(847)(Story_60) The Independent Candidate. (স্বতন্ত্র প্রার্থী।) _ Written by Junayed Ashrafur Rahman
(847)(Story_60) The Independent Candidate. (স্বতন্ত্র প্রার্থী।) _ Written by Junayed Ashrafur Rahman https://mywritingsjunayedmn1.blogspot.com/2019/12/about-me-junayed-ashrafur-rahman.html ✒
অধ্যায় ওয়ান.
২১টি মামলার ভার
সদরপুরের রাজনীতি মানেই একটি নাম—টেমল মিয়া। বয়স ৫০ বছর। গত ২০ বছর ধরে দলের জন্য কাজ করছেন তিনি।
বিগত ১০ বছরে দলের কাজে সবচেয়ে বেশি সময় দিয়েছেন টেমল। মিছিল, মিটিং, ত্রাণ বিতরণ, সালিশ—সব জায়গায় তাঁকে সামনে দেখা গেছে। দলের প্রয়োজনে ছুটে গেছেন মানুষের কাছে। নিজের সুবিধার কথা না ভেবে কাজ করেছেন দিনের পর দিন।
বিনিময়ে কপালে জুটেছে ২১টি মামলা। এর মধ্যে ১৯টি ছিল তাঁর (তিনির) দাবি অনুযায়ী সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক হয়রানিমূলক। বাকি দুটি মামলায়ও কিছু অভিযোগ ছিল, কিন্তু সেগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
পুলিশের চক্কর, আদালতের বারান্দায় দিনের পর দিন অপেক্ষা এবং আইনজীবীর ফি দিতে গিয়ে নিজের জমানো আট লাখ টাকা শেষ করেছেন টেমল। শেষ পর্যন্ত বাবার রেখে যাওয়া ২০ শতাংশ জমিও বিক্রি করেছেন।
তবু দল ছাড়েননি। কেউ দল ছাড়ার পরামর্শ দিলে তিনি বলতেন, "দল মা-এর মতো। মা বকা দিলেও ছাড়া যায় না।"
দলের প্রতি টেমলের এই ভালোবাসা নিয়ে এলাকায় অনেক আলোচনা হতো। কেউ তাঁর ত্যাগের প্রশংসা করত। কেউ আবার প্রশ্ন তুলত, এত কিছু দেওয়ার পরও দল তাঁকে মূল্যায়ন না করলে তিনি কেন সেই দলের সঙ্গে পড়ে থাকবেন?
এসব কথা শুনেও টেমল নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, একদিন দল তাঁর দীর্ঘদিনের শ্রম ও ত্যাগের মূল্যায়ন করবে।
অধ্যায় টু.
মনোনয়নের আঘাত
এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সদরপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সবার ধারণা ছিল, এবার দলের মনোনয়ন টেমল মিয়াই পাবেন। কারণ, তৃণমূলের প্রায় প্রতিটি কর্মী তাঁকে চেনে। এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে তাঁকে পাশে পাওয়া গেছে বছরের পর বছর।
কিন্তু কেন্দ্র থেকে মনোনয়নের তালিকা প্রকাশের পর সেই ধারণা ভেঙে গেল। দলের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হলো রাশেদের। বয়স ৩৫ বছর। ঢাকায় ব্যবসা করেন। এলাকায় বছরে দুবার আসেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘদিনের কোনো উল্লেখযোগ্য অবদানও ছিল না।
খবরটা শুনে টেমলের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। সারাদিন নিজের দোকানে বসে রইলেন। কারও সঙ্গে কথা বললেন না।
যে দলের জন্য জীবনের ২০টি বছর ব্যয় করেছেন, যে দলের মামলা সামলাতে গিয়ে নিজের সঞ্চয় ও জমি হারিয়েছেন, সেই দল তাঁকে প্রার্থী হিসেবে যোগ্য মনে করল না।
টেমলের মনে প্রশ্ন জাগল, দলের জন্য এত কিছু করার পরও কি তাঁর কোনো মূল্য নেই? তৃণমূলের মানুষের ভালোবাসা কি কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে গুরুত্বহীন?
সেদিন রাতে বাড়ি ফিরেও শান্তি পেলেন না তিনি। দীর্ঘদিনের ত্যাগের বিনিময়ে মনোনয়ন না পাওয়ার কষ্ট তাঁকে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করল।
অধ্যায় থ্রি.
