854)(Story_67) পাঁচপুকুরের স্বর্ণ ডাকাতি।দ্বিতীয় পর্ব: প্রকৃত ডাকাতদের সন্ধানে। _ Written by Junayed Ashrafur Rahman

 854)(Story_67) পাঁচপুকুরের স্বর্ণ ডাকাতি।দ্বিতীয় পর্ব: প্রকৃত ডাকাতদের সন্ধানে। _ Written by Junayed Ashrafur Rahman https://mywritingsjunayedmn1.blogspot.com/2019/12/about-me-junayed-ashrafur-rahman.html ✒ 



অধ্যায় ওয়ান.

বন্ধ হয়ে যাওয়া তদন্তের নতুন সূচনা


বসিম জুয়েলার্সে ডাকাতির ঘটনার প্রায় তিন মাস পার হয়ে গেছে। আদালতের রায়ে বসিম বেকসুর খালাস পেয়েছে। কিন্তু চুরি যাওয়া বিয়াল্লিশ লাখ টাকার গয়না উদ্ধার হয়নি। প্রকৃত ডাকাতদের পরিচয়ও অজানা রয়ে গেছে।


পাঁচপুকুর নগরের কেন্দ্রীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে মামলাটি নতুন করে পর্যালোচনার প্রস্তাব পাঠানো হলো। প্রাথমিক তদন্তে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। তাই পুরোনো তদন্তের নথি পরীক্ষা করে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।


নতুন তদন্তের দায়িত্ব পেলেন বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা নৈরব সেন। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অপরাধ, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে চুরি এবং সংগঠিত অপরাধের তদন্ত করে আসছিলেন তিনি। অনুমানের ওপর নির্ভর না করে নথি ও প্রযুক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে অপরাধের ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠা করাই ছিল ওর কাজের প্রধান পদ্ধতি।


নৈরবের সঙ্গে তদন্তকারী দলে যুক্ত হলেন উপপরিদর্শক রুদ্রেশ পাল, প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ ইরাভিন দত্ত এবং আর্থিক নথি বিশ্লেষক কৌশান বর্মণ।


প্রথম বৈঠকেই নৈরব জানিয়ে দিলেন, বসিমের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগ নতুন তদন্তের ভিত্তি হবে না। আদালত যে অভিযোগের প্রমাণ পাননি, সেটিকে আবার সন্দেহের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হবে না। নতুন তদন্তের লক্ষ্য হবে প্রকৃত ডাকাতদের শনাক্ত করা।


পুরোনো মামলার সমস্ত নথি একটি বড় টেবিলে সাজানো হলো। সেখানে ছিল দোকানের মজুত খাতা, বিক্রির রসিদ, কর্মচারীদের বক্তব্য, নিরাপত্তা ক্যামেরার রেকর্ড, ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং আদালতের রায়।


নৈরব প্রথমে ঘটনার তারিখ ও সময় লিখলেন।


১৫ অক্টোবর ২০২৬।


রাত আটটা পঞ্চান্ন মিনিট থেকে নয়টা বিশ মিনিট।


তিনি বললেন, “এই সময়ের মধ্যে কী ঘটেছিল, সেটি আমাদের আবার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আগের তদন্তে যেসব তথ্য অসম্পূর্ণ ছিল, সেগুলোর উৎস খুঁজে বের করতে হবে। কোনো কর্মচারীকে শুধু পুরোনো সন্দেহের কারণে অপরাধী ধরে নেওয়া যাবে না।”


রুদ্রেশ বললেন, “স্যার, নিরাপত্তারক্ষী খরভ, হিসাবরক্ষক দ্রাভিক এবং কর্মচারী ঝারুকের বক্তব্য আমাদের কাছে আছে। তাদের আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে।”


নৈরব উত্তর দিলেন, “অবশ্যই। তবে এবার শুধু তাদের বক্তব্য শুনলেই হবে না। প্রত্যেকের বক্তব্যের সঙ্গে স্বাধীন তথ্যের মিল খুঁজতে হবে।”


এরপর বসিমকে নতুন তদন্তের বিষয়ে জানানো হলো।


বসিম পুলিশ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নৈরবের সঙ্গে দেখা করল। আগের মামলার কারণে সে মানসিক ও ব্যবসায়িকভাবে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে চুরি যাওয়া গয়না উদ্ধারের ব্যাপারে সে সহযোগিতা করতে রাজি হলো।


নৈরব বললেন, “আপনার দোকানে ডাকাতির ঘটনাটি আমরা নতুন করে পরীক্ষা করছি। আগের তদন্তে যে তথ্যগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়নি, সেগুলো নিয়ে কোনো পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত থাকবে না।”


বসিম বলল, “আমি চাই, যারা গয়না নিয়েছে তাদের শনাক্ত করা হোক। আমার কর্মচারীদের মধ্যে কেউ জড়িত থাকলে প্রমাণ দিয়ে সেটা বের করুন। আর কেউ জড়িত না থাকলে অযথা কাউকে হয়রানি করবেন না।”


নৈরব বললেন, “আমাদের কাজও সেটাই।”


বৈঠকের শেষে বসিম দোকানের পুরোনো হিসাব, নিরাপত্তাব্যবস্থার নথি এবং নতুন করে তৈরি করা মজুতের তালিকা জমা দিল।


তদন্তের প্রথম দিনেই নৈরব একটি বিষয় লক্ষ করলেন। আগের তদন্তে ডাকাতির ঘটনাস্থল নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও দোকানের বাইরে অপরাধীদের প্রস্তুতি, তাদের সম্ভাব্য যাতায়াত এবং চুরি করা গয়না সরিয়ে নেওয়ার পথ নিয়ে যথেষ্ট অনুসন্ধান হয়নি।


তিনি তদন্তের নতুন পরিকল্পনায় তিনটি বিষয় যুক্ত করলেন।


প্রথমত, ঘটনার আগে ও পরে দোকানের আশপাশে কারা অবস্থান করেছিল।


দ্বিতীয়ত, চুরি যাওয়া গয়না কোথায় সরানো হয়েছিল।


তৃতীয়ত, ডাকাতির জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা সম্পর্কে কারা আগে থেকে জানত।


এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার মধ্য দিয়েই নতুন তদন্ত শুরু হলো।


অধ্যায় টু.

ঘটনার আগের ত্রিশ দিন


নৈরব প্রথমে ১৫ অক্টোবরের আগের এক মাসের ঘটনাবলি পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলেন।


পুলিশের দল পাঁচপুকুর বাজারের দোকান, গুদাম, পরিবহন প্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের বাণিজ্যিক ভবনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করল। ডাকাতির আগে বসিম জুয়েলার্সে কোনো অস্বাভাবিক ব্যক্তি এসেছিল কি না, কেউ নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল কি না, অথবা দোকানের কর্মচারীদের সঙ্গে বাইরের কারও বিশেষ যোগাযোগ ছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হলো।


বসিম জানাল, ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দোকানে নিরাপত্তাব্যবস্থার একটি সাধারণ পরীক্ষা হয়েছিল। সেই সময় একটি বেসরকারি প্রযুক্তিসেবা প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মী দোকানে এসেছিল।


প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল নেভিটেক সিকিউরিটি সার্ভিসেস।


তাদের কাজ ছিল ক্যামেরা, অ্যালার্ম এবং প্রবেশপথের বৈদ্যুতিক নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা করা।


বসিম বলল, “তারা নিয়মিত সেবা দেওয়ার কথা বলেছিল। তবে তাদের কাজের পরিধি সম্পর্কে আমার বিস্তারিত জানা ছিল না।”


নৈরব জানতে চাইলেন, “কর্মীদের নাম মনে আছে?”


বসিম বলল, “একজনের নাম ছিল সায়রেক। অন্যজনের নাম মনে নেই। অফিসের নথিতে পাওয়া যেতে পারে।”


প্রযুক্তিসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে কর্মীদের তালিকা সংগ্রহ করা হলো। সেখানে সায়রেক নন্দ এবং ভেরাশ কুণ্ডু নামে দুই কর্মীর নাম পাওয়া গেল।


প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক জানালেন, ওই দুই কর্মী ১ অক্টোবর বসিম জুয়েলার্সে গিয়েছিল। তাদের কাজের প্রতিবেদনও জমা ছিল।


নৈরব প্রতিবেদনটি পরীক্ষা করলেন।


সেখানে ক্যামেরার অবস্থান, সংযোগের অবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং অ্যালার্মের কার্যকারিতা সম্পর্কে কয়েকটি সাধারণ মন্তব্য ছিল। কিন্তু একটি অংশে লেখা ছিল, প্রধান নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সফটওয়্যার হালনাগাদ করার প্রয়োজন রয়েছে।


নৈরব জানতে চাইলেন, সফটওয়্যার হালনাগাদ করা হয়েছিল কি না।


প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বললেন, “আমাদের নথিতে পরবর্তী কোনো কাজের উল্লেখ নেই।”


“তাহলে ওই কাজ অসম্পূর্ণ ছিল?”


“সম্ভবত। তবে সেটি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জিজ্ঞাসা করতে হবে।”


সায়রেক ও ভেরাশকে ডেকে পাঠানো হলো।


সায়রেক জানাল, সে দোকানের ক্যামেরা পরীক্ষা করেছিল। ভেরাশ মূল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পরীক্ষা করেছিল। তবে তারা কেউ কোনো সমস্যা সৃষ্টি করেনি বলে দাবি করল।


নৈরব জানতে চাইলেন, “আপনারা কি দোকানের ক্যামেরার রেকর্ড কোথায় সংরক্ষিত হয়, সেটা জানতেন?”


সায়রেক বলল, “সাধারণভাবে জানতাম। কাজের অংশ হিসেবে ওই তথ্য জানা প্রয়োজন।”


“রেকর্ডের সময় সমন্বয় করা ছিল?”


“সেটি পরীক্ষার সময় পুরোপুরি ঠিক ছিল না।”


“আপনারা কি বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন?”


সায়রেক কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, “প্রতিবেদনে সময়ের সমন্বয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল।”


নৈরব বললেন, “আপনারা কি দোকানের কর্মচারীদের কাউকে ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি দেখিয়েছিলেন?”


ভেরাশ উত্তর দিল, “দ্রাভিক কিছু প্রশাসনিক কাজ করত। ও আমাদের সঙ্গে কয়েকবার কথা বলেছিল। তবে আমরা তাকে নিরাপত্তাব্যবস্থার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দিইনি।”


এই বক্তব্য তদন্তে নতুন প্রশ্ন তৈরি করল।


তবে নৈরব এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিলেন না।


তিনি প্রযুক্তিসেবা প্রতিষ্ঠানের কাজের আদেশ, কর্মীদের উপস্থিতির রেকর্ড, যন্ত্রাংশ সরবরাহের বিল এবং সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের নথি সংগ্রহের নির্দেশ দিলেন।


একই সঙ্গে ১৫ অক্টোবরের আগের ত্রিশ দিনের মধ্যে দোকানের আশপাশে কোনো অস্বাভাবিক যানবাহন দেখা গিয়েছিল কি না, তা পরীক্ষা শুরু হলো।


তদন্তের দ্বিতীয় সপ্তাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেল।


বাজারের পাশের একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের কর্মী জানাল, ডাকাতির ঘটনার আগের কয়েক দিন সন্ধ্যার পর একটি ধূসর রঙের ছোট পণ্যবাহী গাড়ি একই সড়কে কয়েকবার অবস্থান করেছিল।


গাড়িটির নম্বর সে মনে রাখতে পারেনি। তবে পেছনের দরজায় একটি ভাঙা নীল রঙের স্টিকার ছিল বলে জানাল।


নৈরব নির্দেশ দিলেন, আশপাশের সব ক্যামেরার পুরোনো রেকর্ড আবার পরীক্ষা করতে হবে।


এবার তদন্তের নজর শুধু দোকানের ভেতরে সীমাবদ্ধ রইল না।


অধ্যায় থ্রি.

