে অস্ত্রের ইন্টারন্যাশনাল লাইসেন্স আছে। তাই তো আমরা আপনার কাছে লাইসেন্স দেখতে চেয়েছি।"


আরজে চৌধুরী বললো,"আলাপ করার সময় ভেলুদাকে আমি বলেছিলাম, হোটেল পুনেতে আমি রুম ভাড়া নিয়েছি। এরপরেই আমার বিরুদ্ধে আপনাদেরকে ভেলুদা লাগিয়ে দিলো।"


পুলিশ অফিসার বললেন,"আপনিও ডিটেকটিভ এবং ভেলুদাও ডিটেকটিভ। তাহলে আপনাদের মধ্যে সমস্যা কোথায়?"


আরজে চৌধুরী বললো,"ভেলুদার সাথে‌ আমার কোনো সহযোগিতাও নাই এবং শত্রুতাও নাই। তবে, আমি টাকা ছড়া কোনো তদন্ত করিনা আর ভেলুদা নিজের শখের বশেই গোয়েন্দাগিরি করে।"


পুলিশ অফিসার হাসতে হাসতে বললেন,"আর ভেলুদার সাথে একজন লোক আছেন, বালমোহন ডাঙ্গুলি, তিনি বলেছেন,আপনি না কি একজন বেরসিক লোক।"


আরজে চৌধুরীও হাসতে হাসতে বললো,"তাঁর নাম বালমোহন ডাঙ্গুলি না, বরং তাঁর নাম ডালমোহন বাঙ্গুলি। হ্যাঁ, আমি তো কিছুটা বেরসিক মানুষই, টাকা ছাড়া কোনো তদন্ত করিনা, তদন্ত করতে গিয়ে মাত্রাতিরিক্ত নাটকীয়তা করিনা। এ সকল দিক দিয়ে আমি কিছুটা বেরসিকই।"


পুলিশ চলে যাওয়ার পরে বনকুরের বাবাকে আরজে চৌধুরী  ফোন করলো,"আচ্ছা, আপনার ছেলে কখনো কি বলেছিলো মুম্বাইয়ে কার সাথে সে থাকে?"


বনকুরের বাবা বললেন,"আমাকে বনকুর এ প্রসঙ্গে কিছুই বলেনি। সে মুম্বাইতে যাওয়ার কয়েকদিন পরেই নিখোঁজ হয়েছে। আচ্ছা, আপনি এখন কোথায় আছেন?"


আরজে চৌধুরী বললো,"আমি এখন হোটেল পুনেতে আছি। আপনার ছেলেকে আমি উদ্ধার করবোই। আমার উপর হামলা হয়েছে, তাই এটা এখন আমার কাছে ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।"


বনকুরের বাবা বললেন,"শোনে ভালোই লাগলো, তাতে আমার মনে হচ্ছে,তদন্তটা খুব ভালোভাবেই হবে।" এরপর আরজে চৌধুরী ফোনের লাইন কেটে দিলো।


কিছুক্ষণ পর আরজে চৌধুরী ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ালো। বাইরের রাস্তা দিয়ে পথচারীরা হেঁটে চলেছে। এমন সময় হোটেল বয় দরজায় এসে টোকা মেরে বললো,"স্যার, একজন লোক এসেছে, আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চায়।"

আরজে চৌধুরী দরজা খুলে বললো,"আমার সাথে তো সাক্ষাৎ করার মতো কেউই নাই। আচ্ছা, তা সত্ত্বেও তাঁকে আমার রুমে পাঠিয়ে দাও।"


