844)(Story_57) Rehabilitation of the Banned Party. (নিষিদ্ধ দলের পুনর্বাসন।) _ Written by Junayed Ashrafur Rahman

 844)(Story_57) Rehabilitation of the Banned Party. (নিষিদ্ধ দলের পুনর্বাসন।) _ Written by Junayed Ashrafur Rahman https://mywritingsjunayedmn1.blogspot.com/2019/12/about-me-junayed-ashrafur-rahman.html ✒ 


এই গল্পের পিডিএফ লিংক




(বিরোধী দলের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে নিষিদ্ধ দলকে রাজনীতি করার অনুমতি দিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।)


🌟 The video of how to translate my writings into your language.(আমার লেখাগুলো যেভাবে আপনার ভাষায় অনুবাদ করে পড়বেন,সেটার ভিডিও।) https://youtube.com/shorts/cB4L80u1IIc?si=jJV-G14OIP_qQeLA 🌟https://www.facebook.com/share/v/1GuWS35Joi/


অনেকদিন যাবৎ প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিরোধীদলের প্রধানের কোনো ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ নাই। সরকারি দলের প্রধান আবার দেশের প্রধানমন্ত্রীও। সংসদে যাওয়ার পর দূর থেকে একজন অন্যজনকে আড় চোখে একটু দেখেন। বিরোধী দলের প্রধান কথা বলার চেষ্টা করেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেটা হতে দেননা। এভাবে অতিবাহিত হয়েছে কয়েকটা বছর।


তাই অনেক লবিং করেছেন বিরোধী দলের প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে একটা ব্যক্তিগত সাক্ষাতের আয়োজন করতে পেরেছেন।


বিরোধী দলের প্রধানকে প্রধানমন্ত্রী বললেন,"আপনি কি ভালো আছেন?"


বিরোধী দলের প্রধান বললেন,"হ্যাঁ, আমি ভালো তো আছিই। কিন্তু যতটুকু ভালো থাকার আশায় আপনার সাথে মিলেমিশে অতীতে আমরা আন্দোলন করেছিলাম, সেরকম ভালো নই।"


প্রধানমন্ত্রী বললেন,"আমরা একসাথে মিলেমিশে আন্দোলন করেছিলাম সত্য। কিন্তু নির্বাচনে জনগণের ভোটের মাধ্যমে আপনারা হয়েছেন বিরোধী দল এবং আমরা হয়েছি সরকারি দল। এরমধ্যে ভালো না থাকার কী আছে?"


বিরোধী দলের প্রধান বললেন,"আমরা যদি আপনাদের সাথে মিলেমিশে আন্দোলন না করতাম,তাহলে আপনারা এককভাবে সরকার গঠনের সুযোগ কখনই পেতেননা।"


প্রধানমন্ত্রী বললেন,"আপনার এই কথাটা আংশিক সত্য হয়তো হতে পারে। কিন্তু পুরোপুরি সত্যনা। এমনকি পুরোপুরি সত্য হলেও বর্তমানে এই কথার কোনো গুরুত্ব নাই।"


বিরোধী দলের প্রধান বললেন,"কেন গুরুত্ব নাই?"


প্রধানমন্ত্রী বললেন,"বর্তমানে আপনারা আমাদের বিরোধী দল। তাই আপনার ওই কথার গুরুত্ব বর্তমানে নাই।"


বিরোধী দলের প্রধান বললেন,"আর এখন আপনি আমাদের দিকে আড়চোখে তাকান। এই বিষয়টা আমাদের প্রতি আপনার অবহেলার করণেই হয়।"


প্রধানমন্ত্রী বললেন,"আর আপনাদেরকে আমি আড়চোখে দেখি বিশেষ কারণে। যত কিছুই বলেন, বর্তমানে আপনারা জাতীয় সংসদে বিরোধী দল ছাড়া কিছুইনা। বর্তমানে যদি আগের মতো আপনাদের সাথে কথা বলি অথবা আড়চোখে না তাকাই, তখন বিষয়টা বিরোধী দলের মতো থাকেনা।"