ধূসর গাড়ির সন্ধান


পাঁচপুকুর বাজারের প্রধান সড়ক থেকে কয়েকটি রাস্তা বিভিন্ন গুদাম ও পরিবহনকেন্দ্রের দিকে চলে গেছে। ঘটনার রাতে ডাকাতরা কোন পথে পালিয়েছিল, তা জানতে এসব রাস্তার ক্যামেরার রেকর্ড সংগ্রহ করা হলো।


আগের তদন্তে কিছু ফুটেজ দেখা হলেও সব রেকর্ড একই সময়ের ভিত্তিতে সাজানো হয়নি। এবার প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ ইরাভিন প্রতিটি যন্ত্রের সময়ের পার্থক্য পরীক্ষা করে নতুন সময়সূচি তৈরি করলেন।


তিনি ব্যাখ্যা করলেন, কোনো ক্যামেরায় রাত নয়টা আট মিনিট দেখা গেলেও অন্য ক্যামেরায় একই ঘটনা কয়েক মিনিট আগে বা পরে দেখা যেতে পারে। তাই সরাসরি সময় মিলিয়ে ভিডিও সাজালে ভুল সিদ্ধান্ত তৈরি হতে পারে।


সব যন্ত্রের সময়ের পার্থক্য হিসাব করে একটি সংশোধিত সময়রেখা তৈরি করা হলো।


সেখানে রাত নয়টা থেকে নয়টা ত্রিশ মিনিট পর্যন্ত কয়েকটি অস্বাভাবিক যানবাহনের চলাচল দেখা গেল।


একটি ধূসর পণ্যবাহী গাড়ি দোকানের পেছনের সড়ক দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। গাড়িটির পেছনে নীল রঙের একটি স্টিকারের অংশ দেখা যাচ্ছিল।


পরবর্তী ক্যামেরায় গাড়িটি একটি শিল্পাঞ্চলের দিকে যেতে দেখা গেল।


গাড়ির নম্বর আংশিকভাবে বোঝা যাচ্ছিল। তবে সম্পূর্ণ নম্বর শনাক্ত করার মতো পরিষ্কার ছবি পাওয়া গেল না।


ইরাভিন বললেন, “একটি ক্যামেরার ছবির ওপর নির্ভর করলে ভুল হতে পারে। পরপর কয়েকটি ক্যামেরার রেকর্ড মিলিয়ে গাড়িটির গতিপথ পরীক্ষা করতে হবে।”


পরবর্তী কয়েক দিন ধরে রাস্তার বিভিন্ন ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হলো। অবশেষে একটি ক্যামেরায় গাড়িটির নম্বরের বেশির ভাগ অংশ পরিষ্কার দেখা গেল।


নম্বরটি একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত ছিল।


প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল অরভিন লজিস্টিকস।


তদন্তকারীরা প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। মালিক জানালেন, গাড়িটি তাঁর প্রতিষ্ঠানের হলেও সেটি নিয়মিত ভাড়া দেওয়া হতো।


গাড়িটির চালক ছিল ত্রেভান মল্লিক।


ত্রেভানকে পুলিশ কার্যালয়ে ডাকা হলো।


সে প্রথমে জানাল, ১৫ অক্টোবর রাতে সে শহরের বাইরে একটি পণ্য পৌঁছে দিয়েছিল। কিন্তু গাড়ির অবস্থানসংক্রান্ত নথি দেখানো হলে তার বক্তব্যে অসংগতি দেখা গেল।


নৈরব বললেন, “আপনার গাড়ি সেদিন রাত নয়টার পর পাঁচপুকুর বাজারের পেছনের সড়কে ছিল। এরপর সেটি শিল্পাঞ্চলের দিকে গেছে। আপনি কি এই চলাচল অস্বীকার করছেন?”


ত্রেভান বলল, “গাড়িটি আমার কাছে ছিল না। সেদিন বিকেলে অন্য একজনকে দিয়েছিলাম।”


“কার কাছে?”


“একজন পরিচিত ব্যক্তি।”


“নাম?”


ত্রেভান প্রথমে নাম বলতে চাইল না। পরে জানাল, ব্যক্তিটির নাম কেরাভ মণ্ডল।


তদন্তকারীরা কেরাভের পরিচয় যাচাই করলেন। সে একটি ছোট পরিবহন গুদামে কাজ করত। কয়েক মাস আগে অরভিন লজিস্টিকসের একটি গাড়ি মেরামতের কাজেও তাকে দেখা গিয়েছিল।


কেরাভকে খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো।


সে জানাল, ত্রেভানের কাছ থেকে গাড়ি নেওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে ১৫ অক্টোবর রাতে সে শুধু একটি প্যাকেট পৌঁছে দিয়েছিল বলে দাবি করল।


নৈরব জানতে চাইলেন, “কোথায় পৌঁছে দিয়েছিলেন?”


কেরাভ বলল, “শিল্পাঞ্চলের একটি পুরোনো গুদামে।”


“প্যাকেটের ভেতরে কী ছিল?”


“আমি জানি না।”


“কে দিয়েছিল?”


“একজন লোক।”


“তার নাম?”


কেরাভ এবারও নীরব থাকল।


নৈরব তাকে জানালেন, বক্তব্যের সঙ্গে অন্য প্রমাণের মিল পরীক্ষা করা হবে। কোনো তথ্য গোপন করলে পরবর্তী পর্যায়ে তার নিজের অবস্থানও জটিল হতে পারে।


কেরাভ বলল, “লোকটির নাম ভেরাশ।”


নামটি শুনে নৈরব পুরোনো নথি বের করলেন।


ভেরাশ কুণ্ডু।


নেভিটেক সিকিউরিটি সার্ভিসেসের সেই কর্মী, যে বসিম জুয়েলার্সের নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করতে গিয়েছিল।


এবার তদন্তে প্রথমবারের মতো দুটি আলাদা সূত্র এক জায়গায় এসে মিলল।


একদিকে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করা ব্যক্তি, অন্যদিকে ডাকাতির রাতে ব্যবহৃত গাড়ির সঙ্গে যুক্ত যোগাযোগ।


তবে শুধু পরিচয় বা যোগাযোগ অপরাধ প্রমাণ করে না।


নৈরব নির্দেশ দিলেন, ভেরাশের গতিবিধি, আর্থিক লেনদেন এবং কেরাভের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য আইনসম্মত পদ্ধতিতে সংগ্রহ করতে হবে।


অধ্যায় ফোর.

গুদামের তালাবদ্ধ দরজা


শিল্পাঞ্চলের যে গুদামের কথা কেরাভ বলেছিল, সেটি দীর্ঘদিন ধরে অল্প পরিমাণ পণ্য সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হতো। গুদামটির মালিক ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী রাভেল দাশ।


তদন্তকারীরা প্রথমে গুদামের ভাড়ার নথি সংগ্রহ করলেন। দেখা গেল, ১০ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত গুদামটির একটি অংশ অস্থায়ীভাবে ভাড়া নিয়েছিল নেরাভ ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান।


প্রতিষ্ঠানটির মালিক হিসেবে যে নাম দেওয়া হয়েছিল, সেটি ছিল ভুয়া পরিচয়।


ভাড়ার টাকা নগদে পরিশোধ করা হয়েছিল।


গুদামের প্রবেশপথে কোনো কার্যকর ক্যামেরা ছিল না। তবে পাশের একটি কারখানার ক্যামেরায় গুদামের সামনে কয়েকটি যানবাহনের চলাচল দেখা গেল।


সেই ফুটেজে ১৫ অক্টোবর রাত দশটার কিছু পরে ধূসর পণ্যবাহী গাড়িটি গুদামের সামনে থামতে দেখা গেল।


গাড়ি থেকে দুটি বড় বাক্স নামানো হয়েছিল।


কিছুক্ষণ পর আরেকটি ছোট গাড়ি সেখানে আসে।


এই দ্বিতীয় গাড়িটির নম্বর পরীক্ষা করে দেখা গেল, সেটি একটি ভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত।


নৈরব গুদামটি তল্লাশির জন্য আদালতের অনুমতি চাইলেন। যথাযথ অনুমতি পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে অভিযান চালাল।


গুদামের ভেতরে পুরোনো কাঠের বাক্স, কয়েকটি খালি কার্টন এবং প্যাকেটজাত করার সরঞ্জাম পাওয়া গেল।


একটি কক্ষে মেঝের পাশে ছোট ধাতব টুকরো এবং গয়না মোড়ানোর বিশেষ ধরনের কাগজ পাওয়া গেল।


ফরেনসিক দল সেগুলো সংগ্রহ করল।


একটি টেবিলের নিচে ভাঙা তালার অংশও পাওয়া গেল। তবে সেটি বসিম জুয়েলার্সের কোনো তালার অংশ কি না, তা তখনও নিশ্চিত ছিল না।


গুদামের একটি কোণে ছোট একটি কাগজের টুকরো পড়ে ছিল। সেখানে কয়েকটি সংখ্যার পাশে কিছু সংক্ষিপ্ত শব্দ লেখা ছিল।


ইরাভিন কাগজটি পরীক্ষা করে জানালেন, সংখ্যাগুলো সম্ভবত প্যাকেটের ওজন বা পণ্যের হিসাবের সঙ্গে সম্পর্কিত।


কৌশান বললেন, “এগুলো যদি গয়নার হিসাব হয়, তাহলে চুরি যাওয়া মজুতের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।”


কাগজটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলো।


এদিকে গুদামের ভাড়ার টাকা যে ব্যক্তি দিয়েছিল, তার পরিচয় পাওয়া গেল একটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে। টাকা জমা দেওয়ার সময় যে পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি ভুয়া হলেও জমার স্থান ও সময়ের তথ্য সংরক্ষিত ছিল।


ব্যাংকের নথি এবং আশপাশের ক্যামেরার রেকর্ড মিলিয়ে দেখা গেল, টাকা জমা দিয়েছিল কেরাভ।


কেরাভকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো।


এবার সে জানাল, ভেরাশের নির্দেশে গুদাম ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তাকে বলা হয়েছিল, কিছু মূল্যবান পণ্য সাময়িকভাবে সেখানে রাখা হবে।


নৈরব জানতে চাইলেন, “আপনি কি জানতেন, পণ্যগুলো কোথা থেকে এসেছে?”


কেরাভ বলল, “প্রথমে জানতাম না। পরে বুঝতে পেরেছিলাম, এগুলো বসিম জুয়েলার্স থেকে নেওয়া গয়না হতে পারে।”


“বুঝতে পারার পরও আপনি কেন কাজ চালিয়ে গেলেন?”


কেরাভ উত্তর দিল, “আমাকে টাকা দেওয়া হয়েছিল। আমি তখন কাজ ছেড়ে দিতে পারতাম। কিন্তু ভয়ও ছিল।”


“কে ভয় দেখিয়েছিল?”


কেরাভ বলল, “ভেরাশ একা ছিল না। তার সঙ্গে আরও দুজন ছিল।”


নৈরব নাম জানতে চাইলেন।


কেরাভ জানাল, একজনের নাম দ্রেনিক এবং অন্যজনের নাম সোরাভ।


এই দুটি নাম নতুন তদন্তের তালিকায় যুক্ত হলো।


তবে কেরাভের বক্তব্যের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হলো না।


অধ্যায় ফাইভ.