কর্মীর সান্ত্বনা
সন্ধ্যায় কর্মী জামাল এসে টেমলের পাশে বসল।
জামাল বলল, "নেতা, মন খারাপ করবেন না। আপনি বাতাসে উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। আপনার বাপ-দাদার কবর এই মাটিতে। এই এলাকার যত দেন-দরবার, স্কুলের সমস্যা, রাস্তার কাজ—আপনার বাপ-দাদাই সমাধান করেছে।"
একটু থেমে সে আবার বলল, "শুধু দলের জন্য না, মানুষের জন্যও আপনি কাজ করেছেন। মানুষ সেটা ভুলে নাই। দল মনোনয়ন না দিক, জনগণ আপনাকে ভোট দিবে।"
টেমল নীরবে জামালের কথা শুনলেন।
কিছুক্ষণ পর একে একে ২০-২৫ জন নেতাকর্মী সেখানে জড়ো হলো। সবার মুখে হতাশা। দীর্ঘদিনের নেতাকে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারা সহজে মেনে নিতে পারছিল না।
সবাই একসঙ্গে বলল, "নেতা, আমরা আপনার সাথে আছি।"
টেমল তাঁদের দিকে তাকালেন। এত দিন দলের ওপর ভরসা রেখেছেন। আজ কর্মীদের কথায় বুঝতে পারলেন, দলের বাইরে তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক সমর্থনও রয়েছে।
তিনি বললেন, "তোমাদের ভালোবাসা আমি ভুলব না। তবে আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। আমাদের ভালোভাবে চিন্তা করতে হবে।"
জামাল বলল, "নেতা, চিন্তা করেন। কিন্তু নিজের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ করবেন না।"
সেদিনের আলোচনা টেমলের মনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিল। তবে তিনি জানতেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া মানে শুধু দলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করা নয়; নির্বাচনে জয়ী হলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্বও নিতে হবে।
অধ্যায় ফোর.
স্বতন্ত্রের ঘোষণা
পরের দিনও টেমলের দোকানে কর্মী ও সমর্থকদের ভিড় জমল। সবাই জানতে চাইল, তিনি শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবেন।
টেমল সবার কথা শুনলেন। কেউ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আবার আলোচনা করার পরামর্শ দিল। কেউ বলল, দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়ানো উচিত।
সব দিক বিবেচনা করে টেমল বললেন, "আপনাদের কারণে আমার হারানো মনোবল ফিরে পেয়েছি। দল আমাকে মূল্যায়ন না করলে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করব। দলকে ভালোবাসি, কিন্তু আত্মসম্মান বড়।"
ঘোষণাটি দ্রুত সারা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ল।
কেউ তাঁর সিদ্ধান্তকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখল। কেউ আশঙ্কা করল, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়ালে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে।
টেমলও ঝুঁকির বিষয়টি বুঝতেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ালে দলের সমর্থন হারানোর আশঙ্কা ছিল। নির্বাচনী ব্যয়, প্রচার এবং ভোটারদের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরার দায়িত্বও তাঁকেই নিতে হবে।
তবু সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আর পিছিয়ে গেলেন না। কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করলেন। তাঁর মূল বক্তব্য ছিল, তিনি দলের প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে নয়, নিজের রাজনৈতিক যোগ্যতা ও এলাকার মানুষের সমর্থনের ওপর ভরসা করে নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন।
অধ্যায় ফাইভ.
জনগণের রায়
নির্বাচনের দিন সদরপুরে সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি দেখা গেল। ভোটকেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ সারি। বৃদ্ধ, যুবক, নারী—বিভিন্ন বয়সের মানুষ ভোট দিতে এলেন।
টেমল ও তাঁর কর্মীরা ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। কিন্তু এ দিনের অপেক্ষা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোট গণনার খবর আসতে শুরু করল। দুই প্রার্থীর সমর্থকেরাই ফলাফল জানার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
রাত ১২টার দিকে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হলো। ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন টেমল মিয়া। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
খবরটি শুনে কর্মীদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ল। জামাল ছুটে এসে তাঁকে অভিনন্দন জানাল। অন্যরাও এগিয়ে এল।
টেমল সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। দলের মনোনয়ন না পেলেও জনগণ তাঁকে নির্বাচিত করেছে। তবে এই বিজয়কে তিনি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখলেন না। তাঁর কাছে এটি ছিল এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব গ্রহণ।
শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সামনে টেমল বললেন, "আমি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু আমার আদর্শ, আমার ভালোবাসা দলের সাথেই আছে। সংসদে আমি স্বতন্ত্র সদস্য, কিন্তু মনটা দলের।"
তাঁর বক্তব্যে দলীয় সমর্থকদের কেউ আশ্বস্ত হলো, কেউ আবার ভাবতে শুরু করল, টেমল ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক পথে এগোবেন।
টেমল নিজেও জানতেন, নির্বাচনে জয়ী হওয়া আর এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করা এক বিষয় নয়। এখন তাঁর কাজের মূল্যায়ন হবে জনগণের সমস্যার সমাধানে তিনি কতটা ভূমিকা রাখতে পারেন, তার ভিত্তিতে।
অধ্যায় সিক্স.