বিরোধী দলের প্রধান বললেন,"আপনাদের সাথে মিলেমিশে আমরা আন্দোলন করে ছিলাম। এর বিনিময়ে আপনার উচিত ছিলো আমাদেরকে অতিরিক্ত কিছু সুযোগ সুবিধা দেওয়ার।"


প্রধানমন্ত্রী বললেন,"আপনারা বিরোধী দল হয়েছেন। বিরোধী দল হিসেবে যেমন সুযোগ সুবিধা পাওয়া উচিত,তেমন সুযোগ সুবিধাই আপনারা পাবেন।"


বিরোধী দলের প্রধান বললেন,"ভুল আমাদেরই হয়েছে।আমাদের উচিত ছিলো আপনাদের সাথে মিলেমিশে আন্দোলন না করার।তবে মনে রাখবেন,অতীতে যেভাবে আগের সরকারের পতন ঘটিয়েছি, তেমনি আপনার প্রধানমন্ত্রীর গদিও নাড়িয়ে দিবো। আমাদেরকে আপনি কী মনে করেছেন?"একথা বলে বিরোধী দলের প্রধান চলে গেলেন।


এই পরিস্থিতিতে একটা মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে গভমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন মন্ত্রী এবং দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সমন্বয়ে।


আগে থেকে এই মিটিংয়ের কথা কেউই জানতেননা। হঠাৎ করে এই মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। মাত্র দশ মিনিট আগে আমন্ত্রিত সকলের মোবাইল ফোনে একটা করে এসএমএস এসেছে,"জরুরি মিটিং আছে। দশ মিনিটের মধ্যেই চলে আসুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।"


এই এসএমএস পেয়ে আমন্ত্রিত সকলেই বুঝতে পেরেছেন যে, আজকের এই মিটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যে যাঁর (যিনির)কাজ ফেলে রেখেই চলে এসেছেন এই মিটিংয়ে।

এসে সকলেই চিন্তিত অবস্থায় আছেন যে, হয়তো কোনো বিপজ্জনক বিষয়ে এই জরুরি মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে।


অবশেষে প্রধানমন্ত্রী আলোচনা শুরু করলেন,"যে আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বিরোধী দলের সাথে সমঝোতা মূলক রাজনীতি শুরু করেছিলাম, সেটা হলোনা।বরং কারণে অকারণে ওরা আমাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতেছে, বিনা ইস্যুতে আমাদের বিরুদ্ধে সমস্যা তৈরি করতেছে। একসাথে আন্দোলন করার সময় ওদের আচরণ ছিলো আমাদের পক্ষে, কিন্তু বর্তমানে ওদের আচরণ একেবারে চরম শত্রুর মতো।এভাবে বিরোধী দল আমাদেরকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এদের যন্ত্রণায় সরকার চালানো দুরূহ হয়েছে। তাই এখন সময় হয়েছে, ওই নিষিদ্ধ দলটার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার। এবং তাদেরকে আবার রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়ার।"


একথা শোনে একজন সিনিয়র মন্ত্রী বললেন,"আমি আপনার সাথে পুরোপুরি সহমত। ইদানিং দেখতেছি, বিরোধী দলের লোকজন আমাদের সাথে যুদ্ধেংদেহী আচরণ করতেছে।"


অন্য একজন সিনিয়র মন্ত্রী বললেন,"বিরোধী দল হিসেবে তাঁদের (তিনিদের) একটা ভূমিকা আছে। কিন্তু তাঁদের যুদ্ধেংদেহী আচরণ কখনই মেনে নেবোনা। আমরা সংসদের রাজনীতি করি, আমরা কখনই যুদ্ধে অবতীর্ণ নই। যদি যুদ্ধে অবতীর্ণ হতাম, তাহলে তাঁদের যুদ্ধেংদেহী মনোভাব মেনে নিতে পারতাম।"


একজন প্রতিমন্ত্রী বললেন,"বিরোধী দল বর্তমানে অতিরিক্ত প্রশ্রয় পেয়েছে, আমাদেরকে যেভাবে পারতেছে, সেভাবেই অপমান অপদস্থ করতেছে। এরকম পরিস্থিতিতে বিরোধী দলকে দমন করার জন্য আমাদের দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।"


এরপর প্রধানমন্ত্রী বললেন,"তাহলে এটাই সিদ্ধান্ত হলো যে, ওই নিষিদ্ধ দলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং তাঁদেরকে পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে।"


এরপর নিষিদ্ধ দলের প্রধানকে ফোন করলেন প্রধানমন্ত্রী,"আপনারা তো অনেক দিন যাবৎ নিষিদ্ধ হয়ে আছেন। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য কোনো তৎপরতা প্রদর্শন করতেছেননা। আপনারা কি রাজনীতি ছেড়েই দেবেন?"