অদৃশ্য হিসাবের খাতা


গুদামের নথি পরীক্ষা করতে গিয়ে তদন্তকারীরা বুঝতে পারলেন, ডাকাতির পর গয়নাগুলো সরাসরি বাজারে বিক্রি করা হয়নি। সেগুলো প্রথমে ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করা হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে অন্যত্র পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।


এবার আর্থিক অনুসন্ধান শুরু হলো।


বসিম জুয়েলার্সের চুরি যাওয়া গয়নার তালিকা নতুন করে তৈরি করা হলো। প্রতিটি গয়নার ধরন, ওজন, নকশা, বিশেষ চিহ্ন এবং কেনার নথি আলাদা করে সাজানো হলো।


বসিম জানাল, কয়েকটি গয়নায় বিশেষ নকশা ছিল, যেগুলো সাধারণভাবে তৈরি করা হয় না। কিছু গয়নার ভেতরে দোকানের নিজস্ব ক্ষুদ্র শনাক্তকরণ চিহ্নও ছিল।


এই তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল।


কারণ, চুরি যাওয়া গয়না গলিয়ে ফেলার আগে সেগুলোর পরিচয় শনাক্ত করার সুযোগ ছিল।


কৌশান ব্যাংক ও ব্যবসায়িক নথি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে একটি অস্বাভাবিক লেনদেনের ধারাবাহিকতা খুঁজে পেলেন।


ডাকাতির পরের দুই সপ্তাহে কয়েকটি ছোট প্রতিষ্ঠানের হিসাবে অস্বাভাবিক নগদ জমা হয়েছিল। প্রতিটি জমার পরিমাণ আলাদা হলেও মোট অর্থের পরিমাণ চুরি যাওয়া গয়নার সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্যের কাছাকাছি ছিল।


তবে শুধু অর্থের পরিমাণ মিলে যাওয়া অপরাধের প্রমাণ নয়।


প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, প্রকৃত ব্যবসা, লেনদেনের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্ক পরীক্ষা করা হলো।


তখন একটি প্রতিষ্ঠানের নাম সামনে এল।


রেভান মেটাল ট্রেডার্স।


প্রতিষ্ঠানটি পুরোনো ধাতব সামগ্রী কেনাবেচার ব্যবসা করত। এর মালিক ছিলেন দ্রেনিক সাউ।


গুদামের সামনে দেখা যাওয়া দ্বিতীয় গাড়িটির মালিকানার সঙ্গে দ্রেনিকের পারিবারিক যোগাযোগ পাওয়া গেল।


দ্রেনিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলো।


সে জানাল, তার ব্যবসা বৈধ। পুরোনো সোনা ও রুপার অলংকার কিনে পুনর্ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করাই তার কাজ।


নৈরব বললেন, “আপনার প্রতিষ্ঠানে ১৫ অক্টোবরের পর কয়েকটি অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। সেগুলোর পেছনের পণ্য ও বিক্রেতার পরিচয় আমাদের জানতে হবে।”


দ্রেনিক বলল, “সব পণ্য বৈধ উৎস থেকে কেনা হয়েছে।”


কৌশান জানতে চাইলেন, “কেনার রসিদগুলো কোথায়?”


দ্রেনিক কিছু নথি জমা দিল। কিন্তু সেখানে কয়েকটি বিক্রেতার নাম ও পরিচয় অসম্পূর্ণ ছিল।


তদন্তকারীরা নথিগুলো পরীক্ষা করে দেখলেন, একই ধরনের পণ্য বিভিন্ন নামে কেনা হয়েছে। কয়েকটি রসিদে একই হাতের লেখার বৈশিষ্ট্য দেখা গেল।


দ্রেনিক বলল, “আমাদের কর্মচারীরা রসিদ তৈরি করে। সবকিছু আমার নিজের হাতে লেখা নয়।”


নৈরব তার বক্তব্য নথিভুক্ত করলেন।


এরপর প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো। তাদের মধ্যে একজন জানাল, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে কয়েকটি সোনার অলংকার আনা হয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে একটি আংটিতে অদ্ভুত নকশা ছিল।


বসিমের দেওয়া চুরি যাওয়া গয়নার তালিকা দেখানো হলে কর্মচারী আংটির নকশাটি চিনতে পারল।


সে বলল, “এই ধরনের আংটি আমি দেখেছিলাম। তবে সেগুলো কোথা থেকে এসেছিল, জানি না।”


তদন্তকারীরা কর্মচারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নথি ও পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করলেন।


পরীক্ষায় একটি আংটির ভেতরে বসিম জুয়েলার্সের শনাক্তকরণ চিহ্ন পাওয়া গেল।


এবার চুরি যাওয়া সম্পদের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সরাসরি যোগসূত্র তৈরি হলো।


দ্রেনিকের বিরুদ্ধে তদন্ত আরও গভীর করা হলো।


অধ্যায় সিক্স.

তিনজনের গোপন যোগাযোগ


কেরাভ, ভেরাশ এবং দ্রেনিকের বক্তব্য আলাদাভাবে পরীক্ষা করার পর তদন্তকারীরা একটি যোগাযোগের ধারাবাহিকতা খুঁজে পেলেন।


ঘটনার আগের কয়েক সপ্তাহে তিনজনের মধ্যে একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল। কিছু যোগাযোগের সময় বসিম জুয়েলার্সে ভেরাশের প্রযুক্তিগত কাজের সঙ্গে মিলে যাচ্ছিল।


তবে যোগাযোগের রেকর্ড একা অপরাধ প্রমাণ করে না। তাই যোগাযোগের সময়, অবস্থান, কাজের বিবরণ এবং অর্থের লেনদেন একত্রে পরীক্ষা করা হলো।


ভেরাশের ব্যাংক হিসাবে ১৬ অক্টোবর একটি বড় অঙ্কের টাকা জমা হয়েছিল। টাকা জমা দিয়েছিল দ্রেনিকের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তি।


পরবর্তী কয়েক দিনে ভেরাশের হিসাব থেকে কেরাভের কাছে টাকা পাঠানো হয়।


লেনদেনের বিবরণে কোনো স্পষ্ট ব্যবসায়িক কারণ লেখা ছিল না।


নৈরব ভেরাশকে আবার ডেকে পাঠালেন।


তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনার প্রতিষ্ঠানের কাজের বাইরে দ্রেনিক সাউয়ের সঙ্গে কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল?”


ভেরাশ বলল, “না।”


“কেরাভকে টাকা দিয়েছিলেন?”


“কিছু কাজের পারিশ্রমিক দিয়েছিলাম।”


“কী কাজ?”


ভেরাশ উত্তর দিল, “পরিবহনের ব্যবস্থা করেছিল।”


“কোন পণ্য পরিবহন?”


“সাধারণ মালামাল।”


নৈরব তার সামনে ব্যাংকের লেনদেনের নথি রাখলেন।


“এই টাকা কি আপনার ব্যক্তিগত কাজের পারিশ্রমিক ছিল?”


ভেরাশ এবার বলল, “আমি বিস্তারিত মনে করতে পারছি না।”


জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বক্তব্যের অসংগতি নথিভুক্ত করা হলো।


এদিকে প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ ইরাভিন নেভিটেকের পুরোনো কাজের রেকর্ড পরীক্ষা করে আরেকটি তথ্য পেলেন।


১ অক্টোবর বসিম জুয়েলার্সে কাজ করার সময় ব্যবহৃত একটি পরীক্ষামূলক যন্ত্রের নম্বর ছিল প্রতিষ্ঠানের নথিতে। ওই যন্ত্রটি পরে প্রতিষ্ঠানের গুদামে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও ফেরত দেওয়ার কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি।


যন্ত্রটির অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক জানালেন, সেটি হয়তো অন্য একটি কাজের জন্য নেওয়া হয়েছিল।


ইরাভিন বললেন, “এই যন্ত্রের সঙ্গে দোকানের নিরাপত্তাব্যবস্থার কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটি পরীক্ষা করতে হবে।”


প্রযুক্তিগত তদন্তে দেখা গেল, যন্ত্রটি একটি নির্দিষ্ট ধরনের নিরাপত্তা সংযোগ পরীক্ষা করতে ব্যবহার করা হতো। তবে সেটি দিয়ে দোকানের ক্যামেরার রেকর্ড বন্ধ করা সম্ভব ছিল কি না, তা নির্ধারণের জন্য আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।


যন্ত্রটির সিরিয়াল নম্বর অনুসরণ করে দেখা গেল, সেটি ভেরাশের ব্যক্তিগত ব্যবহারের তালিকায় ছিল।


এই তথ্য ভেরাশের আগের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠল।


নৈরব এবার একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করলেন।


ভেরাশ দোকানের নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিল।


কেরাভ পরিবহনের ব্যবস্থা করেছিল।


দ্রেনিক চুরি করা গয়না গ্রহণ ও বিক্রির ব্যবস্থা করেছিল।


কিন্তু পরিকল্পনায় আর কেউ ছিল কি না, এবং দোকানের ভেতরের কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সহযোগিতা করেছিল কি না, তা তখনও নিশ্চিত ছিল না।


নৈরব বললেন, “আমরা তিনজনের বিরুদ্ধে প্রমাণের যোগসূত্র পাচ্ছি। কিন্তু পরিকল্পনার পূর্ণ চিত্র এখনও পাওয়া যায়নি। দোকানের কর্মচারীদের ভূমিকা আবার যাচাই করতে হবে।”


অধ্যায় সেভেন.

দ্রাভিকের দ্বিতীয় বক্তব্য


আগের তদন্তে হিসাবরক্ষক দ্রাভিকের নথিতে কিছু অসংগতি পাওয়া গিয়েছিল। নতুন তদন্তে তার ভূমিকা আবার পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।


দ্রাভিককে পুলিশ কার্যালয়ে ডাকা হলো।


নৈরব তাকে জানালেন, তার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে দোকানের হিসাব ও নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।


দ্রাভিক জানাল, সে আগের মতোই হিসাবের কাজ করত। নিরাপত্তাব্যবস্থার কিছু প্রশাসনিক কাজও মাঝে মাঝে দেখত।


নৈরব জানতে চাইলেন, ভেরাশের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল কি না।


দ্রাভিক বলল, “হ্যাঁ। নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করার সময় তার সঙ্গে কথা হয়েছিল।”


“কী বিষয়ে?”


“ক্যামেরার সময় এবং কিছু প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে।”


“আপনি কি তাকে দোকানের ভেতরের সব ব্যবস্থা দেখিয়েছিলেন?”


“না। যতটুকু কাজের প্রয়োজন ছিল, ততটুকুই।”


নৈরব জানতে চাইলেন, ১৫ অক্টোবর রাতে দোকানের হিসাবের কোনো পরিবর্তন করা হয়েছিল কি না।


দ্রাভিক বলল, “কয়েকটি হিসাব সংশোধন করা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো সাধারণ ব্যবসায়িক সংশোধন।”


নৈরব সংশোধিত নথি সামনে রাখলেন।


“এই পাতায় একই দিনে দুইবার সংখ্যা পরিবর্তন করা হয়েছে। কেন?”


দ্রাভিক বলল, “প্রথমে একটি ভুল সংখ্যা লেখা হয়েছিল। পরে ঠিক করা হয়।”


“কেন সংশোধনের পাশে কারণ লেখা নেই?”


দ্রাভিক উত্তর দিল, “সব সময় বিস্তারিত লেখা হয়নি।”


তদন্তকারীরা এবার কম্পিউটারে সংরক্ষিত হিসাবের মূল তথ্য সংগ্রহ করলেন। সেখানে দেখা গেল, ঘটনার আগের কয়েক দিন মজুতের কয়েকটি হিসাব পরিবর্তন করা হয়েছিল।


কিন্তু পরিবর্তনগুলো কে করেছে, তা নিশ্চিত করতে কম্পিউটারের ব্যবহারকারীর লগ পরীক্ষা করা প্রয়োজন ছিল।


প্রযুক্তিগত পরীক্ষায় দেখা গেল, সংশোধনের কয়েকটি কাজ দ্রাভিকের ব্যবহারকারী পরিচয় থেকে করা হয়েছিল।


দ্রাভিক বলল, “আমার পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু সব কাজ আমি করিনি।”


নৈরব জানতে চাইলেন, “আপনার পাসওয়ার্ড অন্য কেউ জানত?”


দ্রাভিক বলল, “কয়েকজন কর্মচারী প্রশাসনিক কাজে আমার কম্পিউটার ব্যবহার করত।”


“কারা?”