বাজেটের শূন্যতা
শপথ গ্রহণের এক মাস কেটে গেল। কিন্তু সদরপুরের উন্নয়ন নিয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হলো না। রাস্তা আগের মতোই ভাঙাচোরা। প্রয়োজনীয় ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। স্কুলগুলোর সমস্যাও রয়ে গেছে।
এলাকার মানুষ টেমলের কাছে এসে প্রশ্ন করতে শুরু করল।
কেউ বলল, "আপনাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছি এলাকার উন্নয়নের জন্য। কাজ কবে শুরু হবে?"
কেউ জানতে চাইল, "রাস্তার কাজের বরাদ্দ কি পাওয়া গেছে?"
টেমল তাঁদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রস্তাব তৈরি, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তা পাঠানো, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করার মতো একাধিক ধাপ রয়েছে। শুধু সংসদ সদস্য হলেই এসব কাজ সরাসরি নিজের সিদ্ধান্তে সম্পন্ন করা যায় না।
অবশেষে সংসদে দাঁড়িয়ে নিজের এলাকার সমস্যাগুলো তুলে ধরলেন তিনি।
"মাননীয় স্পিকার, আমার এলাকা সদরপুরে কোনো উন্নয়ন বাজেট নাই। মানুষ কষ্টে আছে। একটি বড় বরাদ্দ দরকার।"
তিনি রাস্তা, ব্রিজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থার কথা তুলে ধরলেন। এলাকার মানুষের দুর্ভোগের বিষয়েও বক্তব্য দিলেন।
কিন্তু বক্তব্য দেওয়ার পরও সঙ্গে সঙ্গে কোনো বরাদ্দ পাওয়া গেল না। উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব ও সংশ্লিষ্ট ফাইলের অগ্রগতি নিয়েও তিনি প্রত্যাশিত খবর পেলেন না।
টেমল বুঝতে পারলেন, শুধু সংসদে বক্তব্য দিলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা, প্রকল্পের কাগজপত্র, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং বাজেট প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর দায়িত্ব কমেনি। বরং এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করতে হলে তাঁকে আরও সংগঠিতভাবে এগোতে হবে।
অধ্যায় সেভেন.
কঠিন বাস্তবতা
একদিন সংসদের আরেক সদস্য টেমলকে ডেকে পাশে বসালেন। কিছুক্ষণ কথা বলার পর তিনি বললেন, "টেমল ভাই, আপনি নিজে নিজে এমপি হয়েছেন। এখন নিজেই নিজের এলাকার উন্নয়ন করেন।"
কথাটি শুনে টেমল অবাক হলেন। তিনি জবাব দিলেন, "ভাই, আমি কেন নিজের পকেটের টাকায় করব? সরকারের বাজেট আছে, সেটা জনগণের। আমি চাইলে স্বতন্ত্র হতে পারি, কিন্তু উন্নয়নের দায়িত্ব তো রাষ্ট্রের।"
ওই সংসদ সদস্য বললেন, "তাহলে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গেলেন কেন?"
টেমল বললেন, "২০ বছর শ্রম দিয়েছি। যোগ্য ছিলাম। দল বোঝেনি। তাই জনগণের কাছে গেছি। জনগণ আমাকে জিতিয়েছে।"
কথোপকথনটি টেমলের মনে গভীর প্রভাব ফেলল। তিনি বুঝতে পারলেন, দলের মনোনয়ন না পাওয়ার প্রতিবাদে নির্বাচনে দাঁড়ানো আর নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া আলাদা বিষয়।
তবে একটি বিষয়ে তিনি নিশ্চিত ছিলেন—এলাকার উন্নয়ন নিজের পকেটের টাকায় করার দায়িত্ব তাঁর নয়। জনগণের জন্য সরকারি বরাদ্দ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া, প্রয়োজনীয় প্রকল্পের প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়া এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা একজন জনপ্রতিনিধির কাজ।
দলীয় সমর্থন থাকলে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক যোগাযোগ সহজ হতে পারে। কিন্তু স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বলেই উন্নয়ন অসম্ভব—এমন ধারণাও সঠিক নয়।
টেমল বুঝলেন, তাঁর সামনে কাজের পথ রয়েছে। সেই পথে এগোতে হলে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, তথ্য, পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক যোগাযোগ প্রয়োজন।
অধ্যায় এইট.
