846)(Story_,59)Only one man. (মানুষ একটাই।) _ Written by Junayed Ashrafur Rahman

 846)(Story_,59)Only one man. (মানুষ একটাই।) _ Written by Junayed Ashrafur Rahman https://mywritingsjunayedmn1.blogspot.com/2019/12/about-me-junayed-ashrafur-rahman.html ✒ 



🌟 The video of how to translate my writings into your language.(আমার লেখাগুলো যেভাবে আপনার ভাষায় অনুবাদ করে পড়বেন,সেটার ভিডিও।) https://youtube.com/shorts/cB4L80u1IIc?si=jJV-G14OIP_qQeLA 🌟https://www.facebook.com/share/v/1GuWS35Joi/ 


১. নীরবতার রাত


সেদিন সন্ধ্যার পর থেকেই বৃষ্টি হচ্ছিল। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি আরও জোরে নামলো। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেল। কেশি রান্নাঘরে বসে শেষবারের মতো হাঁড়ির ভাতটা দেখছিল। এগারো বছরের কিশান দরজার কাছে বসে বাইরে তাকিয়ে ছিল। এমন সময় বৃষ্টির শব্দের মধ্যে কয়েকজন মানুষের পায়ের শব্দ শোনা গেল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাগের, মাগু আর কাবু উঠানে ঢুকে পড়লো।


তাগের ভেজা জামা থেকে পানি ঝাড়তে ঝাড়তে কেশির সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। “কিস্তির টাকা কই?”


কেশি নিচু গলায় বলল, “এখন দিতে পারলাম না।”


মাগু ঘরের দিকে তাকিয়ে বলল, “টাকা দিতে না পারলে এই বাড়ি আর তোমাদের না।”


কেশি কিছু বললো না। কাবু রান্নাঘরের দিকে গিয়ে হাঁড়ির ঢাকনা তুললো। গরম ভাত দেখে সে হাঁড়িটাকে আঘাত করলো। হাঁড়ি উল্টে গিয়ে গরম ভাত মাটিতে পড়ে কাদার সঙ্গে মিশে গেল। কেশি দ্রুত মাটিতে বসে ভাতগুলো তুলতে শুরু করলো। কিশান সব দেখেও কোনো কথা বললো না। তার চোখের সামনে মায়ের হাত কাদার মধ্যে থেকে ভাত তুলছিল।


তাগের দরজার কাছে এসে বলল, “কালকের মধ্যে ঘর ছাড়বা।”


তিনজন চলে যাওয়ার পরও কিশান দরজার কাছে বসে রইলো। কেশি মাটিতে পড়ে থাকা ভাতের দিকে তাকিয়ে ছিল। কিছুক্ষণ পর কিশান মায়ের হাত ধরে বলল, “থাক মা। আর তুলো না।”


সেই রাতে তাদের ঘরে থাকার মতো পরিবেশ ছিল না। দাবু কিশানকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদের বারান্দায় গেলো। কেশিও কিছুক্ষণ পর সেখানে এসে বসলো। বাইরে তখনও বৃষ্টি হচ্ছিল। দাবু চুপচাপ বসে থাকা কিশানের মাথায় হাত রাখলো।


“দুনিয়ায় দুই দল বাবা। আঘাত করে আর সয়ে যায়। তুমি কোনটা হবা?”



কিশান কোনো উত্তর দিলো না। সে শুধু বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর মনে মনে একটা সিদ্ধান্ত নিলো।


আমি তৃতীয়টা হব।


২. পনেরো বছর পরে


পনেরো বছর পরের শহরটা কিশানের কাছে একেবারেই আলাদা ছিল। এখন তার বয়স ছাব্বিশ। সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সে একটা আইন অফিসে কেরানির কাজ করে। অফিসে সারাদিন ফাইল আসে, মানুষ আসে, অভিযোগ আসে। কিশান নিজের কাজের পাশাপাশি গরিব মানুষের আবেদনও লিখে দেয়। কেউ টাকা দিতে না পারলে সে টাকা চায় না। একদিন এক বৃদ্ধ কাগজ হাতে নিয়ে তার সামনে বসে বলল, “বাবা, টাকাটা এখন দিতে পারবো না।”


কিশান আবেদনটা শেষ করে কাগজটা বৃদ্ধের হাতে দিয়ে বলল, “টাকা লাগবে না। এটা নিয়ে যান।”


বৃদ্ধ কিছুক্ষণ কিশানের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, “তোমার ভালো হোক বাবা।”


কিশান শুধু মাথা নাড়লো। অফিসের অন্যরা এসব দেখে তাকে ভালো কিশান ভাই বলে ডাকতো।


মিশু তখন নতুন সহকর্মী হিসেবে অফিসে কাজ শুরু করেছে। বয়স চব্বিশ। প্রথম কয়েকদিনেই সে লক্ষ্য করলো, কিশান অন্যদের চেয়ে আলাদা ভাবে মানুষের কথা শোনে। একদিন কাজের ফাঁকে মিশু জিজ্ঞেস করলো, “আপনি সকলের আবেদন লিখে দেন কেন?”