এর কিছুক্ষণ পরে একজন লোক এলো, তাঁকে দেখে আরজে চৌধুরী চিনতে পারলো।এই লোকই সংবাদ পাঠ করে বলেছিলো, 'বাংলাদেশ থেকে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী এসেছে।' কিন্তু সে কিছুই বললো না। লোকটাকে ভেতরে আসার জন্য বললো আরজে চৌধুরী। লোকটা বললো,"আপনি তো আরজে চৌধুরী, আপনার সাথে আমার জরুরী কথা আছে।" একথা বলে লোকটা পকেট থেকে একটা বড় চাকু বের করলো এবং আরজে চৌধুরীকে আঘাত করলো। কিন্তু আরজে চৌধুরী সরে গিয়ে লোকটার চাকু ধরা হাতে  একটা লাথি মারলো। লাথির কারণে চাকুটা ছিঁটকে গিয়ে লাগলো দেয়ালে এবং পতিত হলো দেয়ালের পাশেই। এরপর লোকটার উরুতে আরজে চৌধুরী মারলো এক প্রচন্ড লাথি। লাথির কারণে লোকটার মাথা সামনের দিকে চলে এলো, তখনই লোকটার থুতনিতে আরজে চৌধুরী মারলো একটা ঘুসি। সেই ঘুসির কারণে লোকটা উল্টে পতিত হলো পিছনে এবং অজ্ঞান হলো।"


এরপর অজ্ঞান লোকটাকে আরজে চৌধুরী দড়ি দ্বারা বাঁধলো চেয়ারের সাথে। লোকটার জ্ঞান ফিরলে তাকে গ্লাসে ঢেলে কোকাকোলা পান করতে (খাইতে) দিলো আরজে চৌধুরী। লোকটার ডানহাত কনুইয়ের উপরে বাঁধলেও কনুইয়ের নিচে বাঁধেনি। তাই লোকটা কোকাকোলা পান করে বললো,"ভাই, মারধরের পর কোকাকোলা পান করে (খেয়ে) আমার মনে হচ্ছে, কোকাকোলা খাইনি, যেন অমৃত খেয়েছি।"


আরজে চৌধুরীও বোতল ঢেলে কোকাকোলা  ঢেলে পান করলো। এরপর লোকটাকে বললো,"আপনি অতিথি হিসেবে আমার কাছে এসেছেন, আপনি চাইলে আপনাকে হুইস্কি অথবা ব্র্যান্ডি মদ হোটেল বয়ের দ্বারা আনিয়ে খাওয়াতাম। কিন্তু আমাকে আপনি চাকুর দ্বারা এ্যাটাক করেছেন, এই কারণেই আপনাকে আমি পিটিয়েছি।"


লোকটা বললো,"পিটুনি খাওয়ার পরে কোকাকোলা খেয়েছি বলেই অমৃতের মতো লেগেছে।"


আরজে চৌধুরী বললো,"তো আমাকে আপনি এ্যাটাক করেছেন কেন?"


লোকটা বললো,"আমার নাম গরপ রাও। আমি টেলিভিশনে সংবাদ পাঠ করি। কিন্তু পার্টটাইম ভাড়াটে গুন্ডা হিসেবে কাজ করি। যখন যেরকম গুন্ডামির কাজ পাই , তখন সেই রকম গুন্ডামির কাজ করি।"


আরজে চৌধুরী বললো,"এখন আপনি কোন লোকের ভাড়াট গুন্ডা হিসেবে কাজ করতেছেন?"


গরপ রাও বললো,"আমি এখন কদানন্দ খান্ডের পক্ষে কাজ করতেছি। রিসেন্টলি আমাকে বলা হয়েছে, টেলিভিশনে যেন আমি প্রচার করি, বাংলাদেশ থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী এসেছে মুম্বাইয়ে। এরপর আজ আমাকে বলা হয়েছে, আপনাকে এ্যাটাক করার জন্য।"


আরজে চৌধুরী বললো,"এখন আপনাকে আমি ছেড়ে দেবো, যদি কদানন্দ খান্ডের অপরাধের আস্তানার ঠিকানাটা যদি আমাকে দেন। আপনার কাছে আমি চাচ্ছিনা কদানন্দ খান্ডের বাড়ির ঠিকানা।"


এরপর কদানন্দের অপরাধের আস্তানার ঠিকানাটা আরজে চৌধুরীকে দিলো গরপ রাও।


গরপ রাওকে আরজে চৌধুরী বললো,"এখন আপনাকে আমি মুক্ত করে দিচ্ছি। আপনি আপনার ঠিকানায় চলে যান।" একথা বলে গরপ রাওকে আরজে চৌধুরী মুক্ত করে দিলো। কিন্তু লোকটা বেরিয়ে যাওয়ার পরেই গুলির আওয়াজ শোনতে পেলো আরজে চৌধুরী। হোটেলের ব্যালকনিতে এসে সে দেখলো কে বা কারা ওই লোকটাকে গুলি করে হত্যা করেছে। উপস্থিত লোকজন যেদিকে পারলো হৈচৈ করে পালিয়ে গেলো। এর কিছুক্ষণ পরেই পুলিশ এলো, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলো কয়েকজনকে ডেকে পুলিশে জিজ্ঞাসাবাদ করলো।