আত্মজিজ্ঞাসা
বাড়ি ফিরে টেমলের মন খারাপ হয়ে গেল। নির্বাচনে জয়ের পর যে আশাবাদ নিয়ে তিনি কাজ শুরু করেছিলেন, বাস্তব পরিস্থিতি তাঁর প্রত্যাশার সঙ্গে মিলছিল না।
এলাকার উন্নয়ন নিয়ে মানুষের প্রশ্ন বাড়ছিল। সংসদে বক্তব্য দিয়েও প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছিলেন না।
একসময় এলাকার প্রবীণ নেতা করিম চাচার সঙ্গে দেখা করলেন টেমল। পাশে বসে বললেন, "চাচা, স্বতন্ত্র হয়ে কী লাভ হলো? না পারছি উন্নয়ন করতে, না পারছি সংসদে জোরে কথা বলতে।"
করিম চাচা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "এটা আগে বুঝলে আমরাও তোমারে উৎসাহ দিতাম না বাপ।"
কথাটি শুনে টেমল নীরব হয়ে গেলেন।
করিম চাচার কথায় হতাশা ছিল, কিন্তু সেটিই পুরো সত্য নয়। স্বতন্ত্র হওয়ায় টেমলের দায়িত্ব পালনের পথ কিছু ক্ষেত্রে কঠিন হতে পারে। তবে উন্নয়নের জন্য তাঁর হাতে থাকা সংসদীয় ও প্রশাসনিক পথগুলোও খুঁজে দেখতে হবে।
টেমল জানতেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের। জনগণ তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। তাই নিজের সিদ্ধান্তের দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি ভাবলেন, এত দিন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করলেও সংসদীয় বাজেট, প্রকল্প অনুমোদন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও জানার প্রয়োজন রয়েছে।
সেদিন রাতে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, শুধু দলের মনোনয়ন না পাওয়ার ক্ষোভ নিয়ে বসে থাকবেন না। এলাকার সমস্যাগুলোর তালিকা তৈরি করবেন। কোন রাস্তা আগে মেরামত করা দরকার, কোথায় ব্রিজ প্রয়োজন, কোন স্কুলে কী সমস্যা রয়েছে—সবকিছুর তথ্য সংগ্রহ করবেন।
তারপর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়ম মেনে প্রস্তাব পাঠাবেন এবং অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেবেন।
অধ্যায় নাইন.
নতুন সিদ্ধান্ত
রাত দুইটা পর্যন্ত ছাদে বসে ভাবলেন টেমল। পরদিন কর্মীদের ডেকে পাঠালেন।
সবাই উপস্থিত হলে তিনি বললেন, "শোনেন। রাগ করে স্বতন্ত্র হয়েছি। জনগণ জিতিয়েছে, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু এলাকার উন্নয়নের জন্য দলের সাথে থাকা জরুরি।"
একটু থেমে আবার বললেন, "তাই আগামী নির্বাচনে আমরা আবার দলের মনোনয়ন চাইব। এবার যদি না দেয়, তখন জনগণ আবার সিদ্ধান্ত নিবে। কিন্তু আজ থেকে আমরা দলের শৃঙ্খলা মেনে কাজ করব।"
কর্মীরা সবাই মাথা নাড়ল।
টেমল এবার নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার করলেন। দলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা মানে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে যাওয়া নয়। একইভাবে দলের শৃঙ্খলা মেনে চলার অর্থও অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কখনো কথা না বলা নয়।
তিনি বললেন, "আমরা দলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখব, কিন্তু এলাকার মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ বন্ধ করব না। কোন প্রকল্পের জন্য কত টাকা দরকার, কোথায় কী সমস্যা—সবকিছুর হিসাব রাখব। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠাব।"
জামাল বলল, "নেতা, আমরা আপনার সঙ্গে আছি। এবার আবেগের পাশাপাশি পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করব।"
টেমল বললেন, "মনে রাখবেন, জনগণ আমাদের বিশ্বাস করে ভোট দিয়েছে। সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করাই আমাদের দায়িত্ব।"
কর্মীরা নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করল। এলাকার বিভিন্ন সমস্যার তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হলো। টেমলও সংসদীয় কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পের নিয়ম সম্পর্কে জানার উদ্যোগ নিলেন।
দলের মনোনয়ন নিয়ে ভবিষ্যতে কী হবে, তা তখনও অনিশ্চিত। কিন্তু এলাকার উন্নয়নের কাজ আগামী নির্বাচনের অপেক্ষায় ফেলে রাখবেন না—এই সিদ্ধান্ত তিনি নিয়ে ফেলেছেন।
অধ্যায় টেন.