কিশান ফাইল গুছাতে গুছাতে বলল, “যার প্রয়োজন, তারটা করে দিই।”


“আপনার লাভ কী?”


“সব কাজের লাভ লাগে না।”


মিশু আর প্রশ্ন করলো না।


সেদিন অফিস খালি হওয়ার পর কিশান টেবিলের নিচ থেকে একটা কালো ডায়েরি বের করলো। ডায়েরির ভেতরে তিনটা ভাগ করা। এক ভাগে এতিম মানুষের জমি দখলকারীদের নাম, আরেক ভাগে নারীকে আঘাত করা পুরুষদের নাম, আরেক ভাগে ক্ষমতার নামে চাঁদাবাজি করা লোকদের নাম। কিশান একটা নামের পাশে ছোট একটা দাগ দিলো। তারপর ডায়েরিটা বন্ধ করে ব্যাগের মধ্যে রেখে দিলো।


৩. সপ্তম নাম


পরদিন দুপুরে মিশু একটা ফাইল নিয়ে কিশানের টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ালো। “এই ফাইলটা একটু দেখবেন?”


কিশান ফাইল খুলে পড়তে শুরু করলো। ফাইলটায় চৌদ্দ বছরের পিশুর কথা লেখা। তার সৎ বাবা রাগুর বিরুদ্ধে অভিযোগ। কিশান পুরোটা পড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। তারপর ফাইলটা বন্ধ করলো।


মিশু জিজ্ঞেস করলো, “কী করবেন?”


কিশান বলল, “কেসটা আদালতে যাবে না।”


মিশু অবাক হয়ে বলল, “তাহলে কোথায় যাবে?”


কিশান কালো ডায়েরিটা বের করে ফাইলের ভেতরের নামটার দিকে তাকালো। “যেখানে গেলে এর আর দরকার হবে না।”


মিশু কিশানের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। “আপনি কী বলতে চাচ্ছেন?”


কিশান ডায়েরিটা বন্ধ করে বলল, “সময় হলে বুঝবা।”


সেদিন রাত একটা নাগাদ কিশান পুরোনো শহরের একটা সরু গলিতে গিয়ে দাঁড়ালো। চারপাশে দোকানের শাটার নামানো। দূরের কয়েকটা জানালায় আলো জ্বলছিল। গলির শেষের বাড়িটার দরজা বন্ধ ছিল। কিশান পকেট থেকে একটা চাবি বের করে দরজা খুললো। ভেতরে বিংকু পাহারায় ছিল। কিশানকে দেখে সে এগিয়ে এলো।


“কে?”


কিশান নিচু গলায় বলল, “চুপ।”


বিংকু আর এগোলো না। কিশান তাকে পাশ কাটিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল। অন্য ঘরে রাগু ঘুমাচ্ছিল। টেবিলের ওপর একটা মদের বোতল পড়ে ছিল। কিশান কাছে গিয়ে কালো ডায়েরিটা বের করলো। খোলা পাতায় রাগুর নাম। ডায়েরিটা রাগুর বুকের ওপর রেখে সে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলো। রাগু চোখ খুলে কিশানের দিকে তাকিয়ে বলল, “তুই কে?”


কিশান কোনো উত্তর দিলো না। প্রায় দশ মিনিট পর সে ঘর থেকে বের হয়ে দরজাটা বন্ধ করে দিলো। তারপর গলির অন্ধকার পেরিয়ে চলে গেলো।


৪. মিশুর সন্দেহ


পরদিন রাগু অফিসে কিংবা কোথাও দেখা গেলো না। মিশু নিজের কাজ করতে করতে বিষয়টা খেয়াল করলো। এর আগেও কয়েকটা ফাইলে একই ঘটনা ঘটেছে। কিশান কোনো একটা ফাইল দেখে ডায়েরিতে নাম লেখে বা দাগ দেয়, তারপর পরদিন সেই মানুষটাকে আর পাওয়া যায় না। সন্দেহটা এবার মিশুর মনে আরও শক্ত হলো।


সেদিন রাতে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে গিয়ে মিশু কিশানকে দেখলো। রাত বারোটার পর কিশান একটা ফাইল হাতে নিয়ে অফিস থেকে বের হচ্ছে। পরদিন সকালে মিশু অপেক্ষা করলো। কিশান টেবিলে বসতেই সে সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।


“আপনি রাতে কোথায় যান?”