দ্রাভিক কয়েকজনের নাম বলল। তাদের মধ্যে ভেরাশও ছিল না। তবে ভেরাশের সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থার কাজের সময় কম্পিউটারে প্রবেশের সুযোগ ছিল কি না, সেটি আলাদা করে পরীক্ষা করা হলো।


কম্পিউটারের লগে দেখা গেল, ১ অক্টোবরের পর একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক অধিবেশন খোলা হয়েছিল। সেই অধিবেশনের সময় ভেরাশ দোকানে উপস্থিত ছিল।


এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলেও সরাসরি প্রমাণ ছিল না যে সে হিসাব পরিবর্তন করেছে।


নৈরব বললেন, “আপনার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ কাজ করলে তার দায় আপনার ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পড়ে না। তবে আপনি কাকে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছিলেন, সেটি জানতে হবে।”


দ্রাভিক কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “ভেরাশ একদিন বলেছিল, ক্যামেরার পরীক্ষা করতে হলে কম্পিউটারের কিছু সেটিংস দেখতে হবে। আমি তাকে কম্পিউটার ব্যবহার করতে দিয়েছিলাম।”


“কোন তারিখে?”


“ঠিক মনে নেই।”


নৈরব তার বক্তব্য লিখে নিলেন।


দ্রাভিকের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অপরাধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো না। তবে তার দেওয়া তথ্য ভেরাশের প্রযুক্তিগত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করল।


অধ্যায় এইট.

ঝারুকের দেখা অচেনা মানুষ


ঝারুক আগের তদন্তে জানিয়েছিল, ঘটনার রাতে দোকানের পেছনের অংশে সে কিছু শব্দ শুনেছিল। তবে শব্দের উৎস দেখতে পারেনি।


নতুন তদন্তে তাকে আবার ডাকা হলো।


নৈরব জানতে চাইলেন, ঘটনার আগে বা পরে সে কোনো অস্বাভাবিক ব্যক্তি দেখেছিল কি না।


ঝারুক বলল, “ঘটনার কয়েক দিন আগে একজন লোক দোকানের পেছনের রাস্তার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। সে দোকানের ভেতরে ঢোকেনি।”


“লোকটিকে চিনতেন?”


“না।”


“কী করছিল?”


“মাঝে মাঝে দোকানের পেছনের দরজার দিকে তাকাচ্ছিল। পরে চলে যায়।”


“এ কথা আগে বলেননি কেন?”


ঝারুক বলল, “তখন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি। পরে ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে মনে হয়েছে, লোকটি হয়তো কিছু দেখছিল।”


নৈরব জানতে চাইলেন, “লোকটির চেহারা মনে আছে?”


ঝারুক বলল, “মুখ পরিষ্কার মনে নেই। তবে ডান হাতে একটি বড় ধাতব ঘড়ি ছিল।”


তদন্তকারীরা দোকানের আশপাশের পুরোনো ছবি ও ফুটেজ পরীক্ষা করলেন। ঝারুক যে সময়ের কথা বলেছিল, সেই সময়ে দোকানের পেছনের সড়কে কয়েকজনের চলাচল দেখা গেল।


একটি ফুটেজে একজন ব্যক্তির হাতে বড় ধাতব ঘড়ি দেখা যাচ্ছিল। তার মুখ আড়াল করা ছিল।


পরবর্তী ফুটেজে একই ব্যক্তিকে একটি পরিবহন গুদামের দিকে যেতে দেখা গেল।


গুদামটির মালিক ছিলেন রাভেল দাশ।


সেখানে কর্মরত একজন ব্যক্তি জানালেন, ওই লোকটির নাম সোরাভ।


সোরাভের পরিচয় খুঁজে বের করা হলো। সে আগে নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরিবহনের কাজে যুক্ত ছিল। বর্তমানে একটি ছোট মেরামত প্রতিষ্ঠানে কাজ করত।


তার সঙ্গে ভেরাশের যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া গেল।


সোরাভকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলে সে জানাল, ভেরাশ তার পরিচিত। তবে বসিম জুয়েলার্সের ডাকাতির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।


নৈরব বললেন, “আপনার বক্তব্য আমরা পরীক্ষা করব। আপনার পরিচিতি অপরাধের প্রমাণ নয়। তবে ঘটনার সময় আপনার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য প্রয়োজন।”


সোরাভ জানাল, ১৫ অক্টোবর রাতে সে শিল্পাঞ্চলের একটি ভবনে ছিল।


তার বক্তব্য যাচাই করতে ভবনটির উপস্থিতি রেকর্ড সংগ্রহ করা হলো। সেখানে তার নাম পাওয়া গেলেও প্রবেশ ও বের হওয়ার সময়ের মধ্যে একটি ফাঁক ছিল।


এই সময়ের মধ্যেই ধূসর গাড়িটি গুদামের সামনে অবস্থান করেছিল।


সোরাভের সঙ্গে গাড়ির চালক ত্রেভানের যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া গেল।


নৈরব এবার তাকে আবার প্রশ্ন করলেন।


“আপনি কি ওই রাতে গুদামে গিয়েছিলেন?”


সোরাভ বলল, “না।”


“আপনার ফোনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য গুদামের আশপাশের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।”


সোরাভ বলল, “আমি অন্য কাজে সেখানে গিয়েছিলাম।”


“কী কাজ?”


সে নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারল না।


নৈরব বললেন, “আপনার বক্তব্যের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যের মিল পরীক্ষা করা হবে। আপনি যা জানেন, সেটি সঠিকভাবে বলুন।”


সোরাভ তখনও ডাকাতির কথা অস্বীকার করল।


তদন্তকারীরা তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্যগুলো আলাদা করে সংরক্ষণ করলেন।


অধ্যায় নাইন.

গয়নার গোপন গন্তব্য


গুদাম থেকে পাওয়া নথি, রেভান মেটাল ট্রেডার্সের হিসাব এবং কর্মচারীদের বক্তব্য একত্র করে তদন্তকারীরা বুঝতে পারলেন, চুরি হওয়া গয়নার একটি অংশ ইতিমধ্যে অন্যত্র সরানো হয়েছে।


কিন্তু সব গয়না উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।


নৈরব বসিমকে ডেকে চুরি যাওয়া গয়নার বিশেষ শনাক্তকরণ চিহ্ন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলেন।


বসিম জানাল, কয়েকটি গয়নার ভেতরে ক্ষুদ্র অক্ষর ও সংখ্যা খোদাই করা ছিল। এগুলো সাধারণ ক্রেতাদের চোখে পড়ার মতো নয়। কিন্তু দোকানের নিজস্ব নথিতে প্রতিটি চিহ্নের বিবরণ সংরক্ষিত ছিল।


কৌশান সেই তালিকার সঙ্গে উদ্ধার করা আংটির তথ্য মিলিয়ে দেখলেন।


আংটিটি চুরি যাওয়া মজুতের অংশ ছিল।


এরপর তদন্তকারীরা রেভান মেটাল ট্রেডার্সের সঙ্গে যুক্ত অন্য প্রতিষ্ঠানের নথি সংগ্রহ করলেন।


সেখানে দেখা গেল, ডাকাতির পর কয়েকটি গয়না একটি ছোট কারিগরি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছিল।


প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল ত্রেভাল অলংকার পুনর্গঠন কেন্দ্র।


মালিক ছিলেন নেমার কুণ্ডু।


নেমার জানালেন, তিনি পুরোনো গয়না মেরামত ও পুনর্গঠনের কাজ করেন। তবে অক্টোবর মাসে তিনি দ্রেনিকের কাছ থেকে কিছু অলংকার পেয়েছিলেন।


“সেগুলো কোথা থেকে এসেছিল?” নৈরব জানতে চাইলেন।


নেমার বললেন, “আমাকে বলা হয়েছিল, একজন পুরোনো ক্রেতার সংগ্রহ থেকে এসেছে।”


“কোনো কেনার রসিদ ছিল?”


“কিছু কাগজ ছিল। তবে সব পণ্যের পূর্ণ বিবরণ ছিল না।”


নেমারকে গয়নার তালিকা দেখানো হলো।


তিনি কয়েকটি গয়না চিনতে পারলেন।


তদন্তকারীরা তার প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখলেন, কিছু অলংকার গলানোর আগে আলাদা করে রাখা হয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে বসিম জুয়েলার্সের চিহ্নযুক্ত দুটি গয়না পাওয়া গেল।


ফরেনসিক পরীক্ষায় সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত হলো।


নেমার জানালেন, দ্রেনিকের নির্দেশে গয়নাগুলো আলাদা রাখা হয়েছিল। তবে কেন আলাদা রাখা হয়েছিল, তা তিনি জানতেন না।


নৈরব বললেন, “আপনি যদি জানতেন এগুলো চুরি করা সম্পদ, তাহলে আপনার দায় তৈরি হতে পারে। কিন্তু সেটি প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।”


নেমার জানালেন, প্রথমবার গয়না পাওয়ার সময় তিনি উৎস সম্পর্কে সন্দেহ করেছিলেন। পরে দ্রেনিক তাকে আশ্বস্ত করেছিল যে সব পণ্য বৈধ।


তার বক্তব্য যাচাই করতে দ্রেনিকের সঙ্গে যোগাযোগের নথি সংগ্রহ করা হলো।


সেখানে একটি বার্তার তথ্য পাওয়া গেল। বার্তায় লেখা ছিল, নির্দিষ্ট চিহ্নযুক্ত গয়নাগুলো যেন অন্য পণ্যের সঙ্গে মিশিয়ে না ফেলা হয়।


এই বার্তার অর্থ কী, তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল।


নেমার আরও জানালেন, কিছু গয়না একটি অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছে পাঠানো হয়েছিল। সেই ব্যক্তি গয়না গলিয়ে নতুন আকারে তৈরি করার কথা বলেছিল।


ব্যক্তিটির নাম ছিল ভরেন।


ভরেনের পরিচয় খুঁজতে গিয়ে দেখা গেল, সে একটি গোপন ধাতু প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।


পুলিশ সেই প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা সংগ্রহ করল।


অধ্যায় টেন.

ভরেনের কারখানা


শিল্পাঞ্চলের প্রান্তে একটি ছোট কারখানায় ভরেন কাজ করত। বাইরে থেকে সেটিকে সাধারণ ধাতু প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান মনে হতো। কিন্তু ভেতরে কিছু কাজের হিসাব অসম্পূর্ণ ছিল।


আদালতের অনুমতি নিয়ে পুলিশ কারখানাটি পরীক্ষা করল।


সেখানে সোনা গলানোর সরঞ্জাম, কয়েকটি ছাঁচ এবং বিভিন্ন ধরনের ধাতব টুকরো পাওয়া গেল।


কিছু পণ্যের সঙ্গে কোনো ক্রয়রসিদ ছিল না।


কৌশান হিসাব পরীক্ষা করে দেখলেন, কারখানায় অক্টোবরের দ্বিতীয়ার্ধে অস্বাভাবিক পরিমাণ সোনা প্রবেশ করেছিল। কিন্তু বিক্রির নথিতে তার পূর্ণ বিবরণ নেই।


ভরেন বলল, “আমি অন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সোনা কিনেছি। সবকিছুর উৎস আমার জানা সম্ভব নয়।”


নৈরব বললেন, “আপনার ব্যবসায়িক নথিতে পণ্যের উৎস ও বিক্রেতার পরিচয় থাকার কথা। সেগুলো কোথায়?”