একজন বললো,"লোকটা খুন হওয়ার আগে হোটেল পুনে থেকে বের হয়েছিলো।"


তাই পুলিশ এসে হোটেল পুনের ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করলো,"খুন হওয়া লোকটা আপনার হোটেলে কেন এসেছিলো?"


ম্যানেজার বললেন,"আমার হোটেলের এক কাস্টমারের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য এসেছিলো।"


পুলিশ এসে এবার আরজে চৌধুরীকে বললো,"আপনার সাথে খুন হওয়া লোকটা কেন সাক্ষাৎ করতে এসে ছিলো?"


আরজে চৌধুরী বললো,"সে এসে আমাকে ওর পরিচয় দিয়েছে, সে একজন সংবাদ পাঠক। আমি একজন প্রাইভেট ডিটেকটিভ, বাংলাদেশ থেকে এসেছি একটা তদন্ত করার জন্য। তাই সে এই প্রসঙ্গে একটা সংবাদ পাঠ করতে চায় টেলিভিশনে। এরপরে সে চলে যায়, এর কিছুক্ষণ পরেই আমি শোনতে পাই গুলির আওয়াজ।"


পুলিশ বললো,"আমাকে আপনার পিস্তলটা দেন। আমি চেক করে দেখতে চাই আপনিই গুলি করে তাকে হত্যা করেছেন কি না?"


এরপর আরজে চৌধুরী পিস্তলটা দিলো পুলিশকে। পুলিশ পিস্তলের মাজলটা (নল) নাকের কছে নিয়ে চেক করে বললো,"এই তো আপনার পিস্তল থেকে গান পাউডারের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে তো বলতেই হয় যে, আপনিই তাকে গুলি করে হত্যা করেছেন।"


আরজে চৌধুরী বললো,"আজকে আমি পাহাড়ের পাদদেশে একটা গুলি করেছিলাম। সেটা আত্মরক্ষার জন্য।"


পুলিশ বললো,"সেটা আমরা জানি। কিন্তু আপনিই যে এখনের খুনট করেননি, এর প্রমাণ কী?"


আরজে চৌধুরী বললো,"আপনি পুলিশ, নিশ্চয়ই বুঝেন যে সবেমাত্র গুলি করা পিস্তলের গান পাউডারের গন্ধ তরতাজা হয়। কিন্তু আমার পিস্তলের গান পাউডারের গন্ধ কমে এসেছে, তরতাজা না। তাছাড়া আমার গ্লক নাইনটিন পিস্তলের ম্যাগাজিনের মধ্যে বুলেট ছিলো সতেরোটা, এখন আছে ষোলোটা বুলেট।"


পুলিশ তখন আরজে চৌধুরীর গ্লক নাইনটিন পিস্তলের ম্যাগাজিন খুলে দেখলো ষোলোটা বুলেটই আছে। পুলিশ বললো,"আপনার কথা সত্য। ওই লোকটাকে আপনি গুলি করে মারেননি।" এরপর আরজে চৌধুরীকে গ্লক নাইনটিন পিস্তলটা দিয়ে পুলিশ চলে গেলো।


কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করলেন বনকুরের বাবা,"আরজে চৌধুরী, আপনি এখন কোথায় আছেন?"