কিশান চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে বলল, “চা খান।”


“আমার প্রশ্নের উত্তর দেন।”


কিশান নিজের কাপটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর বলল, “কী জানতে চান?”


“আপনি যে ফাইলে দাগ দেন, তার পরদিন সেই মানুষটা উধাও হয়ে যায় কেন?”


কিশান মিশুর দিকে তাকালো। “আমি যা করি, তা আইন দিয়ে হয় না। তাই আমাকে করতে হয়।”


মিশুর গলা শক্ত হয়ে গেল। “আপনি মানুষকে মেরে ফেলছেন?”


কিশান শান্তভাবে বলল, “না। আমি বিচার করছি। যে বিচার এই শহর করতে পারে না।”


মিশু মাথা নাড়লো। “এটা বিচার না।”


“তোমার কাছে না।”


“আপনি থামবেন?”


কিশান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, “তুমি ভালোর পক্ষে। আমিও। শুধু পদ্ধতি আলাদা।”


মিশু সেদিন আর কোনো কথা বললো না।


৫. পুরোনো হিসাব


কয়েকদিন পর অফিসে নতুন একটা ফাইল এলো। কয়েকজন দরিদ্র মানুষের জমি দখলের চেষ্টা চলছে। মিশু ফাইলটা কিশানের হাতে দিয়ে বলল, “লোকটার নাম ডাঙ্গু।”


নামটা শুনে কিশানের হাত থেমে গেল। তার চোখের সামনে হঠাৎ পনেরো বছর আগের সেই রাতটা ফিরে এলো। বৃষ্টির মধ্যে তাগের, মাগু আর কাবু উঠানে দাঁড়িয়ে আছে। মাটিতে পড়ে থাকা ভাতের পাশে কেশি বসে আছে। মসজিদের বারান্দায় দাবুর হাত তার মাথার ওপর।


মিশু বলল, “চেনেন?”


কিশান ফাইলের দিকে তাকিয়ে বলল, “পুরোনো নাম।”


মিশু আরেকটা ফাইল এগিয়ে দিলো। “এইটা ডাঙ্গুর ছেলে কিংকুর বিরুদ্ধে। মেয়েদের হয়রানির অভিযোগ আছে। পুলিশও কিছু করছে না।”


কিশান দুইটা ফাইল পাশাপাশি রাখলো। কালো ডায়েরিটা খুলে প্রথমে কিংকুর নামের পাশে দাগ দিলো। তারপর ডাঙ্গুর পাতায় গিয়ে থেমে গেলো। কিছুক্ষণ পর ডায়েরি বন্ধ করলো।


সেই রাতে কিশান ডাঙ্গুর বাড়িতে গেলো। উঁচু গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে সে কিংকুর ঘরের সামনে দাঁড়ালো। দরজা খুলতেই কিংকু ঘুরে তাকালো।


“তুই কে?”


কিশান ডায়েরিটা খুলে তার সামনে ধরলো। কিংকু এক পা পিছিয়ে গেলো। কিশান কোনো কথা বললো না। পরদিন সকাল থেকে কিংকুর কোনো সন্ধান পাওয়া গেলো না।


ডাঙ্গুর বাড়ির সামনে লোকজন জড়ো হয়েছিল। মিশু দূর থেকে সব দেখলো। কিশান তখনও স্বাভাবিকভাবে অফিসে যাওয়ার জন্য হাঁটছিল।


৬. ধরপাকড়


কিশানের বিরুদ্ধে সন্দেহ এবার সরাসরি পুলিশের কাছে গেলো। অফিসার গাবু তাকে থানায় নিয়ে ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করলো।


গাবু বলল, “সব ফাইলে আপনার হাতের লেখা কেন?”


কিশান চুপ করে রইলো।


“আপনি রাতে কোথায় যান?”


“বাড়িতে।”


“মিথ্যা বলছেন?”


কিশান গাবুর দিকে তাকিয়ে বলল, “প্রমাণ আছে?”