ভরেন বলল, “কিছু কাগজ হারিয়ে গেছে।”


তদন্তকারীরা কারখানার কম্পিউটার ও সংরক্ষিত নথি পরীক্ষা করলেন। সেখানে কয়েকটি মুছে ফেলা হিসাবের অনুলিপি উদ্ধার করা গেল।


সেগুলোর একটিতে দ্রেনিকের প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল।


আরেকটিতে ভেরাশের সঙ্গে যুক্ত একটি অর্থপ্রদানের বিবরণ পাওয়া গেল।


এবার ভরেনের অবস্থানও সন্দেহজনক হয়ে উঠল।


তবে শুধু নথিতে নাম থাকা যথেষ্ট ছিল না। কারখানার নমুনা, গয়নার চিহ্ন এবং আর্থিক লেনদেনের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে হবে।


ফরেনসিক পরীক্ষায় কারখানার একটি ছাঁচে এমন নকশার আংশিক ছাপ পাওয়া গেল, যা বসিম জুয়েলার্সের চুরি যাওয়া একটি বিশেষ অলংকারের নকশার সঙ্গে মিলে যায়।


বিশেষজ্ঞরা জানালেন, এই মিল গুরুত্বপূর্ণ। তবে ছাঁচটি ঠিক কখন ব্যবহার করা হয়েছে এবং কোন ব্যক্তি ব্যবহার করেছে, তা নির্ধারণের জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন।


কারখানার কর্মচারীদের একজন জানাল, ১৬ অক্টোবর রাতে ভরেনের সঙ্গে দ্রেনিক এসেছিল। তাদের সঙ্গে আরেকজন লোকও ছিল।


কর্মচারী লোকটিকে চিনতে পারল না। তবে বলল, তার ডান হাতে বড় ধাতব ঘড়ি ছিল।


নৈরব ঝারুকের আগের বক্তব্যের কথা মনে করলেন।


ডান হাতে বড় ধাতব ঘড়ি।


সোরাভ।


এবার ভরেনের কারখানা, গুদাম, দ্রেনিক এবং সোরাভের মধ্যে একটি স্পষ্ট যোগাযোগের সূত্র তৈরি হলো।


অধ্যায় ইলেভেন.

ভাঙা পরিকল্পনার নথি


তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে পুলিশ গুদাম থেকে উদ্ধার করা কাগজের টুকরো এবং ভরেনের কারখানার নথি আবার পরীক্ষা করল।


ইরাভিন জানালেন, গুদামের কাগজে থাকা সংখ্যাগুলো কোনো সাধারণ ওজনের তালিকা নয়। কয়েকটি সংখ্যার সঙ্গে গয়নার ধরন ও প্যাকেটের নম্বরের মিল পাওয়া যাচ্ছে।


কৌশান চুরি যাওয়া মজুতের তালিকার সঙ্গে সংখ্যাগুলো তুলনা করলেন।


কয়েকটি গয়নার ওজন প্রায় একই ছিল।


এতে বোঝা গেল, ডাকাতির পর গয়নাগুলো নির্দিষ্ট প্যাকেটে ভাগ করা হয়েছিল এবং সেগুলোর হিসাব রাখা হয়েছিল।


কাগজটির লেখার ধরন পরীক্ষা করে একজন বিশেষজ্ঞ জানালেন, একই ব্যক্তির হাতে লেখা কয়েকটি অক্ষরের গঠন দ্রেনিকের প্রতিষ্ঠানের একটি পুরোনো রসিদের সঙ্গে মিলে যায়।


তবে লেখার মিলকে একমাত্র প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হলো না।


পাশাপাশি গুদামের ভাড়ার টাকা, পরিবহনের খরচ এবং কারখানায় গয়না পাঠানোর হিসাব পরীক্ষা করা হলো।


এই তিনটি খরচের অর্থের উৎস ছিল একই আর্থিক হিসাবের সঙ্গে যুক্ত।


হিসাবটি দ্রেনিকের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত হতো।


অন্যদিকে ভেরাশের ব্যক্তিগত হিসাবে জমা হওয়া অর্থের একটি অংশ এসেছিল ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত একজন মধ্যস্থতাকারীর কাছ থেকে।


এবার নৈরব তিনজনকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নিলেন।


প্রথমে কেরাভকে ডাকা হলো।


কেরাভ জানাল, ভেরাশ তাকে বলেছিল, দোকানের ভেতরের নিরাপত্তাব্যবস্থা কিছু সময়ের জন্য অকার্যকর থাকবে। তাকে শুধু গাড়ি ও গুদামের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছিল।


নৈরব জানতে চাইলেন, ডাকাতির সময় সে দোকানের কাছে ছিল কি না।


কেরাভ বলল, “আমি পেছনের রাস্তার কাছে ছিলাম। কিন্তু দোকানের ভেতরে ঢুকিনি।”


“আপনি কি কাউকে গয়না নিয়ে বের হতে দেখেছেন?”


“দুজনকে দেখেছিলাম। তাদের মুখ পরিষ্কার দেখিনি।”


“তারা কোথায় গিয়েছিল?”


“ধূসর গাড়িতে।”


কেরাভের বক্তব্যের সঙ্গে ক্যামেরার রেকর্ডের কিছু অংশ মিলে গেল।


এরপর ভেরাশকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো।


প্রথমে সে আগের বক্তব্যেই অটল থাকল। কিন্তু প্রযুক্তিগত কাজের নথি, আর্থিক লেনদেন এবং গুদামের যোগাযোগের তথ্য সামনে আনা হলে তার বক্তব্য বদলাতে শুরু করল।


সে স্বীকার করল, ডাকাতির আগে বসিম জুয়েলার্সের নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিল।


তবে সে দাবি করল, গয়না নেওয়ার পরিকল্পনা তার ছিল না। দ্রেনিক তাকে অর্থের বিনিময়ে নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা দেখাতে বলেছিল।


নৈরব জানতে চাইলেন, “আপনি কি জানতেন, দোকানে ডাকাতি করা হবে?”


ভেরাশ কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলল, “আমি জানতাম, একটি বড় ঘটনা ঘটবে।”


“কী ধরনের ঘটনা?”


“গয়না সরিয়ে নেওয়া হবে।”


“তাহলে আপনি কি পরিকল্পনার অংশ ছিলেন?”


ভেরাশ বলল, “আমি শুধু ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছিলাম।”


নৈরব বললেন, “আপনার কাজের নথি, অর্থের লেনদেন এবং গুদামের যোগাযোগ একত্রে পরীক্ষা করা হবে। আপনি কতটুকু জড়িত ছিলেন, সেটি প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।”


ভেরাশের বক্তব্যে একটি নতুন নাম সামনে এল।


পরিকল্পনার মূল ব্যক্তি হিসেবে সে দ্রেনিকের কথা বলল।


অধ্যায় টুয়েলভ.

ডাকাতির রাতের পূর্ণ বিবরণ


নৈরব এবার ঘটনার রাতের সব তথ্য একত্রে সাজালেন।


প্রথমে বসিম জুয়েলার্সের কর্মচারীদের উপস্থিতি ও কাজের সময় পরীক্ষা করা হলো। এরপর ক্যামেরার সংশোধিত সময়, রাস্তার ফুটেজ, গাড়ির চলাচল, গুদামের রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেন মিলিয়ে একটি ধারাবাহিক বিবরণ তৈরি করা হলো।


তদন্তে যে চিত্র উঠে এল, তা ছিল এমন।


ডাকাতির প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ভেরাশ বসিম জুয়েলার্সের নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করার সুযোগ পেয়েছিল। সেই সময় সে দোকানের প্রবেশপথ, ক্যামেরার অবস্থান, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং রেকর্ড সংরক্ষণের পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিল।


এরপর দ্রেনিকের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়।


দ্রেনিকের উদ্দেশ্য ছিল চুরি করা গয়না দ্রুত বিক্রি করে অর্থে রূপান্তর করা। এ কাজে ভরেনের কারখানা ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।


কেরাভকে পরিবহনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।


সোরাভকে দোকানের পেছনের সড়ক ও আশপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়।


১৫ অক্টোবর রাতে দোকান বন্ধের প্রস্তুতি চলার সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি করা হয়। তবে কোন নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত পদক্ষেপে ক্যামেরার রেকর্ডে বিরতি সৃষ্টি হয়েছিল, তা বিশেষজ্ঞরা সবটুকু নিশ্চিত করতে পারেননি।


এই সীমাবদ্ধতা তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হলো।


রাত নয়টা আট মিনিটের কাছাকাছি দোকানের ভেতরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।


দ্রেনিকের সঙ্গে যুক্ত দুই ব্যক্তি গয়নার বাক্সগুলো থেকে নির্দিষ্ট কিছু অলংকার সংগ্রহ করে।


খরভ প্রধান দরজার কাছে বাধার মুখে পড়েছিল বলে জানিয়েছিল। তার বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনার সামগ্রিক বিবরণের মিল পাওয়া গেলেও সে ডাকাতদের মুখ শনাক্ত করতে পারেনি।


ঝারুক পেছনের অংশে শব্দ শুনেছিল। পরে তার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সোরাভের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যের মিল পাওয়া যায়।


কয়েক মিনিটের মধ্যে গয়নাগুলো দোকানের পেছনের পথে বের করে নেওয়া হয়।


কেরাভের ব্যবস্থা করা ধূসর গাড়িতে সেগুলো তোলা হয়।


গাড়িটি প্রথমে শিল্পাঞ্চলের গুদামে যায়। সেখানে প্যাকেটগুলো আলাদা করে রাখা হয়।


পরদিন থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গয়নাগুলো সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়।


দ্রেনিকের প্রতিষ্ঠান কিছু গয়না গ্রহণ করে। ভরেনের কারখানায় কয়েকটি অলংকার গলানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।


কিছু গয়না নেমারের প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছিল।


তদন্তে আরও জানা গেল, চুরি যাওয়া গয়নার সবকিছু গলিয়ে ফেলা সম্ভব হয়নি। কিছু অলংকার আলাদা করে রাখা হয়েছিল, কারণ সেগুলো বিশেষ নকশার হওয়ায় দ্রুত বিক্রি করা কঠিন ছিল।


নৈরব বললেন, “এখন আমাদের কাছে ঘটনার একটি ধারাবাহিক চিত্র রয়েছে। কিন্তু প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হবে। পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, পরিবহন এবং চুরি করা সম্পদ গ্রহণ—এসবের জন্য আলাদা আলাদা প্রমাণ দরকার।”


রুদ্রেশ বললেন, “স্যার, দ্রেনিককে প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত করার মতো তথ্য আমরা পেয়েছি।”


নৈরব উত্তর দিলেন, “তথ্যগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে তারপর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।”


অধ্যায় থার্টিন.

দ্রেনিকের শেষ অস্বীকার


দ্রেনিককে আবার পুলিশ কার্যালয়ে ডাকা হলো।


এবার তার সামনে রাখা হলো গুদামের ভাড়ার নথি, ব্যাংকের লেনদেন, ভরেনের কারখানার হিসাব, নেমারের বক্তব্য এবং গয়নার শনাক্তকরণ প্রতিবেদন।


দ্রেনিক প্রথমে সবকিছুকে ব্যবসায়িক লেনদেন বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করল।


নৈরব বললেন, “আপনার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যে গয়না কেনা হয়েছে, তার উৎস সম্পর্কে আপনি পূর্ণ তথ্য দিতে পারেননি। আবার একই সময়ে ভেরাশ, কেরাভ এবং ভরেনের সঙ্গে আপনার আর্থিক যোগাযোগ রয়েছে।”


দ্রেনিক বলল, “ব্যবসায় অনেক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে। সবাইকে অপরাধী বলা যায় না।”


নৈরব বললেন, “সেটি ঠিক। তাই আমরা শুধু যোগাযোগের ওপর নির্ভর করছি না। আপনার প্রতিষ্ঠানে পাওয়া গয়নার সঙ্গে বসিম জুয়েলার্সের চুরি যাওয়া সম্পদের শনাক্তকরণ চিহ্ন মিলেছে।”


দ্রেনিক চুপ করে গেল।


নৈরব আরও বললেন, “গুদামের ভাড়া, পরিবহনের খরচ এবং গয়না প্রক্রিয়াকরণের অর্থ আপনার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হিসাব থেকে এসেছে। এই লেনদেনের ব্যাখ্যা কী?”