আরজে চৌধুরী বললো,"অবস্থা জটিল হয়েছে, তাই আপনাকে আমি লোকেশন দেবোনা। প্রয়োজনে আমিই ফোন করবো আপনাকে।"


ইচ্ছা করেই বনকুরের বাবাকে আপডেট দেওয়া বন্ধ করে দিলো আরজে চৌধুরী। কেননা, যখনই বনকুরের বাবাকে আরজে চৌধুরী আপডেট দেয়, সে কখন কোথায় আছে, এরপরই হামলা হচ্ছে আরজে চৌধুরীর উপর। মূলত আরজে চৌধুরী আপডেট জানায় বনকুরের বাবাকে, বনকুরের বাবা জানায় ক্রাইম লিডারকে আর ক্রাইম লিডার জানায় কদানন্দ খান্ডেকে। অবশেষে কদানন্দ খান্ডে নিজের লোকের দ্বারা আরজে চৌধুরীর উপর হামলা করায়। এটা বুঝতে পেরেই বনকুরের বাবাকে আরজে চৌধুরী আপডেট দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।


সন্ধ্যার পর আরজে চৌধুরী বের হলো কদানন্দ খান্ডের আস্তানার উদ্দেশে। আস্তানার সামনে গিয়ে দেখলো কোনো প্রহরী নাই‌। গেইট পেরিয়ে সে চলে এলো ভেতরে। সে দেখলো একটা বড় ঘরের দরজা খোলা আছে। আরজে চৌধুরী সেই ঘরে প্রবেশ করতেই একজন লোক বললেন,"আরজে চৌধুরী, ভেতরে চলে আসুন। আমার লোক খুন হয়েছে জেনেই বুঝতে পেরেছি যে, আপনি জেনে নিয়েছেন আমার আস্তানার ঠিকানা। আপনি যে সন্ধ্যার পরে আসবেন, সেটা আমি নিশ্চিত হয়েছি। তাই আপনার জন্য আমি আমার আস্তানায় অপেক্ষা করতেছি। আমি ইচ্ছা করেই আজ গেইটে কোনো প্রহরী রাখিনি।"



আরজে চৌধুরী দেখলো ভেতরে চারজন লোক চারটা চেয়ারে দড়ি দ্বারা বাঁধা অবস্থায় আছে। ভেলুদা, গপেস, চটায়ু এবং অপরিচিত একজন লোক। আরজে চৌধুরীকে ভেলুদা বললো,"ইনি হলেন কলকাতার হারবালের ডাক্তার। ইনিকে উদ্ধার করার জন্যই আমরা কলকাতা থেকে মুম্বাইয়ে এসেছি।"


আরজে চৌধুরী বললো,"তাহলে বনকুর কোথায়? আমি তো এসেছি বনকুরকে উদ্ধার করার জন্য।"


কদানন্দ খান্ডে বললেন,"কীসের বনকুর? বনকুর কিছুইনা। বনকুর এখন পুরাণ ঢাকাতেই আছে। মূলত আপনাকে ধরার জন্যই আমি বনকুরের নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়েছি। এর জন্য আমার খরচ হয়েছে দশ লাখ রুপি (ভারতীয় টাকা)।"


আরজে চৌধুরী বললো,"আপনার কি কোনো ক্ষতি আমি করেছি? আমাকে ধরার জন্য কী দরকার ছিলো আপনার দশ লাখ রুপি খরচ করার এবং নাটক সাজাবার? কলকাতার হারবালের ডাক্তাকে আপনি বন্দি করেছেন কেন?"


কদানন্দ খান্ডে বললেন,"আমার পারিবারিক সম্পদ হীরেটা (সপ্তগড়ের হীরে) আমি চুরি করিয়েছিলাম। কিন্তু আপনার করণে সেটা আমি মুম্বাইয়ে আনতে পারিনি। এখন এই মুহূর্তে হীরেটা আমার হাতেই থাকতো, আর আপনি থাকতেন আপনার বাড়িতে। আমার হীরেটা আপনি উদ্ধার করার কারণেই আপনাকে আমি বন্দি করে নিয়েছি। আর কলকাতার হারবাল ডাক্তারকে আমি বন্দি করেছি ওর হারবালের রিএ্যাকশানের কারণে। সে ইউটিউবে বিজ্ঞাপন দিয়েছে, ওর হারবাল খাইলে বুড়া মানুষও জোয়ান (ইয়ং) মানুষের মতো শক্তিশালী হবে। তাই আমি তাকে ডেকে এনেছিলাম আমাকে চিকিৎসা জোয়ান মানুষের মতো শক্তিশালী করার জন্য। সে এসে আমাকে হারবাল দিয়েছে। কিন্তু ওর হারবাল খেয়ে আমি জোয়ান মানুষের মতো শক্তিশালী হওয়া তো দূরের কথা, আমার চেয়ে বেশি বুড়া মানুষের মতো দূর্বল হয়েছি। তাই তাকে আমি বন্দি করেছি।"


আরজে চৌধুরী বললো,"তাহলে ভেলুদা, গপেস আর চটায়ুকে আপনি বন্দি করলেন কীভাবে?"