নিষিদ্ধ দলের প্রধান বললেন,"সেটা কীভাবে করবো? আমাদেরকে আপনারা অনেক চাপের মধ্যে রেখেছেন, এই করণে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য তৎপর হতে পারতেছিনা।"


প্রধানমন্ত্রী বললেন,"আপনাদেরকে আমরা চাপের মধ্যে রেখেছি, বিষয়টা কিছুটা হলেও সত্য। কিন্তু আপনারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন আমাদেরকে আপনারা অনেক বেশি চাপের মধ্যে রেখেছিলেন। সেই তুলনায় বর্তমানে আপনাদেরকে আমরা তেমন চাপে রাখিনি। বিশেষ কারণে আপনাদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি।"


নিষিদ্ধ দলের প্রধান বললেন,"আমরাও তো চাচ্ছি যে, আমাদের উপর থেকে আপনারা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। কিন্তু হঠাৎ করে আন্দোলন ছাড়াই আমাদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে চাচ্ছেন কেন?"


প্রধানমন্ত্রী বললেন,"আপনারা তো অনেক দিন যাবৎ নিষিদ্ধ হয়ে আছেন। অথচ এক সময়ে আপনারাই সরকারে ছিলেন, আমরা আপনাদের বিরোধী দল ছিলাম। তখন যাদেরকে নিয়ে আপনাদের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করেছিলাম, ওরাই বর্তমানে আমাদের শত্রুতে পরিণত হয়েছে। এদের যন্ত্রণায় আমরা বর্তমানে অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছি। বর্তমানে ওদের চাইতে আপনারাই আমাদের বিরোধী দল হিসেবে থাকলে অনেক ভালো হবে। এমনকি গোপনসূত্রে আমি জেনেছি যে, আপনাদের দলের অনেক নেতাকর্মী বর্তমান বিরোধী দলে যোগদান করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আপনাদের দলের নিষেধাজ্ঞা আমরা তুলে নেবো এবং আপনাদেরকে আবার দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেবো। আপনারা দেশের রাজনীতিতে নেমে ওদের অবস্থানটা দখল করে নেবেন এবং প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হবেন।"


নিষিদ্ধ দলের প্রধান বললেন,"এর মানে এই কথা বলতে চাচ্ছেন যে, আপনাদের স্বার্থে আমাদের দলকে নিষিদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু এখন আপনাদের স্বার্থেই আমাদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার কথা বলতেছেন।"


প্রধানমন্ত্রী বললেন,"এটাই তো রাজনীতি। বর্তমানের বিরোধী দলের উৎপাতে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছি। তাই আপনাদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছি। অথচ অতীতে আপনারাই আমাদেরকে রাজনৈতিকভাবে অনেক অসুবিধার মধ্যে রেখেছিলেন। অতীতের ওই বিষয়ের চেয়ে বর্তমানের পরিস্থিতি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই আপনাদের উপর থেকে আমরা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছি। আজ থেকেই আপনারা রাজনীতিতে সক্রিয় হোন। যত ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন, আপনাদেরকে আমরা সহযোগিতা করবো।"


এরপর প্রধানমন্ত্রী কথা শেষ করলেন।

উপস্থিত মন্ত্রীদেরকে প্রধানমন্ত্রী বললেন,"আপাতত ওদেরকে আমি রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছি। পরবর্তীতে কী করতে হবে, সেটা আমিই করবো।"


প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলা শেষ হওয়া মাত্রই   নিষিদ্ধ দলের প্রধান যোগাযোগ করলেন নিজের দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে।