দ্রেনিক বলল, “আমি কিছু পুরোনো গয়না কিনেছিলাম। সেগুলো চুরি করা ছিল কি না, জানতাম না।”


“তাহলে বিক্রেতার পরিচয় ও ক্রয়ের নথি কোথায়?”


“সব নথি নেই।”


“গয়নার বিশেষ শনাক্তকরণ চিহ্ন সম্পর্কে আপনি জানতেন?”


দ্রেনিক উত্তর দিল না।


এরপর নৈরব ভেরাশের বক্তব্যের প্রাসঙ্গিক অংশ এবং কেরাভের দেওয়া তথ্য উপস্থাপন করলেন। সেগুলোর সঙ্গে স্বাধীনভাবে সংগৃহীত নথির মিল দেখানো হলো।


দ্রেনিক বুঝতে পারল, শুধু অস্বীকার করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।


তবু সে বলল, “আমি দোকানে যাইনি। গয়না নেওয়ার সময়ও সেখানে ছিলাম না।”


নৈরব বললেন, “আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগের জন্য দোকানে উপস্থিত থাকা একমাত্র শর্ত নয়। পরিকল্পনা, অর্থায়ন, সহযোগিতা এবং চুরি করা সম্পদ গ্রহণের ভূমিকা আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হবে।”


দ্রেনিক এবার জানাল, ভেরাশের মাধ্যমে সে দোকানের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা সম্পর্কে জানতে পেরেছিল। এরপর গয়না নেওয়ার পরিকল্পনা তৈরি হয়।


তবে সে দাবি করল, ডাকাতির সময় দোকানে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের পরিচয় সে জানে না।


তদন্তকারীরা এই বক্তব্যও নথিভুক্ত করলেন।


দ্রেনিকের দেওয়া নতুন তথ্যের ভিত্তিতে অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা আবার পরীক্ষা করা হলো।


অবশেষে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেল।


ডাকাতির সময় দোকানে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ছিল সোরাভ। অন্যজন ছিল ভেরাশের সঙ্গে কাজ করা দ্রেনিকের পুরোনো সহযোগী নাভের।


নাভেরের পরিচয় আগে গোপন রাখা হয়েছিল। সে একটি ভিন্ন নামে অস্থায়ী পরিবহনকর্মী হিসেবে কাজ করত।


তাকে খুঁজে বের করার জন্য বিশেষ অভিযান শুরু হলো।


অধ্যায় ফোরটিন.

নাভেরের সন্ধান


নাভের দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ঠিকানায় থাকত না। বিভিন্ন পরিবহন প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী কাজ করত। তার পরিচয়সংক্রান্ত নথিতে কয়েকটি তথ্যের অসংগতি পাওয়া গেল।


পুলিশ তার পুরোনো কর্মস্থল, পরিচিত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য পরীক্ষা করল।


একটি গুদামের কর্মী জানাল, নাভের সম্প্রতি শহরের উত্তর প্রান্তের একটি আবাসিক ভবনে অবস্থান করছিল।


সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে পাওয়া গেল।


নাভের প্রথমে নিজের পরিচয় অস্বীকার করল। কিন্তু তার পরিচয়সংক্রান্ত নথি এবং অন্য প্রমাণ মিলিয়ে তাকে শনাক্ত করা হলো।


জিজ্ঞাসাবাদে সে জানাল, সোরাভের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। তবে বসিম জুয়েলার্সের ডাকাতির সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করল।


নৈরব বললেন, “ঘটনার রাতে আপনি কোথায় ছিলেন?”


নাভের বলল, “একটি পরিবহন গুদামে।”


“সেই গুদামের অবস্থান?”


সে একটি ঠিকানা দিল।


তদন্তকারীরা ঠিকানাটি যাচাই করে দেখলেন, সেটি ডাকাতির রাতে ধূসর গাড়ির চলাচলের পথের কাছাকাছি।


নাভেরের বক্তব্যের সঙ্গে একটি ক্যামেরার ফুটেজও মিলল। সেখানে গাড়ির পাশে দাঁড়ানো একজন ব্যক্তির পোশাক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে নাভেরের পরিচিত ছবির মিল পাওয়া গেল।


ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ফুটেজের সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে জানালেন, ছবিটি একা নিশ্চিত শনাক্তকরণের জন্য যথেষ্ট নয়। তবে অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে এটি সহায়ক হতে পারে।


নাভেরের পোশাকের একটি পুরোনো ছবি সংগ্রহ করা হলো। সেটির সঙ্গে ঘটনার রাতের ফুটেজের পোশাকের মিল পরীক্ষা করা হলো।


অন্যদিকে গুদাম থেকে উদ্ধার করা একটি প্যাকেটের ওপর নাভেরের আঙুলের ছাপ পাওয়া গিয়েছিল। পরীক্ষায় সেই ছাপের সঙ্গে তার নমুনার মিল পাওয়া গেল।


তবে ছাপটি ঠিক কখন তৈরি হয়েছে, সেটি একা নির্ধারণ করা সম্ভব ছিল না।


এই তথ্যের সঙ্গে গুদামে তার উপস্থিতি, যোগাযোগ এবং অর্থপ্রাপ্তির নথি মিলিয়ে দেখা হলো।


অবশেষে নাভের স্বীকার করল, সে সোরাভের সঙ্গে বসিম জুয়েলার্সের পেছনের অংশে গিয়েছিল।


সে বলল, “আমাদের বলা হয়েছিল, কয়েক মিনিটের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। গয়না নেওয়ার পর গাড়িতে তুলে দিতে হবে।”


নৈরব জানতে চাইলেন, “কে নির্দেশ দিয়েছিল?”


নাভের বলল, “দ্রেনিক।”


“ভেরাশ কী করেছিল?”


“সে আগে থেকেই নিরাপত্তাব্যবস্থার তথ্য দিয়েছিল। কোন অংশে সমস্যা তৈরি হতে পারে, সেটিও বলেছিল।”


“আপনারা কি জানতেন, দোকানের কর্মচারীরা ভেতরে থাকবে?”


নাভের বলল, “জানতাম। তবে আমাদের বলা হয়েছিল, বাধা সৃষ্টি হলে দ্রুত সরে যেতে।”


নৈরব বললেন, “আপনি কি অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন?”


নাভের জানাল, তার কাছে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না। তবে দোকানের নিরাপত্তারক্ষীকে বাধা দেওয়ার জন্য তারা জোরপ্রয়োগ করেছিল।


তার বক্তব্যের সঙ্গে খরভের আগের বিবরণে থাকা কয়েকটি তথ্যের মিল পাওয়া গেল।


এবার ডাকাতির ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠল।


অধ্যায় ফিফটিন.

চুরি যাওয়া গয়নার উদ্ধার


নাভেরের বক্তব্যের ভিত্তিতে পুলিশ আরও কয়েকটি স্থানের তথ্য সংগ্রহ করল।


একটি পুরোনো বাণিজ্যিক ভবনের নিচতলায় ছোট একটি সংরক্ষণকক্ষ ছিল। কক্ষটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ অবস্থায় রাখা হয়েছিল। সেখানে কিছু মূল্যবান সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানতে পারলেন।


আদালতের অনুমতি নিয়ে কক্ষটি পরীক্ষা করা হলো।


ভেতরে কয়েকটি সিল করা বাক্স পাওয়া গেল।


বাক্সগুলোর ভেতরে সোনার গয়না, রুপার অলংকার এবং কিছু মূল্যবান পাথর ছিল।


বসিম জুয়েলার্সের মজুত খাতার সঙ্গে গয়নাগুলো মিলিয়ে দেখা হলো।


কয়েকটি গয়নার ভেতরে দোকানের নিজস্ব শনাক্তকরণ চিহ্ন পাওয়া গেল। কিছু গয়নার নকশা ও ওজনও চুরি যাওয়া তালিকার সঙ্গে মিলে গেল।


ফরেনসিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেল, উদ্ধার করা গয়নার একটি বড় অংশ বসিম জুয়েলার্সের।


বসিমকে পুলিশ কার্যালয়ে ডাকা হলো।


সে গয়নাগুলো দেখে কয়েকটি বিশেষ অলংকার চিনতে পারল। তার দেওয়া নথির সঙ্গে সেগুলোর পরিচয় মিলে গেল।


বসিম বলল, “এই আংটিগুলো এবং কয়েকটি নকশার হার আমাদের দোকানের ছিল। এগুলো উদ্ধার হওয়ায় অন্তত কিছু সম্পদ ফেরত পাওয়ার আশা তৈরি হলো।”


নৈরব বললেন, “সব গয়না এখনও উদ্ধার হয়নি। তবে উদ্ধার হওয়া সম্পদের পরিচয় নথিভুক্ত করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


কৌশান উদ্ধার হওয়া গয়নার একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করলেন।


তালিকায় দেখা গেল, চুরি হওয়া সম্পদের একটি অংশ অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। অন্য অংশের কয়েকটি গয়না ভেঙে আলাদা করা হয়েছে। কিছু অলংকার গলিয়ে ধাতুর আকারে পরিবর্তন করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।


কারখানা থেকে পাওয়া সোনার নমুনা পরীক্ষা করা হলো।


বসিমের দোকানের কয়েকটি গয়নার নকশা ও ধাতব গঠনের সঙ্গে নমুনাগুলোর সম্পর্ক পাওয়া গেল। তবে প্রতিটি নমুনাকে নির্দিষ্ট গয়নার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।


তদন্তকারীরা উদ্ধার হওয়া গয়না ও নমুনার মূল্য আলাদা করে নির্ধারণ করলেন।


এই পর্যায়ে চুরি হওয়া সম্পদের একটি বড় অংশের গন্তব্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তৈরি হলো।


অধ্যায় সিক্সটিন.

খরভের বিরুদ্ধে নতুন প্রশ্ন


তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়ার পর নৈরব খরভকে আবার ডেকে পাঠালেন।


আগের তদন্তে খরভ বলেছিল, সে ডাকাতদের বাধা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছিল। তবে নতুন তদন্তে জানা গেল, ঘটনার আগে সোরাভ কয়েকবার দোকানের পেছনের অংশ পর্যবেক্ষণ করেছিল।


নৈরব জানতে চাইলেন, খরভ কখনো সোরাভকে দেখেছিল কি না।


খরভ বলল, “একবার দোকানের পেছনের রাস্তার কাছে একজনকে দেখেছিলাম। তবে তখন চিনতে পারিনি।”


“ঘটনার রাতে কি একই ব্যক্তিকে দেখেছিলেন?”


“নিশ্চিত নই।”


“আপনি কি আগে থেকে জানতেন, দোকানে ডাকাতি হতে পারে?”


খরভ বলল, “না।”


নৈরব জানতে চাইলেন, ঘটনার আগে কেউ তাকে টাকা বা অন্য কোনো সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল কি না।


খরভ কিছুক্ষণ ভেবে বলল, “একবার একজন লোক দোকানের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেছিল। তবে সে কোনো টাকা দেয়নি।”


“লোকটির পরিচয়?”


“চিনতে পারিনি।”


খরভের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার আগের সাক্ষাৎকার ও যোগাযোগের তথ্য পরীক্ষা করা হলো।


কোনো আর্থিক লেনদেন বা সরাসরি সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেল না।


নৈরব বললেন, “আপনার দায়িত্বের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছিল। কিন্তু কোনো অপরাধে সহযোগিতা করেছেন কি না, সেটি প্রমাণের ভিত্তিতে দেখতে হবে।”


খরভ বলল, “আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি, সেটি তদন্তে বেরিয়ে আসুক। কিন্তু আমি ডাকাতদের সাহায্য করিনি।”


তদন্তে খরভের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত সহযোগিতার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেল না। তবে তার দায়িত্ব পালনের সময় কিছু দুর্বলতা ছিল।


এই বিষয়টি আলাদা প্রশাসনিক পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হলো।


একইভাবে ঝারুক ও দ্রাভিকের ভূমিকা পরীক্ষা করা হলো।


ঝারুকের বিরুদ্ধে ডাকাতদের সহযোগিতার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেল না।


দ্রাভিকের ব্যবহারকারী পরিচয় দিয়ে কয়েকটি প্রশাসনিক কাজ করা হলেও সে যে ডাকাতির পরিকল্পনায় অংশ নিয়েছিল, এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।


তার অবহেলার বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হলো। কিন্তু সেই অবহেলাকে ডাকাতিতে অংশগ্রহণের সমতুল্য হিসেবে দেখানো হলো না।


অধ্যায় সেভেনটিন.