কদানন্দ খান্ডে বললেন,"আজ বিকেলে পাহাড়ে গোলাগুলির সময় আপনার সাথে ওরা ছিলো, তাই আপনি চলে গেলে আমার লোকেরা তাদেরকে কিডন্যাপ করে নিয়ে এসেছে। প্রথমে আমরা মনে করেছিলাম, ওরা আপনার সহযোগী। কিন্তু ওদেরকে ধরে আনার পরে জানতে পারলাম, ওরা কলকাতা থেকে মুম্বাইয়ে এসেছে হারবালের ডাক্তারকে উদ্ধার করার জন্য। মূলত আমার একটা নেশা আছে, ইউটিউবে বিভিন্ন বিষয় দেখি এবং সেই ভিডিওকারী লোকদেরকে ডেকে এনে অপমান অপদস্থ করি। এটা আমার একটা বিরাট নেশা। ইউটিউবে হারবালের বিজ্ঞাপন দেখে কলকাতার হারবাল ডাক্তারকে আনলাম। ইউটিউবে সপ্তগড়ের হীরে দেখলাম, আমার কাছে মনে হয়েছে, সেটাই আমাদের হারিয়ে যাওয়া পারিবারিক হীরে, তাই সেটা চুরি করার ব্যবস্থা করলাম। আরো অনেক টিকটকারকে বলিউডের নায়ক_নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়েছি, আমার এই আস্তানায় ডেকে এনে অপমান, অপদস্থ ও শ্লীলতাহানি করেছি। আপনি আরজে চৌধুরী আজ আমার আস্তানায় বন্দি অবস্থায় আছেন, আপনাকে আজ আমি চরম সাজা দেবো।"


আরজে চৌধুরী বললো,"আপনি তো আমাকে এখনো বন্দি করতে পারেননি। আপনি বন্দি করতে পেরেছেন ভেলুদা, গপেস, চটায়ু আর কলকাতার হারবাল ডাক্তারকে।"


একথা শোনে রাগান্বিত হয়ে কদানন্দ খান্ডে বললেন,"এই তোরা এখন আরজে চৌধুরীকে বন্দি কর।"


একথা শোনে একটা লোক এগিয়ে এসে আরজে চৌধুরীর হাত ধরতে চেষ্টা করলো। কিন্তু আরজে চৌধুরী সেই লোকটার হাতে একটা রদ্দা মারলো। সাথে সাথে লোকটার হাত ধরে আরজে চৌধুরী একটা মোচড় দিলো। অমনি মট করে একটা আওয়াজ হলো এবং লোকটার হাত মচকে গেলো। এটা দেখে আরো লোক হাতে বিভিন্ন অস্ত্রসহ ছুটে এলো আরজে চৌধুরীর দিকে। হাত মচকে যাওয়া লোকটাকে ছেড়ে দিয়ে আরজে চৌধুরী গ্লক নাইনটিন পিস্তলটা বের করলো। গ্লক নাইনটিনকে অটোমেটিক মুডে রেখে আরজে চৌধুরী ওই লোকদের দিকে ফায়ার করলো। মুহূর্তের মধ্যে ষোলোটা বুলেট ছুটে গেলো ওদের দিকে। গুলিগুলো গিয়ে কারোর   হাঁটুতে লাগলো, করোর হাঁটুর নিচে লাগলো সকলেই আহত হলো, অস্ত্র ফেলে সকলেই গুলি লাগা স্থানে হাত চেপে চিৎকার করতে লাগলো। আরজে চৌধুরী এম্পটি ম্যাগাজিনটা পাল্টে সতেরো বুলেটের নতুন একটা ম্যাগাজিন পিস্তলে সেটিং করলো।


এমন সময় একদল পুলিশ এলো। পুলিশ অফিসার বললেন,"আরজে চৌধুরী গোলাগুলি বন্ধ করুন।"