নিষিদ্ধ দলের প্রধান বললেন,"আমি তো বলেছিলম, একটু দেরিতে হলেও বর্তমান সরকারি দল আমাদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। এছাড়া তো কোনো উপায় তাদের থাকবেনা। আমি এই সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিলাম। কিছুক্ষণ আগে আমাকে প্রধানমন্ত্রী ফোন করেছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবেন। এটা আমাদের জন্য একটা সুবর্ণ সুযোগ। তাই দেরি না করে আজই দলের লোকদেরকে সংবাদটা জানিয়ে দাও। এবং সকলকে সুসংগঠিত করতে থাকো, সরকারি দল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া মাত্রই আন্দোলনে নেমে পড়তে হবে।সেই আন্দোলনটা আমাদেরকে করতে হবে সরকারি দলের বিরুদ্ধেই।"


শীর্ষ এক নেতা বললেন,"স্যার, সরকারি দল আমাদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে। আমাদের উচিত সরকারি দলকে সহযোগিতা করার। অথচ আপনি বলতেছেন সরকারি দলের বিরুদ্ধেই আন্দোলন করার জন্য।"


নিষিদ্ধ দলের প্রধান বললেন,"এটাই রাজনীতি। সময়ের কারণে উপকারীর বিরুদ্ধে তুমি আন্দোলন করবা,আবার সময়ের প্রয়োজনে শত্রুর সাথে হাত মিলিয়ে আন্দোলন করবে। বর্তমানে যদিও সরকারি আমাদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে যাচ্ছে, তা সত্ত্বেও সময়ের প্রয়োজনে সরকরি দলের বিরুদ্ধেই আমাদেরকে আন্দোলন করতে হবে।"


এরপর নিষিদ্ধ দলের প্রধান ফোন করলেন বিরোধী দলের প্রধানকে,"আমাদের বৈদেশিক কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে সরকারি দল বাধ্য হয়েছে আমাদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেই আমরা জোটবদ্ধ হয়ে সরকারি দলের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করবো।"


বিরোধী দলের প্রধান বললেন,"এটা আপনাদের যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। সরকারি দলের একতরফা রাজনীতির কারণে দেশের গণতন্ত্র বর্তমানে সংকীর্ণ হয়ে আসতেছে। তাই সরকারি দলের একতরফা রাজনীতি প্রতিরোধ করার জন্য আমাদেরকে জোটবদ্ধ হওয়া অত্যাবশ্যক।"


নিষিদ্ধ দলের প্রধান বললেন,"এরজন্য অবশ্যই অনেক টাকা খরচ করতে হবে। আমরা সরকার পরিচালনার সময় অনেক টাকা জমিয়েছি। আপনারাও নতুন সরকারের কাছ থেকে অনেক টাকা ও সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন। এখন আপনারা এবং আমরা আমাদের জমানো টাকার দ্বারা বর্তমান সরকারি দলের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলবো। সময়ের প্রয়োজনে আমাদেরকে এখন এটাই করতে হবে।"


বিরোধী দলের প্রধান বললেন,"হ্যাঁ,আমি আপনার সাথে সহমত। সাধারণ জনগণ নগদ টাকা না পেলে জোরদার আন্দোলন করতে চাইবেনা। তাই তাদেরকে আমাদের আন্দোলনে যুক্ত করার জন্য টাকা খরচ করতেই হবে। তাছাড়া আমাদের দলীয় লোকদেরকেও খরচের টাকা দিতে হবে।"


নিষিদ্ধ দলের প্রধান বললেন,"আমাদের দলের যত দাতা নেতা আছেন, তাঁদেরকে আমি নির্দেশ দিয়ে দিচ্ছি যে, দলীয় ফান্ডে বেশি করে টাকা জমা দেওয়ার জন্য। এরপর শুরু হবে আমাদের জোরদার আন্দোলন।"


এরপর যথারীতি সেটাই করা শুরু হলো। গ্রাম থেকে শহর, ডিস্ট্রিক্ট থেকে রাজধানীসহ সকল ক্ষেত্রে চলতে লাগলো প্রস্তুতি।