আদালতের সামনে প্রমাণের নতুন ধারাবাহিকতা


নতুন তদন্তে সংগৃহীত তথ্যগুলো আদালতে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হলো।


তদন্তকারী দল প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা আলাদা করে সাজাল।


ভেরাশের বিরুদ্ধে ছিল নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত দুর্বলতা কাজে লাগানোর প্রস্তুতি এবং অপরাধের আগে ও পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ।


দ্রেনিকের বিরুদ্ধে ছিল পরিকল্পনার অর্থায়ন, গুদাম ভাড়া, পরিবহনের খরচ, চুরি করা গয়না গ্রহণ এবং বিক্রির ব্যবস্থা করার তথ্য।


কেরাভের বিরুদ্ধে ছিল পরিবহনের ব্যবস্থা, গাড়ির ব্যবহার এবং গুদামের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ।


সোরাভ ও নাভেরের বিরুদ্ধে ছিল দোকানের পেছনের অংশে উপস্থিতি, গয়না সরিয়ে নেওয়ার কাজে অংশগ্রহণ এবং অন্যান্য সাক্ষ্য ও প্রযুক্তিগত তথ্য।


ভরেনের বিরুদ্ধে ছিল চুরি করা গয়না প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা করার অভিযোগ।


নেমারের ভূমিকা আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হলো। তার প্রতিষ্ঠানে কিছু গয়না পাওয়া গেলেও তিনি অপরাধের পরিকল্পনায় অংশ নিয়েছিলেন কি না, সেটি নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন ছিল।


তদন্তকারী দল কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে শুধু অন্যের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে অভিযোগ তৈরি করল না।


প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস, সংগ্রহের তারিখ, সংরক্ষণের পদ্ধতি এবং পরীক্ষার ফল নথিভুক্ত করা হলো।


ডিজিটাল রেকর্ডের মূল কপি ও পরীক্ষিত অনুলিপি আলাদা করে রাখা হলো। ব্যাংকের নথি প্রত্যয়িতভাবে সংগ্রহ করা হলো। গয়নার শনাক্তকরণ প্রতিবেদন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হলো।


আদালতে প্রাথমিক শুনানির সময় নৈরব তদন্তের ধারাবাহিকতা ব্যাখ্যা করলেন।


তিনি বললেন, “এই মামলায় প্রথম তদন্তের সময় সন্দেহের কেন্দ্র ছিল দোকানের মালিক এবং কর্মচারীরা। কিন্তু নতুন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঘটনার আগে বাইরের একটি প্রযুক্তিসেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। এরপর পরিবহন, গুদাম এবং গয়না প্রক্রিয়াকরণের জন্য আলাদা ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল।”


বিচারক জানতে চাইলেন, “আপনারা কি সব অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সমান ধরনের প্রমাণ পেয়েছেন?”


নৈরব উত্তর দিলেন, “না। প্রত্যেকের ভূমিকা আলাদা। তাই প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আলাদা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে।”


আদালত নথি গ্রহণ করলেন এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করলেন।


অধ্যায় এইটটিন.

সাক্ষীদের নতুন জেরা


আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলে প্রথমে প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ ইরাভিনকে ডাকা হলো।


তিনি ক্যামেরার রেকর্ড, সময়ের পার্থক্য, মূল তথ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি এবং পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করলেন।


অভিযোগপক্ষ জানতে চাইল, দোকানের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ইচ্ছাকৃত হস্তক্ষেপের কোনো চিহ্ন পাওয়া গেছে কি না।


ইরাভিন বললেন, “কিছু প্রযুক্তিগত অসংগতি পাওয়া গেছে। সেগুলোকে সাধারণ যন্ত্রের ত্রুটি বলে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায়নি। তবে রেকর্ডের প্রতিটি অনুপস্থিত অংশের কারণ নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।”


প্রতিরক্ষা পক্ষ জানতে চাইল, “আপনি কি বলতে পারেন, ভেরাশ নিজে ক্যামেরার রেকর্ড বন্ধ করেছিল?”


ইরাভিন বললেন, “শুধু প্রযুক্তিগত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সেটি নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে ভেরাশের কাজের নথি, তার প্রবেশাধিকার এবং অন্যান্য তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।”


এরপর আর্থিক নথি বিশ্লেষক কৌশান সাক্ষ্য দিলেন।


তিনি ব্যাংকের লেনদেন, গুদামের ভাড়া, পরিবহনের খরচ এবং গয়না কেনাবেচার হিসাব ব্যাখ্যা করলেন।


প্রতিরক্ষা পক্ষ জানতে চাইল, “একই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হলেই কি অপরাধ প্রমাণিত হয়?”


কৌশান উত্তর দিলেন, “না। শুধু লেনদেন যথেষ্ট নয়। এখানে লেনদেনের সময়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়, পণ্যের উৎস এবং অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে মিল পরীক্ষা করা হয়েছে।”


এরপর কেরাভ সাক্ষ্য দিল।


সে জানাল, ভেরাশের নির্দেশে গাড়ি ও গুদামের ব্যবস্থা করেছিল। ডাকাতির রাতে ধূসর গাড়িতে গয়না পরিবহন করা হয়েছিল।


প্রতিরক্ষা পক্ষ তার বক্তব্যের আগের অসংগতি তুলে ধরল।


কেরাভ স্বীকার করল, প্রথমবার সে সম্পূর্ণ তথ্য দেয়নি।


সে বলল, “আমি ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু পরে বুঝেছি, তথ্য গোপন করলে তদন্ত আরও জটিল হবে।”


এরপর নেমার ও ভরেনের সাক্ষ্য নেওয়া হলো।


তাদের বক্তব্যের সঙ্গে উদ্ধার করা গয়না, কারখানার নমুনা এবং ব্যবসায়িক নথির মিল পরীক্ষা করা হলো।


বসিমও সাক্ষ্য দিল।


সে চুরি যাওয়া গয়নার তালিকা, বিশেষ শনাক্তকরণ চিহ্ন এবং দোকানের মজুতের হিসাব সম্পর্কে আদালতকে জানাল।


আর জে চৌধুরী বসিমকে কয়েকটি প্রশ্ন করলেন।


“আপনার দোকানের গয়না কি উদ্ধার হওয়া সম্পদের সঙ্গে মিলে গেছে?”


বসিম বলল, “হ্যাঁ। কয়েকটি গয়নার বিশেষ চিহ্ন, নকশা এবং ওজন আমাদের নথির সঙ্গে মিলেছে।”


“আপনি কি নতুন তদন্তের সময় কোনো নথি পরিবর্তন করেছেন?”


“না। পুরোনো নথির মূল কপি জমা দিয়েছি। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সেটি আলাদাভাবে যুক্ত করা হয়েছে।”


আর জে চৌধুরী বললেন, “আপনার বিরুদ্ধে আগের মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। এই নতুন মামলায় আপনার ভূমিকা কী?”


বসিম উত্তর দিল, “আমি শুধু চুরি যাওয়া সম্পদের মালিকানা ও পরিচয় সম্পর্কে তথ্য দিয়েছি। প্রকৃত ডাকাতদের শনাক্ত করার কাজ তদন্তকারীদের।”


আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ চালিয়ে গেল।


অধ্যায় নাইনটিন.

রায়ের আগে শেষ পরীক্ষা


আদালতের চূড়ান্ত শুনানির আগে নৈরব তদন্তের সমস্ত নথি আবার পরীক্ষা করলেন।


তিনি বিশেষভাবে নিশ্চিত হতে চাইলেন, কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অন্য ব্যক্তির স্বীকারোক্তি ছাড়া স্বাধীন প্রমাণ আছে কি না।


ভেরাশের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিগত কাজের নথি, অর্থপ্রাপ্তি, গুদামের যোগাযোগ এবং পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য তথ্য ছিল।


দ্রেনিকের বিরুদ্ধে অর্থায়ন, গয়না গ্রহণ, গুদামের ব্যবস্থা এবং বিক্রির নথি ছিল।


কেরাভের বিরুদ্ধে পরিবহন ও গুদামের তথ্য ছিল।


সোরাভ ও নাভেরের বিরুদ্ধে উপস্থিতি, গয়না সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রমাণ এবং অন্যান্য সাক্ষ্য ছিল।


ভরেনের বিরুদ্ধে কারখানায় গয়না প্রক্রিয়াকরণের নথি, নমুনা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক যোগাযোগ ছিল।


তবে সব অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রমাণ ছিল না। তাই প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অভিযোগের মাত্রা আলাদা করে নির্ধারণ করা হলো।


নৈরব বললেন, “আমাদের তদন্তে কোনো ফাঁক থাকলে সেটি গোপন করা যাবে না। যে অংশ নিশ্চিত, সেটি নিশ্চিত হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে। যে অংশে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেটিও আদালতকে জানাতে হবে।”


রুদ্রেশ বললেন, “স্যার, এবার অন্তত ডাকাতির মূল পরিকল্পনা ও সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার পথ পরিষ্কার হয়েছে।”


নৈরব উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ। কিন্তু আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তদন্তের ফল আর বিচারিক সিদ্ধান্ত এক বিষয় নয়।”


চূড়ান্ত শুনানিতে অভিযোগপক্ষ পুরো পরিকল্পনার বিবরণ উপস্থাপন করল।


প্রতিরক্ষা পক্ষ প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রমাণের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরল। কয়েকটি ক্ষেত্রে তারা প্রযুক্তিগত তথ্যের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলল। কিছু সাক্ষীর বক্তব্যের অসংগতি দেখাল।


আর জে চৌধুরী আদালতে বললেন, “এই মামলায় বসিম জুয়েলার্সের ডাকাতির ঘটনা এবং বসিমের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগকে এক করে দেখা যাবে না। আগের মামলায় বসিমের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। নতুন তদন্তে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য যে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে, সেগুলো আলাদাভাবে বিচার করা প্রয়োজন।”


তিনি আরও বললেন, “কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি হওয়া এবং তার অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত প্রমাণ পৃথকভাবে বিবেচনা করা উচিত।”


বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করলেন।


অধ্যায় টোয়েন্টি.