একথা শোনে আরজে চৌধুরী লুকিয়ে রাখলো নিজের কাছে গ্লক নাইনটিন পিস্তলটা।


পুলিশ অফিসার বললেন,"সন্ধ্যা থেকেই আপনার উপর নজরদারি করার জন্য লোক রেখেছিলাম। সেই লোকই আপনাকে ফলো করে এই আস্তানা পর্যন্ত এসেছে। এবং সেই লোকই এই স্থানে আপনার আগমনের তথ্য আমাদেরকে দিয়েছে। তথ্য পেয়ে আমরা ভেবেছিলাম, কদানন্দ খান্ডের সাথে মিলে আপনি আন্তর্জাতিক অপরাধের সাথে জড়িত। মূলত কদানন্দ খান্ডে একজন অবৈধ ড্রাগ ডিলার। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের পাহাড়ি এলাকায় চাষ হওয়া পপি ফুল থেকে উৎপাদিত আফিম ও হেরোইনের ব্যবসা করে কদানন্দ‌‌ খান্ডে। এমনকি মুম্বাই থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাদক পাচার করে কদানন্দ খান্ডে। চোরাই স্বর্ণ আর হীরে জহরতও সে কেনাবেচা করে। ওর বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ আছে, সে অনেক টিকটকারকে প্রতারণা করে ডেকে এনে অপমান, অপদস্থ ও শ্লীলতাহানি করে। আমরা অনেক দিন যাবৎ চেষ্টা করতেছিলাম তাকে ধরার জন্য। কিন্তু আমরা পারতেছিলামনা তাকে ধরতে। আপনি এসে আমাদের কাজটা সমাধা করে দিলেন। মূলত কদানন্দ খান্ডে একজন মুম্বাইয়র সন্ত্রাসী, ব্যবসায়ী না।"


এরপর কদানন্দ আর ওর সকল লোককে পুলিশ ধরে নিয়ে গেলো। এদিকে আরজে চৌধুরী মুক্ত করলো ভেলুদা, গপেস, চটায়ু এবং হারবাল ডাক্তারকে দড়ির বাঁধন খুলে।


আরজে চৌধুরীকে চটায়ু বললেন,"সত্যিই অসাধারণ আপনি আরজে চৌধুরী। আমরা তিনজনে মিলে যে কাজ পারলামনা, আপনি একাই সেটা করে ফেলেছেন। মূলত আমরা ছেলেমানুষী করেই গোয়েন্দাগিরি করি এবং আমি ও গপেস গল্প লিখি শিশু ও কিশোরদের জন্য। তাই আমাদের গল্পের মধ্যে ছেলেমানুষী বেশি থাকে। কিন্তু আপনার গোয়েন্দাগিরিতে সিরিয়াস বিষয়ই প্রধান।"


ভেলুদা বললো,"তোমার কৌশলই ঠিক। টাকা ছাড়া কোনো মামলা তুমি নাওনা। আর আমি শখের বশে গোয়েন্দাগিরি করে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছি। হ্যাঁ, মাঝে মাঝে কিছু টাকা আমি পাই, কিন্তু সেটা খরচের টাকার সমান হয়না।"


গপেস বললো,"হ্যাঁ, আমি সত্যিই বেশি কথা বলি। কাজের কথার চেয়ে অকাজের কথাই আমি বেশি বলি ও লিখি।"


আরজে চৌধুরী বললো,"আমরা সকলেই প্রায় একই রকম কাজ করি, কিন্তু আমাদের কর্মকৌশল ও কাজের গুণগত মানের অনেক ব্যবধান আছে। তা সত্ত্বেও আমরা কেউ করোর শত্রু নই। পাঠক আর ক্লায়েন্টদেরকে তুষ্ট করাই আমাদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।" (সমাপ্ত।)

Popular posts from this blog

838) (Story_52) One day for the police inspector. (দারোগার একদিন।) _ Written by Junayed Ashrafur Rahman

839) (Story_53) Under the guise of fighting corruption. (দুর্নীতি দমনের আড়ালে।) _ Written by Junayed Ashrafur Rahman

583)(Story-26-19)Militant bases. (জঙ্গি ঘাঁটি।) - Written by Junayed Ashrafur Rahman ✒