শিক্ষা
টেমল মিয়ার গল্পটি ধীরে ধীরে পুরো জেলায় ছড়িয়ে পড়ল। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এই অধ্যায় নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হলো।
কেউ বলল, আত্মসম্মানের প্রশ্নে টেমল নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। কেউ মনে করল, দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করার পর মনোনয়ন না পেলে বিকল্প পথ বেছে নেওয়ার অধিকার একজন নেতার রয়েছে। আবার কেউ বলল, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব কতটা কঠিন, তা টেমল বাস্তবে বুঝতে পেরেছেন।
তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে তিনটি শিক্ষা সামনে এল।
প্রথমত, আত্মসম্মানের জন্য প্রতিবাদ করা যায়। দীর্ঘদিনের শ্রম ও অবদান উপেক্ষিত হলে নিজের যোগ্যতার পক্ষে দাঁড়ানোর অধিকার প্রত্যেকের রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধি যে দল থেকেই নির্বাচিত হোন না কেন, এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে হলে পরিকল্পনা, তথ্য, বাজেট এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে হয়। দলীয় সমর্থন সহযোগিতা করতে পারে, কিন্তু উন্নয়নের দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই পালন করতে হয়।
তৃতীয়ত, জনগণই একজন জনপ্রতিনিধির বড় শক্তি। দলীয় মনোনয়ন গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানুষের আস্থা ও ভোট ছাড়া নির্বাচিত হওয়া সম্ভব নয়। সেই আস্থা অর্জনের পাশাপাশি তা ধরে রাখার দায়িত্বও রয়েছে।
টেমল এখন সংসদে বসে এলাকার সমস্যা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। প্রয়োজনীয় প্রকল্পের প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং সংসদে জনগণের দাবি তুলে ধরেন।
দলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা রয়ে গেছে। পরবর্তী নির্বাচনে দল তাঁকে মনোনয়ন দেবে কি না, সেই প্রত্যাশাও রয়েছে। কিন্তু এবার তিনি শুধু অপেক্ষা করে বসে নেই।
তিনি জানেন, মনোনয়ন পাওয়া রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত। আর জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা তাঁর নিজের দায়িত্ব।
পরবর্তী নির্বাচনে কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে টেমল মিয়া এবার বুঝেছেন, রাজনীতি শুধু মনোনয়ন পাওয়া কিংবা সংসদ সদস্য হওয়ার নাম নয়। রাজনীতি মানে মানুষের আস্থা অর্জন করা, তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরা এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সমাধানের চেষ্টা করা। (সমাপ্ত)
©️All Right Reserved by Junayed Ashrafur Rahman
24°33'58.6"N 90°41'30.4"E
My home Location ✒ https://goo.gl/maps/RoKi3ekrhkm5PAHPA , But I don't live here. Rented out to other people.
Nandail Municipality, Mymensingh, Bangladesh.
Junayedmn1@gmail.com
My Writings ✒ https://www.blogger.com/profile/11734624718328723069
702) My success in writing. (লেখালেখিতে আমার সাফল্য।) – Written by Junayed Ashrafur Rahman ✒ https://literatureforalljunayedmn1.blogspot.com/2023/06/702-my-success-in-writing-written-by.html
707)After the fantasy of ministry.(মন্ত্রিত্বের ফ্যান্টাসির পরে।)– Written by Junayed Ashrafur Rahman ✒ https://mytimemyexperiencesjunayedmn1.blogspot.com/2023/06/707after-fantasy-of-ministry-written-by.html
637)Win prizes.(পুরস্কার জিতুন।) - Written by Junayed Ashrafur ✒ https://literatureforalljunayedmn1.blogspot.com/2022/10/637win-prizes-written-by-junayed.html
667)Case against AI ChatGPT. (এআই চ্যাট জিপিটির বিরুদ্ধে মামলা।) – Written by Junayed Ashrafur Rahman ✒ https://lawforjusticejunayedmn1.blogspot.com/2023/02/667case-against-chat-gpt-written-by.html http://ow.ly/Zawy104u7kO
#Intellectualproperty #Literature #Law #Contract #Writing #Wisdom