প্রকৃত ডাকাতদের পরিচয়


রায় ঘোষণার দিন আদালতকক্ষে বসিম উপস্থিত ছিল। তার পাশে ছিলেন আর জে চৌধুরী। তদন্তকারী নৈরব সেন এবং তার দলের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।


অভিযুক্তদের আইনজীবীরা নিজেদের মক্কেলদের পক্ষে অবস্থান নিলেন।


বিচারক মামলার নথি, সাক্ষ্য, ডিজিটাল তথ্য, আর্থিক লেনদেন, ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং জেরার উত্তর বিবেচনা করে রায় পড়তে শুরু করলেন।


রায়ে বলা হলো, বসিম জুয়েলার্সে ডাকাতির ঘটনাটি নতুন তদন্তে আরও বিস্তারিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।


তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, ডাকাতির আগে ভেরাশ কুণ্ডু দোকানের নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিল। সেই তথ্য ব্যবহার করে অপরাধের পরিকল্পনায় প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করা হয়েছিল।


দ্রেনিক সাউ পরিকল্পনার অর্থায়ন এবং চুরি করা গয়না গ্রহণ ও বিক্রির ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল।


কেরাভ মণ্ডল পরিবহন ও গুদামের ব্যবস্থা করেছিল।


সোরাভ এবং নাভের ডাকাতির রাতে দোকানের পেছনের অংশে উপস্থিত থেকে গয়না সরিয়ে নেওয়ার কাজে অংশ নিয়েছিল।


ভরেনের কারখানায় চুরি করা গয়নার একটি অংশ প্রক্রিয়াকরণের জন্য নেওয়া হয়েছিল।


আদালত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত প্রমাণ আলাদাভাবে পরীক্ষা করলেন।


যাদের বিরুদ্ধে অপরাধে সরাসরি অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাদের দায় নির্ধারণ করা হলো। অন্যদিকে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সব উপাদান প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে প্রমাণের সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করা হলো।


রায়ে আরও বলা হলো, কেবল পরিচিতি, যোগাযোগ অথবা কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকার কারণে কাউকে অপরাধী বলা যায় না। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অপরাধের সঙ্গে নির্দিষ্ট যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।


বিচারক বললেন, “এই মামলায় অপরাধীরা দোকানের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা সম্পর্কে আগে থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছিল। এরপর পরিকল্পিতভাবে গয়না সরিয়ে নেওয়া এবং সেগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করেছিল। তদন্তে সংগৃহীত স্বাধীন প্রমাণের সঙ্গে সাক্ষ্য ও আর্থিক নথির মিল পাওয়া গেছে।”


রায়ের একটি অংশে উদ্ধার হওয়া গয়না যথাযথ যাচাই ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত মালিক বসিমের কাছে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।


বসিম দীর্ঘশ্বাস ফেলল।


এবার তার কাছে শুধু নিজের নির্দোষতার রায় নয়, দোকানের গয়না চুরির প্রকৃত ঘটনারও একটি ব্যাখ্যা ছিল।


আর জে চৌধুরী বললেন, “আপনার বিরুদ্ধে আগের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। এবার প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে নতুন তদন্তে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দুটি বিষয় আলাদা রেখেই বিচার সম্পন্ন হয়েছে।”


বসিম বলল, “আমি শুধু চেয়েছিলাম, যারা সত্যিকার অর্থে অপরাধ করেছে, তাদের পরিচয় বেরিয়ে আসুক।”


অধ্যায় টোয়েন্টি ওয়ান.

ফেরত পাওয়া সম্পদ


আদালতের নির্দেশ অনুসারে উদ্ধার হওয়া গয়নার তালিকা আবার পরীক্ষা করা হলো।


বসিম জুয়েলার্সের মজুত খাতা, কেনার রসিদ এবং বিশেষ শনাক্তকরণ চিহ্নের সঙ্গে প্রতিটি গয়না মিলিয়ে দেখা হলো।


যেসব গয়নার মালিকানা নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলো ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলো।


বসিম দোকানে ফিরে গয়নাগুলো গ্রহণ করল।


তবে সব সম্পদ উদ্ধার হয়নি।


কিছু গয়না গলিয়ে ফেলা হয়েছিল। কিছু গয়নার অংশ অন্য পণ্যের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কয়েকটি পাথর ও অলংকারের পৃথক অংশের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।


তদন্তকারীরা উদ্ধার হওয়া সম্পদ এবং অবশিষ্ট ক্ষতির হিসাব আলাদা করে প্রস্তুত করলেন।


বসিম বলল, “সবকিছু ফেরত পাওয়া সম্ভব না হলেও অন্তত প্রকৃত ঘটনা জানা গেল। আগে আমার দোকানের নামের সঙ্গে অপরাধের অভিযোগ জড়িয়ে গিয়েছিল। এখন প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত অপরাধীদের পরিচয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”


নৈরব বললেন, “তদন্তের উদ্দেশ্য শুধু অপরাধী শনাক্ত করা নয়। ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে, সেই ব্যবস্থাও তৈরি করা প্রয়োজন।”


বসিম দোকানের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও উন্নত করল।


নতুন ক্যামেরা বসানো হলো। সব যন্ত্রের সময় একই ব্যবস্থায় সমন্বয় করা হলো। নিরাপত্তাব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিভিত্তিক প্রবেশাধিকার চালু করা হলো।


প্রতিটি কর্মচারীর কাজের সময় ও প্রবেশের তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলো।


হিসাবের খাতায় কোনো পরিবর্তন করা হলে তার কারণ, তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হলো।


নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণও এখন থেকে স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা হবে।


বসিম সিদ্ধান্ত নিল, ভবিষ্যতে কোনো প্রযুক্তিসেবা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার আগে তাদের কর্মীদের পরিচয়, কাজের পরিধি এবং দায়িত্ব লিখিতভাবে নির্ধারণ করতে হবে।


দোকানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করল।


অধ্যায় টোয়েন্টি টু.

অপূর্ণ তদন্তের শেষ নথি


মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর নৈরব সেন তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করলেন।


প্রতিবেদনে ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব তথ্য ধারাবাহিকভাবে লেখা হলো।


প্রথম তদন্তে বসিমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছিল, তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন।


পরবর্তী তদন্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করতে আসা ভেরাশের ভূমিকা, দ্রেনিকের পরিকল্পনা, কেরাভের পরিবহনব্যবস্থা, সোরাভ ও নাভেরের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং ভরেনের কারখানায় গয়না প্রক্রিয়াকরণের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।


গুদাম থেকে উদ্ধার হওয়া নথি, ব্যাংকের লেনদেন, ক্যামেরার রেকর্ড, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সাক্ষীদের বক্তব্য একত্রে বিশ্লেষণ করে অপরাধের ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।


প্রতিবেদনে খরভ, দ্রাভিক ও ঝারুকের ভূমিকা সম্পর্কেও পৃথক সিদ্ধান্ত লেখা হলো। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতিতে ইচ্ছাকৃত অংশগ্রহণের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাজের কিছু দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছিল।


নৈরব প্রতিবেদনের শেষ অংশে লিখলেন, তদন্তে পাওয়া প্রতিটি তথ্যের সীমাবদ্ধতা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো অনুমানকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি।


রুদ্রেশ প্রতিবেদনটি পড়ে বললেন, “স্যার, প্রথম তদন্তের সময় আমরা দোকানের ভেতরের কয়েকজনকে ঘিরে প্রশ্ন করেছিলাম। কিন্তু প্রকৃত পরিকল্পনাটি ছিল দোকানের বাইরে তৈরি।”


নৈরব বললেন, “অপরাধের স্থান আর অপরাধের পরিকল্পনার স্থান সব সময় এক হয় না। অনেক সময় ঘটনাস্থলে যা দেখা যায়, সেটি শুধু পরিকল্পনার শেষ অংশ।”


ইরাভিন বললেন, “প্রযুক্তিগত তথ্যগুলোও এবার আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলে ক্যামেরার বিরতি নিয়ে আগের অস্পষ্টতা অনেকটাই কমেছে।”


কৌশান বললেন, “আর্থিক লেনদেনের ধারাবাহিকতা না পেলে গয়না কোথায় গেছে, সেটি বোঝা কঠিন হতো।”


নৈরব উত্তর দিলেন, “প্রতিটি তথ্য অন্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার কারণেই তদন্ত এগিয়েছে।”


প্রতিবেদনটি কেন্দ্রীয় পুলিশ প্রশাসনে জমা দেওয়া হলো।


পাঁচপুকুর বাজারে আবার স্বাভাবিক ব্যবসা শুরু হয়েছে। বসিম জুয়েলার্সের সামনে সন্ধ্যায় নিয়ন আলো জ্বলে ওঠে। ক্রেতারা দোকানে আসেন। কর্মচারীরা আগের মতো কাজ করেন।


তবে বসিম এখন আর শুধু দোকানের হিসাবের ওপর নির্ভর করে না। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন, মজুত এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে।


একদিন সন্ধ্যায় আর জে চৌধুরী দোকানে এলেন।


বসিম তাকে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখাল।


আর জে চৌধুরী বললেন, “আগের ঘটনায় আপনার ব্যবসা, সম্মান এবং সময়—সবকিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু এবার তদন্তের ফল সামনে এসেছে।”


বসিম বলল, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভিযোগ আর প্রমাণ যে এক নয়, সেটি এবার সবাই বুঝেছে। প্রথমে আমাকে সন্দেহ করা হয়েছিল। পরে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা গেছে।”


আর জে চৌধুরী বললেন, “কোনো অপরাধের বিচার শুধু একজনকে নির্দোষ প্রমাণ করার মধ্যে শেষ হয় না। প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করা, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ উদ্ধার করা এবং ভবিষ্যতের জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করাও গুরুত্বপূর্ণ।”


বসিম মাথা নাড়ল।


দোকানের কাচের দেয়ালে নিয়ন আলো প্রতিফলিত হচ্ছিল। সেই আলোর নিচে এবার আর কোনো অসমাপ্ত প্রশ্ন রইল না।


প্রথম তদন্তে যে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি, নতুন তদন্তে তার উত্তর বেরিয়ে এসেছে। ডাকাতির পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, পরিবহন, গুদাম এবং চুরি করা গয়না বিক্রির পথ—সবকিছু প্রমাণের ভিত্তিতে উন্মোচিত হয়েছে।


পাঁচপুকুরের মানুষ এবার বুঝতে পারল, অপরাধের প্রকৃত চিত্র অনেক সময় প্রথম দেখায় বোঝা যায় না। কোনো ব্যক্তিকে সন্দেহ করা সহজ, কিন্তু অপরাধের সঙ্গে তার সম্পর্ক প্রমাণ করা কঠিন। আর সেই কঠিন কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, নির্ভরযোগ্য নথি এবং প্রমাণের ধারাবাহিকতা।


বসিম জুয়েলার্সের নিয়ন আলো আবার আগের মতো জ্বলতে থাকল।


কিন্তু এবার সেই আলোর আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধকারের পরিচয়ও প্রকাশিত হয়েছে।(সমাপ্ত) ©️All Right Reserved by Junayed Ashrafur Rahman




24°33'58.6"N 90°41'30




My home Location ✒ https://goo.gl/maps/RoKi3ekrhkm5PAHPA , But I don't live here. Rented out to other peo




Nandail Municipality, Mymensingh, Banglad




Junayedmn1@gmail




My Writings ✒ https://www.blogger.com/profile/1173462471832872




702) My success in writing. (লেখালেখিতে আমার সাফল্য।) – Written by Junayed Ashrafur Rahman ✒ https://literatureforalljunayedmn1.blogspot.com/2023/06/702-my-success-in-writing-written-by.




707)After the fantasy of ministry.(মন্ত্রিত্বের ফ্যান্টাসির পরে।)– Written by Junayed Ashrafur Rahman ✒ https://mytimemyexperiencesjunayedmn1.blogspot.com/2023/06/707after-fantasy-of-ministry-written-by.




637)Win prizes.(পুরস্কার জিতুন।) - Written by Junayed Ashrafur ✒  https://literatureforalljunayedmn1.blogspot.com/2022/10/637win-prizes-written-by-junayed.




667)Case against AI ChatGPT. (এআই চ্যাট জিপিটির বিরুদ্ধে মামলা।) – Written by Junayed Ashrafur Rahman ✒ https://lawforjusticejunayedmn1.blogspot.com/2023/02/667case-against-chat-gpt-written-by.html  http://ow.ly/Zawy104


#Intellectualproperty #Literature #Law #Contract #Writing #Wisd omu7kOhtmlhtmlhtml3069.comesh.ple..4"E

Popular posts from this blog

838) (Story_52) One day for the police inspector. (দারোগার একদিন।) _ Written by Junayed Ashrafur Rahman

821)(Story_50) Bairam Khan. (বৈরাম খাঁ।) _ Written by Junayed Ashrafur Rahman

583)(Story-26-19)Militant bases. (জঙ্গি ঘাঁটি।) - Written by Junayed Ashrafur Rahman ✒