এরই মধ্যে সংসদের সিদ্ধান্তে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে নিষিদ্ধ দলের পুনর্বাসন করা হলো। অর্থাৎ নিষিদ্ধ দল আবার রাজনীতি করার সুযোগ পেলো। নিষিদ্ধ দলকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করার পর সারা দেশে উৎসব হয়েছিলো। তেমনি এখন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কারণে সারা দেশে আরেকটা উৎসব হলো। এরপর সেই দলের রাজনৈতিক অফিসও খোলা হলো। নিষিদ্ধ দল এখন হলো সাবেক সরকারি দল।


সাবেক সরকারি দলের অফিসে বসে বর্তমানের বিরোধী দলের নেতা বললেন,"একটা সময় আমরা পরস্পরের বিরোধী ছিলাম। কিন্তু বর্তমানে আমরা একে অপরের সহযোগী দলে পরিণত হয়েছি।"


বর্তমান বিরোধী দলের নেতা বললেন,"এসবই হয়েছে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে। তো আপনাদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন তো জোরদার আন্দোলন করা দরকার।"


সাবেক সরকারি দলের নেতা বললেন,"হ্যাঁ, এখন সময় হয়েছে জোরদার আন্দোলন করার। আমরা এবং আপনারা এখন জোটবদ্ধ হয়ে জোরদার আন্দোলন করবো।"


এরপর হঠাৎ করেই সাবেক সরকারি দল ও বর্তমান বিরোধী দল জোটবদ্ধ হয়ে জোরদার আন্দোলন শুরু করলো। প্রথমে মিছিল_মিটিং, এরপর হরতাল অবশেষে দেশজুড়ে সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হলো।


এরই মধ্যে সাবেক সরকারি দলের নেতাকে বর্তমান সরকারি দলের শীর্ষ এক নেতা বললেন,"আপনাদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে বর্তমান বিরোধী দলকে দমন করে আপনারা বিরোধী দল হওয়ার জন্য। অথচ আপনারা এখন বর্তমান বিরোধী দলের সাথে মাত্রাতিরিক্ত মাখামাখির সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এর জন্য আপনাদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়নি। তাছাড়া সারাদেশে আপনারা আন্দোলনের নাম করে যে সহিংস অপতৎপরতা করতেছেন, সেটা করার জন্যও আপনাদেরকে আমরা নতুন করে রাজনীতি করার সুযোগ দিইনি।"


সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা বললেন,"আমরা তো আন্দোলন ও রাজনীতির স্বার্থে বর্তমান বিরোধী দলের সাথে জোটবদ্ধ হয়েছি। দেশ অথবা দেশের মানুষের ক্ষতি করার জন্য আন্দোলন করতেছিনা।"


সরকারি দলের শীর্ষ নেতা বললেন,"আপনারা দেশ অথবা দেশের মানুষের ক্ষতি করতেছেন কি না? আপনাকে আমি সেটা জিজ্ঞেস করিনি। বরং আমি আপনাকে বলতে চাচ্ছি যে, আপনারা এককভাবে আন্দোলন করবেন। কোনো দলের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে অথবা আঁতাত করে আপনারা আন্দোলন করবেননা। মূলত এজন্যই আপনাদের উপর থেকে আমরা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছি।"


সাবেক সরকারি দলের নেতা বললেন,"দেশজুড়ে নতুন করে একটা দলের কার্যক্রম শুরু করতে হলে অনেক আয়োজন প্রয়োজন। তাই এই কারণেই বর্তমান বিরোধী দলের সাথে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।"


সরকারি দলের শীর্ষ নেতা বললেন,"তাহলে কি আপনারা ওদের সাথেই জোটবদ্ধ হয়ে রাজধানী করবেন?"


সাবেক সরকারি দলের নেতা বললেন,"আপাতত তাদের সাথে জোটবদ্ধ হয়েই আমরা আন্দোলন করবো।"


সরকারি দলের শীর্ষ নেতা বললেন,"না, এরকম কোনো উদ্দেশ্যে আপনাদেরকে আমরা রাজনীতি করার সুযোগ দিইনি। আমাদের উদ্দেশ্য সফল হতে হলে আপনাদেরকে এককভাবেই আন্দোলন করতে হবে।"


সাবেক সরকারি দলের নেতা বললেন,"যদি আমরা এককভাবে আন্দোলন না করি,তাহলে কী হবে?"