গাবু কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “আমরা জানি আপনি জড়িত।”


কিশান একইভাবে বলল, “প্রমাণ আছে?”


গাবুর কাছে তখন কোনো প্রমাণ ছিল না। শেষ পর্যন্ত কিশানকে ছেড়ে দিতে হলো।


থানা থেকে বের হওয়ার সময় কিশান বলল, “আমার অফিসে কাজ আছে।”


গাবু তার দিকে তাকিয়ে রইলো। কিশান বাইরে বেরিয়ে গেল। সে বুঝতে পারছিল, পুলিশ তাকে নজরে রেখেছে। তারপরও সে স্বাভাবিকভাবে অফিসে ফিরে গেলো।


৭. মিশুর রাত


মিশুর সন্দেহ তখন আর সন্দেহের মধ্যে ছিল না। এক রাতে সে কিশানকে অনুসরণ করলো। কিশান শহরের ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে একটা বস্তির দিকে চলে গেলো। মিশু দূরে থেকে তাকে অনুসরণ করতে করতে একটা ছোট ঘরের সামনে এসে থামলো।


কিশান দরজায় দাঁড়াতেই একজন লোক বের হয়ে এলো। দুজন কিছুক্ষণ একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইলো। কিশান কোনো কথা না বলে ফিরে গেলো। মিশু দূরে দাঁড়িয়ে সব দেখলো।


পরদিন সকালে সেই লোকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লো।


মিশু কিশানের সামনে এসে দাঁড়ালো। তার চোখে তখন রাগ আর কষ্ট দুটোই ছিল।


“আপনি এটা কেন করছেন?”


কিশান চুপ করে ছিল।


“আইন আছে।”


কিশান ধীরে বলল, “আইন পনেরো বছর আগে আমার মায়ের ভাত বাঁচাতে পারেনি। তাই আমাকে নামতে হয়েছে।”


মিশুর চোখ ভিজে উঠলো। “আপনি থামেন।”


কিশান কিছুক্ষণ মিশুর দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, “থামলে এই শহরের শয়তানরা থামবে?”


মিশু কোনো উত্তর দিতে পারলো না।


৮. শেষ নাম


কিশানের ডায়েরিতে তখন শুধু একটা নাম বাকি। ডাঙ্গু। সে এখন ক্ষমতাবান। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি আর দরিদ্র মানুষকে উচ্ছেদের অভিযোগ জমেছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে তার প্রভাব থাকলেও কিশান জানতো, পনেরো বছর আগের সেই রাতের হিসাবও এখনো শেষ হয়নি।


রাত দুইটার দিকে কিশান ডাঙ্গুর অফিসে গেলো। দরজা খোলা ছিল। ভেতরে ডাঙ্গু একা বসে টাকা গুনছিল। কিশান ঢুকতেই ডাঙ্গু মুখ তুলে তাকালো। কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকার পর তার মুখে একটা অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠলো।


“তুই সেই করিমের পোলা না?”


কিশান চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো।


ডাঙ্গু চেয়ার থেকে উঠে বলল, “ভাত খাওয়াইতে পারি নাই, এখন বিচার করতে আইছস?”


কিশান ধীরে ধীরে কালো ডায়েরিটা বের করলো।


ডাঙ্গুর মুখের হাসি মিলিয়ে গেলো। “করবি কী?”


কিশান ডায়েরির শেষ পাতাটা খুললো। সেখানে শুধু ডাঙ্গুর নাম। কিশান কলম বের করে নামটার ওপর দাগ টেনে দিলো। ডাঙ্গু কয়েক পা পিছিয়ে গেলো।


“কিশান…”


কিশান এবারও কিছু বললো না। ডায়েরি বন্ধ করে সে ঘুরে দরজার দিকে চলে গেলো।


৯. শেষ পরীক্ষা


পরদিন সকালে ডাঙ্গুর অফিস বন্ধ পাওয়া গেলো। পুলিশ এসে অফিস তল্লাশি করলো। ডাঙ্গুর কোনো সন্ধান পাওয়া গেলো না। খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই গাবু আবার কিশানকে থানায় ডাকলো।


গাবু বলল, “শেষবার ডাঙ্গুর সঙ্গে আপনাকে দেখা গেছে।”


কিশান বলল, “আমি ফাইল জমা দিতে গিয়েছিলাম।”


“তারপর?”


“তারপর চলে এসেছি।”


“ডাঙ্গুর কী হয়েছে?”