সরকারি দলের শীর্ষ নেতা বললেন,"তাহলে আপনাদেরকে আবার নিষিদ্ধ করা হবে‌।এতোদিন আপনাদের দলের অনেক নেতা এতো দিন পলাতক ছিলেন। আপনাদের দলের উপর থেকে আমরা সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছি। এই কারণে পলাতক নেতারা আবার প্রকাশ্যে এসেছেন। এখন যদি আমাদের কথামতো আপনারা আন্দোলন না করেন, তাহলে আপনাদের নতুন করে প্রকাশ্যে আসা ওই নেতাদেরকে আমরা গ্ৰেফতার করাবো।"


একথা শোনার পর সাবেক সরকারি দলের নেতা বুঝতে পারলেন, অবস্থা অনেক জটিল হয়েছে। তাই তিনি বললেন,"আচ্ছা, আপনাদের এই কথা আমরা বিবেচনা করে দেখবো।"


সরকারি দলের শীর্ষ নেতা বললেন,"বিবেচনা করার জন্য আপনাদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়নি। বরং আমাদের কথামতো আন্দোলন করার জন্যই আপনাদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। তাই আপনাদের ওই নেতাদের গ্ৰেফতার এড়াতে হলে অবশ্যই আমাদের কথামতো আপনাদের আন্দোলন করতে হবে।"


সাবেক সরকারি দলের নেতা বললেন,"আচ্ছা, আমরা এককভাবেই আন্দোলন করবো।"


এরপর শুরু হলো এককভাবে আন্দোলন। বর্তমান বিরোধী দল আর সাবেক সরকারি দলের মধ্যে একের পর এক সংঘর্ষ হতেই লাগলো। শহর থেকে গ্ৰামে বর্তমান বিরোধী দলের জনসমর্থন কমতে লাগলো। একটা পর্যায়ে এসে বর্তমান বিরোধী দলের জনসমর্থন একেবারেই কমে গেলো। বর্তমান বিরোধী দলের শুধু সংসদ সদস্যরাই থাকলেন সংসদে কথা বলার জন্য। কিন্তু সংসদের বাইরে গ্ৰামে-গঞ্জে এবং প্রান্তিক অঞ্চলে বর্তমান বিরোধী দলের তেমন প্রভাব প্রতিপত্তি রইলোনা। বর্তমান বিরোধী দল শুধু সংসদেই কথা বলেন, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে সাবেক সরকারি দলই কাজে কর্মে বর্তমান বিরোধী দলে পরিণত হয়েছে। বর্তমান বিরোধী দলও বুঝতে পেরেছেন, তাঁরা (তিনিরা) শুধু সংসদেই বিরোধী দল, সংসদের বাইরে শক্তিশালী কোনো বিরোধী দল না। সদ্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া সাবেক সরকারি দলই এখন কাজেকর্মে বিরোধী দল। তাই বর্তমান বিরোধী দল মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় না হয়ে শুধু সংসদেই সক্রিয় আছে।


অন্যদিকে সাবেক সরকারি দল মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি দখল করে খুবই আনন্দে আছে। বর্তমান বিরোধী দলের উৎপাত বন্ধ হয়েছে। কিন্তু সাবেক সরকারি দলকেও বর্তমান সরকারি দল তেমন সুবিধা দিচ্ছেনা। আবার বর্তমান সরকারি দল ব্যস্ত হয়েছে পরবর্তী নির্বাচনে আবার ক্ষমতা গ্ৰহণ করার জন্য।

তাই সরকারি দলের পাশাপাশি সাবেক সরকারি দল এবং বর্তমান বিরোধী দলও পরবর্তী নির্বাচনের জন্য অপেক্ষায় আছে।(সমাপ্ত।)

Popular posts from this blog

821)(Story_50) Bairam Khan. (বৈরাম খাঁ।) _ Written by Junayed Ashrafur Rahman

838) (Story_52) One day for the police inspector. (দারোগার একদিন।) _ Written by Junayed Ashrafur Rahman

583)(Story-26-19)Militant bases. (জঙ্গি ঘাঁটি।) - Written by Junayed Ashrafur Rahman ✒