“জানি না।”


গাবু কিশানের দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনার ডায়েরিটা দেখান।”


কিশান কালো ডায়েরিটা টেবিলে রাখলো। গাবু ডায়েরি খুলে একের পর এক পাতা দেখলো। অনেক নামের পাশে দাগ। কিন্তু শেষ পাতায় কোনো নাম নেই। ডাঙ্গুর নামও সেখানে নেই।


গাবু ডায়েরি বন্ধ করে বলল, “আপনি যেতে পারেন।”


কিশান ডায়েরিটা হাতে তুলে নিলো। বাইরে বের হওয়ার সময় মিশুকে দেখতে পেলো। মিশু কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, “সব শেষ?”


কিশান বলল, “কী শেষ?”


মিশু কোনো উত্তর দিলো না।


১০. মানুষ একটাই


পরের এক মাসে শহরের অনেক কিছু বদলে গেলো। ক্ষমতার নামে চাঁদাবাজির ঘটনা কমে গেলো। দরিদ্র মানুষের জমি দখলের চেষ্টা আগের মতো দেখা গেলো না। রাতের রাস্তায় মেয়েদের চলাচলও কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এলো। কিন্তু এই পরিবর্তনের কারণ কেউ জানলো না। মানুষ শুধু নিজেদের মধ্যে নানা কথা বললো।


কিশান meanwhile আগের মতোই অফিসে কাজ করতে থাকলো। সকালে একজন বৃদ্ধা আবেদন নিয়ে এলে সে তাকে বসিয়ে কাগজ লিখে দিলো। দুপুরে একজন দরিদ্র মানুষ টাকা না থাকায় চিন্তিত হয়ে বসে থাকলে কিশান নিজের পকেট থেকে প্রয়োজনীয় টাকা দিয়ে তার কাগজ তৈরি করে দিলো। বিকেলে অফিস থেকে বের হওয়ার সময় রাস্তা পার হতে না পারা এক বৃদ্ধাকে কিশান নিজে রাস্তা পার করে দিলো।


মিশু দূর থেকে এসব দেখতো। একদিন অফিস ছুটির পর সে কিশানের সামনে দাঁড়িয়ে বলল, “আপনি ভালো মানুষ। কিন্তু আপনার পদ্ধতি ভুল।”


কিশান ব্যাগ কাঁধে তুলে বলল, “হতে পারে। কিন্তু কাজ হয়েছে।”


মিশু কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে চলে গেলো।


রাত অনেক হলে কিশান নিজের বাড়ির ছাদে এসে বসলো। শহরের দূরের আলো তখনও জ্বলছিল। তার হাতে সেই কালো ডায়েরি। ডায়েরির সব নাম শেষ। কোনো নতুন নাম লেখা নেই। কিশান ডায়েরির শেষ পাতাটা খুলে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলো। তারপর কলমটা হাতে নিলো, কিন্তু কিছু লিখলো না।


সে ডায়েরিটা বন্ধ করে পাশে রাখলো। তার জীবনে ভালো কাজ করার জন্য আলাদা কোনো মানুষ নেই, আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্যও আলাদা কোনো মানুষ নেই। দিনের কিশান আর রাতের কিশান একই মানুষ। যে মানুষটা সকালে অসহায় মানুষের আবেদন লিখে দেয়, সেই মানুষটাই অন্যায়ের সামনে নিজের মতো করে দাঁড়ায়। তার পরিচয় বদলায় না, নাম বদলায় না, ব্যক্তিত্ব বদলায় না।


শহর হয়তো কোনোদিন জানবে না, অনেক রাতের অন্ধকারে কিশান কোথায় যেত। কিন্তু কিশানের নিজের কাছে বিষয়টা পরিষ্কার। সে অন্য কেউ না। সে কিশান। মানুষ একটাই।


কিশান ছাদ থেকে উঠে দাঁড়ালো। কালো ডায়েরিটা ব্যাগে রাখলো। তারপর ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে গেলো।


(সমাপ্ত)

Popular posts from this blog

838) (Story_52) One day for the police inspector. (দারোগার একদিন।) _ Written by Junayed Ashrafur Rahman

839) (Story_53) Under the guise of fighting corruption. (দুর্নীতি দমনের আড়ালে।) _ Written by Junayed Ashrafur Rahman

583)(Story-26-19)Militant bases. (জঙ্গি ঘাঁটি।) - Written by Junayed Ashrafur Rahman ✒